টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মক্কায় ভয়াবহ বিপর্যয়, পদদলিত হয়ে ৭১৭ হাজির মৃত্যু

পবিত্র হজব্রত পালনকালে সৌদি আরবের মক্কায় পদদলিত হয়ে অন্তত ৭১৭ হাজি নিহত এবং ৮৬৩ জন আহত হয়েছেন।

মক্কার অদূরে মিনায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সৌদি আরবের আল আরাবিয়া টিভি।

হজের শেষ আনুষ্ঠানিকতা মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

জরুরি বিভাগের কর্মীরা জানান, তারা অন্য হাজিদের পথ দেখিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন। আশেপাশের হাসপাতালগুলো জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি জানান, এ বিপর্যয় মোকাবিলায় ৪,০০০ শ্রমিক এবং ২২০টি অ্যাম্বুলেস মোতায়েন করা হয়েছে।

সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়) মিনার ২০৪ এবং ২২৩ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হাজিরা জামারাত ব্রিজ নামে পরিচিতি পিলারটিকে ঘিরে রাখা ৫ তলা একটি কাঠামোর দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পিলারটির দিকে আকস্মিকভাবে হাজিদের সংখ্যা বেড়ে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

‘এতে হাজিদের মধ্যে পদদলনের ঘটনা ঘটে এবং তাদের অনেকে চাপা পড়েন,’ যোগ করা হয় বিবৃতিতে।

এরপর ওই এলাকামুখী স্রোত ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তারক্ষী এবং সৌদি রেড ক্রিসেন্টকে মোতায়েন করা হয়। পরে অবশ্য পাথর মারার পর্ব আবার চালু হয়।

সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আল-ফালিহ বলেছেন, হাজিরা নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অপেশাদারি ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে দেখা যায় হাজিদের সাদা পোশাক পরা বহু লাশ পড়ে আছে।

হাজিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ না করে সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৩ জন ইরানি নাগরিক ।

হতাহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কি না- তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ।

তিনি বলেন, ‘খবর পেয়েই আমরা লোক পাঠিয়েছি। কোনো তথ্য এখনো আমরা পাইনি।’

মিনার এ স্থানে হজের সময় প্রাণহানীর ঘটনা নতুন নয়। ঊনিশ’ আশি ও নব্বইয়ের দশকে এখানে শত শত হাজি মারা গেছেন।

নিকট অতীতে হজ মৌসুমে সবচেয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে ১৯৯০ সালের ২ জুলাই। ওই ঘটনায় একটি সুড়ঙ্গে পদদলিত হয়ে ১৪২৬ জনের মৃত্যু হয়।

২০০৬ সালে এখানে পদদলিত হয়ে মারা যান ৩৬৩ জন।

হজ পালনের জন্য মক্কায় এখন ২০ থেকে ৩০ লাখ লোক অবস্থান করছেন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর মক্কার মসজিদ আল-হারামে একটি বড় ক্রেন ভেঙে অন্তত ১১১ হজযাত্রী নিহত এবং ৩৯০ জন আহত হন। এ ঘটনায় সৌদি সরকার সমালোচনা মুখে রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত