টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বন্দরনগরীতে জমজমাট গরুর হাট

Rangunia-cow-picচট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস): কোরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র তিন দিন। এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর আটটি পশুর হাট এখন জমজমাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে হাটগুলো। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে গরু-ছাগল বেচাকেনা। 

নগরীতে এবার পর্যাপ্ত গরু এসেছে। দাম এবার ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য বারের চেয়ে দাম অনেকটা কম বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা।

ভারত-মিয়ানমারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েকদিন আগে থেকে পশুতে হাটগুলো ভরপুর হয়ে উঠলেও এ কয়দিন ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল কম।

বিক্রেতারা পশুর পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন ক্রেতাদের আশায়। কিন্তু ক্রেতাদের তেমন সাড়া মিলেনি গত কয়েক দিন। তবে রোববার সকাল থেকে প্রতিটি হাটে প্রচুর ক্রেতার ভিড় লেছে। ক্রেতাদের দেখা পেয়ে খুশি বিক্রেতারাও।

কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটগুলোতে প্রতিবারের মতো এবারো দেশি গরুর প্রধান্য। পার্শ্ববর্তী ভারত ও মিয়ানমার থেকেও এসেছে গরু। এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, দিনাজপুর, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও নীলফামারী থেকেও গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।

ইজারাগ্রহীতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়দিন ক্রেতার আনাগোনা খুব একটা না থাকলেও ঈদ ঘনিয়ে আসায় শনিবার থেকে হাটে আসতে শুরু করেছেন ক্রেতারা।

নগরের দুটি স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজার ছাড়াও কর্ণফুলী বাজার, সল্টগোলা রেল ক্রসিং, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, দেওয়ান হাট পোস্তারপাড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, স্টিল মিল ও কমল মহাজন হাটসহ সবকয়টি হাটই এখন জমজমাট।

প্রতিটি হাটে গরুর পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে ছাগলও। তবে পোস্তারপাড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুধু ছাগলের হাট বসেছে বলে ইজারাগ্রহীতা সূত্রে জানা গেছে।

বিবির হাটে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট গ-ি পেরিয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে হাটটি। মুরাদপুর ছাড়িয়ে পূর্বদিকে শুলকবহর, পশ্চিম দিকে ষোলশহর ও উত্তর পাশে আতুরার ডিপু পর্যন্ত বিস্তৃতি ঘটেছে হাটের।

হাটের ইজারাগ্রহীতা মনজুর আলম জানান, হাটে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশু রয়েছে। আরো পশু আসার সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ক্রেতারা এখন বাজারমুখী। বেচাকেনাও ভালো চলছে। এক কথায় হাট এখন জমজমাট।

বিভিন্ন সাইজের ছাগলের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গরু রয়েছে প্রচুর। এর মধ্যে দেশি গরুর সংখ্যাই বেশি। পাঁচ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায় ছাগল এবং ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় গরু পাওয়া যাচ্ছে এই হাটে।

নগরীর আগ্রবাদ এলাকা থেকে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বাজারে প্রচুর গরু-ছাগল দেখা যাচ্ছে। দেখে-শুনে অনেক দামাদামির পর ৫৭ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছি। কয়দিন আগে হলে হয়তো আরো কম দামে পাওয়া যেত।

বিবিরহাট বাজারের ইজারাদার মনজুর জানান, গত শুক্রবার থেকে বাজার জমজমাট। হাটে এখন প্রচুর গরু-ছাগল, আরো আসার পথে রয়েছে। হাটে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা মূল্যের গরু পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে ক্রেতার সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। আগের তুলনায় একটু বাড়লেও দাম এখনো মোটামুটি পর্যায়ে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্তারপাড় হাটের ছাগল বিক্রেতা কাদের জানান, এই হাটে শুধু ছাগল বিক্রি হচ্ছে। তার কাছে থাকা পাঁচটি ছাগলের মধ্যে তিনটি বিক্রি হয়ে গেছে। একটি ১০ হাজার ও বাকি দুটি ছাগল ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।

অন্যদিকে নগরীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট খ্যাত সাগরিকা হাট ও কর্ণফুলী বাজারসহ অন্যান্য হাটগুলোতেও বেচাকেনা জমে উঠেছে বলে জানা গেছে।

মতামত