টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে বিক্রির অভিযোগ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জোরপূর্বক দখল করে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত ওই জায়গাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলে আসছিল। এছাড়া ওই জায়গায় থাকা চারটি বসতঘর উচ্ছেদ, ২৫০টি বনজ ও ফলজ বৃক্ষ গুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী মোঃ সফিউল্লাহ চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে সোনাপাহাড় মৌজার ৩.২০ একর জায়গা আজিজুল হক নামে এক ব্যক্তি থেকে খরিদ করেন সফিউল্লাহ, জামাল উদ্দিন, কামাল উদ্দিন ও নুর জাহান বেগম। কিন্তু কতিপয় বিনোদ দত্ত, অর্ণিবান দত্ত, চিত্র দত্ত ও দীপক দত্ত ওই জায়গাগুলোর মালিকানা দাবী করে। এ বিষয়ে মোঃ সফিউল্লাহ বাদী হয়ে এ ৫জনকে আসামী করে চট্টগ্রাম জজ আদালতে একটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি চলে আসছিল। গত ৩০ আগষ্ট অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী নিয়ে বিরোধপূর্ণ ওই জায়গায় গিয়ে কেয়ার টেকার আবু তাহের, বাদশা মিয়া ও সলিমুল্লাহর চারটি বসতঘর গুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন মোঃ সফিউল্লাহ। এছাড়া আড়াই হাজার ফলজ, বনজ গাছ কেটে ও পুকুর থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। একই দিন তারা ওই জায়গায় তার কাটার ভেড়া দিয়ে সীমানা প্রচীর তৈরি করে। সফিউল্লাহ আরো অভিযোগ করেন, বিরোধপূর্ণ ওই জায়গাটি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিক্রি করে দেয় অভিযুক্তরা।

সফি উল্লাহ জানান, সোনাপাহাড় মৌজার আর এস ৫৬৫৪ দাগে ও ২০০২ খতিয়ানভূক্ত বিএস ৭৫০০ দাগে ১.৯৫ একর, একই মৌজার আরএস ৫৬০৯ দাগে ও ২০০২ খতিয়ানভূক্ত বিএস ৭৫১৫ দাগে ৬৬ শতক, আরএস ৫৬৫২ দাগে ৫শতক, ৫৬৫৩ দাগে ১৯ শতক, ৫৫৯৯ দাগে ১০ শতক, ৫৬০৩ দাগে ১৯ শতক, ৫৬০৪ দাগে ৬ শতক মোট ৩.২০ একর খরিদ করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, বিবাদীরা তাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে হুমকি ধুমকি দিয়ে আসছেন। ওই জায়গায় সর্বক্ষণ সন্ত্রাসীরা টহল দিচ্ছে।

এ বিষয়ে পত্রিকার চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, মিরসরাইয়ের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইনমন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অনুলিপি দিয়েছেন বলে জানান মোঃ সফিউল্লাহ।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিনোদ দত্তের ব্যবহৃত মোবাইলে চেষ্টা করে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই বিপুল দেবনাথ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানায় এসেছে। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত