টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানবপাচারের ডন রেবি ম্যাডাম ভাইসহ গ্রেফতার!

Rebi Madum_1ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
মানবপাচারে জেলার শীর্ষস্থানীয় ডন রেজিয়া আকতার রেবি প্রকাশ রেবি ম্যাডাম ও তার ভাই আরেক শীর্ষ মানবপাচারকারী জালাল আহমদসহ ফের গ্রেফতার হয়েছেন।
বুধবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে কোন জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউই তাদের গ্রেফতারে বিষয়ে মুখ খোলেনি। এমনকি কারা তাদের গ্রেফতার করেছেন তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় একটি সুত্র তাদের গ্রেফতারের খবর জানিয়ে বলেন, এই শীর্ষস্থানীয় দুই মানবপাচারীকে ইয়াবাসহ চকরিয়ায় একটি বাস থেকে গ্রেফতার করে ‘সাদা পোষাকধারী’ পুলিশ।
ওই সুত্রটি জানায়, গ্রেফতারের সময় তারা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা যাচ্ছিল বলে গ্রেফতারকারী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানায়।
বিষয়টি এলাকায় ‘টক অপ দ্যা নিউজ’ এ পরিণত হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের খবর এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, সম্প্রতি র‌্যাবী ম্যাডাম উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসে। এরপর থেকে তিনিসহ তার বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠে। হুমকি ধমকি দিতে থাকে মানবপাচার বিরোধী লোকদের। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে মারধরও করেছে মানবপাচারের শীর্ষ এই সম্রাজ্ঞি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে ম্যাডামের নেতৃত্বে তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী সোনারপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রেবী ম্যাডাম, স্বামী নুরুল কবির, ভাই জালাল আহমদ এবং ছেলে রেজাউল করিম জুয়েল পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর নীল ছোবল থেকে প্রতিবাদী কোন ব্যক্তি রেহায় পাচ্ছেনা। হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
২০১৪ সালের ১৮ জুলাই সোনারপাড়া বাজারে মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির মাবনবন্ধনের পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়ায় রেবি ও তার স্বামী নুরুল কবির মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারী আবদুল হামিদকে জানে মেরে ফেলার ও বিভিন্ন মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়।
এর দুইদিন পরই ম্যাডামের মেয়ে শারমিন নূরী পাপিয়াকে ভিকটিম সাজিয়ে আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।২৩ নভেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ জানুয়ারী জামিনে মুক্তি তিনি পান। কিন্তু রেবী ম্যাডাম সেই দিনও জামিন পেয়ে তার ছেলেসহ একাধিক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে আব্দুল হামিদের দোকানে হামলা করে তাকে মারাত্নক আহত করে।
র‌্যাবি বাহিনীর এমন আচরণে খোদ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়।
এসব কারণে ম্যাডাম রেবি ২১ জানুয়ারী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ফের গ্রেপ্তার হন।
কিন্তু তার অবৈধ টাকার গরম হাওয়ায় বেশিদিন জেলে থাকতে হয়নি তাকে।
১০ ফেব্রুয়ারী আবার জামিনে বের হয়ে আসে দাপুটে এই ম্যাডাম। আবারো শুরু করে তার পুরনো সেই কুকীর্তি। মানবপাচার বিরোধী লোকজনের ঘরবাড়ীতে গিয়ে আক্রমণ শুরু করে রেবির লালিত বাহিনী। এর পর থেকে প্রশাসন তাকে আবার খোঁজতে শুরু করে।
রেবি ম্যাডাম উখিয়ার সোনারপাড়া গ্রামের আরেক গডফাদার নুরুল কবিরের স্ত্রী। মানবপাচারের মামলায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দীর্ঘদিন কারান্তরীন ছিল।
রেবির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত