টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দুই লাখ পর্যটক বরণে প্রস্তুতি কক্সবাজারে

Beach-3_1
ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে ওঠছে কক্সবাজারের পর্যটন স্পটসমূহ। রাজনৈতিক অঙ্গন স্থিতিশীল ও বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ায় কোরবানির ঈদের পর দিন থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে। এবার অন্তত দুই লাখ পর্যটক বরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান হোটেল-মোটেল জোনের ব্যবসায়ীরা।
শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নয়, পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও রাখাইন পল্লী, রামুর দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, ইনানী পাথুরে সৈকত, হিমছড়ির অপরূপ ঝর্ণা, মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট।
বিশেষ করে ঈদের পরের দিন থেকে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়বে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের জেলা কক্সবাজার। সৈকতের রজততটে দাঁড়িয়ে পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্ত অবলোকন, হাজার হাজার নারী-পুরুষের মহা সম্মেলন এবং সব বয়সের শিশু-কিশোর, তরুন-তরুনীর উচ্ছ্বাস রাঙ্গিয়ে তুলবে সাগরকন্যা কক্সবাজারকে।
এবার স্থানীয় এবং বাইরের সবমিলিয়ে দুই লক্ষাধিক পর্যটক সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার।
তিনি বলেন, অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় পরিবেশ পরিস্থিতি অনেকটা ভাল। ভারত ও মিয়ানমারের পর্যটকের সাড়া মিলছে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল বুকিং হওয়া শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল, গেষ্ট হাউস ও কটেজগুলোর অর্ধেক রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এতে করে গত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশার কথাও শুনিয়েছেন পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীরা।
কুরবানীর এই ঈদে দেশী পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকের সমাগমও হবে বলে আশা করছেন হোটেল ব্যবসায়ীদের এই নেতা।
আবুল কাশেম সিকদার দৈনিক ইনানীকে আরো বলেন- ছোট-বড় মিলিয়ে আড়াইশ’তাধিক হোটেল-মোটেল, গেষ্ট হাউস ও কটেজ রয়েছে। এসবের অর্ধেকেরও বেশী রুম বুর্কিং হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। যা ঈদের পর থেকে টানা ৮ দিন থাকবে।
এবার বিদেশী পর্যটকের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন-বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারতের পর্যটকরা রুম বুকিং দিচ্ছেন। তার মালিকানাধীন ডায়মন্ড প্যালেস গেষ্ট হাউসে ইতোমধ্যে ৮ ভারতীয় পর্যটক রুম অগ্রিম বুকিং দিয়েছেন বলে জানান।
তবে তিনি অভিযোগ করেন-হোটেল-মোটেল জোন এলাকার যেসব বস্তি ও ঝুপড়ি এলাকা রয়েছে সেখানে বিভিন্ন ধরণের মাদক বিকিকিনি হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলোর বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবী জানান তিনি।
এ দিকে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে হোটেল-মোটেলগুলো সংষ্কার, সাগর পাড়ের কীটকট চেয়ারে রং লাগানোসহ অপরুপ সাজে সাজানো হচ্ছে দর্শনীয় পর্যটন স্থান গুলোকে। সাগরে গোসল করতে নেমে অপ্রত্যাশিত প্রাণহানি এড়াতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সবমিলিয়ে সাগরকন্যা কক্সবাজারে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরা।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বর্ষা মৌসুমসহ নানা কারণে পর্যটকদের কাছে টানতে না পারায় এতদিন যে ব্যবসায়ীরা দারুন হতাশায় নিমজ্জিত ছিল তারা এখন সচল হতে শুরু করেছে। আশানুরুপ পর্যটক আসার আশায় লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার অপেক্ষার প্রহর গুণছে এখানকার ডিম, চা, ঝাল মুড়ি বিক্রেতা থেকে শুরু করে রিক্সা, টমটম, সিএনজি, মাইক্রোবাস, জীপ চালক, ঝিনুক-শামুক বিক্রেতা, খাওয়ার হোটেল ব্যবসায়ী এবং হোটেল-মোটেল, গেষ্ট হাউস ও কটেজ মালিকরা।
কক্সবাজার বীচ পার্ক ও ঝিনুক মার্কেট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এবার আশানুরুপ পর্যটকের আগমনের কথা জানিয়ে বলেন-ঝিনুক ব্যবসায়ীরা নানা প্রকার পসরা সাজানো শুরু করেছে। তিনি আশা করেন-এবার আগের সব লোকসান কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী দৈনিক ইনানীকে বলেন, পর্যটক বরণে ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পর্যটক হয়রানী রোধ ও তাদের নিরাপত্তায় মোড়ে মোড়ে পুলিশ থাকবে। কাজ করবে মোবাইল টীমও।

মতামত