টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোরবানীর পশু জবাই: বন্দরনগরীতে ২৬৯ টি স্থান নির্ধারণ

dচট্টগ্রাম, ২০ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  আসন্ন ঈদুল আযহা’য়  কোরবানীর পশু জবাইয়ের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৬৯ টি স্থান নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চসিক।

সরকারের আন্ত:মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোরবানীর ঈদে যাতে নগরীতে পরিবেশ দূষণ না হয়. তার জন্য নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বেোচ্চ ১৪ টি পর্যন্ত স্থান চূড়ান্ত করেছে চসিক।

এসব স্থানের নাম মূলত প্রস্তাব করেছেন স্ব স্ব ওয়ার্ড কাউন্সিলররাই। কাউন্সিলরদের প্রস্তাবিত এসব স্থানকে পশু জবাইয়ের স্থান হিসেবে অনুমোদন করেছে চসিক ।

চসিক সূত্রেজানা গেছে, এসব স্থানের বেশিরভাগই নগরীর ব্যস্ত সড়ক, কোথাও বা ওয়ার্ডের পুরো এলাকা ও সড়কের নাম জুড়ে দেয়া হয়েছে। আবার বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠই নির্ধারন করা হয়েছে।

কোন কোন ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট কিছু ‘বাড়ীর সামনে’ পশু জবাই এর স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নগরীর ১৩ নম্বর গোসাইল ডাঙ্গা ওয়ার্ডে ১১ টি স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে যার ১০ টি বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ির ভিতরে, সামনে অথবা পাশে ।

নগরীর ৩ নম্বর পাঁচলাইশ, ৬ নং পূর্ব ষোলশহর, ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ও ৩৪ নং পাথরঘাটা এই তিনটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ না করে পুরো এলাকার নাম দিয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে মনেহবে এসব এলাকা অথবা সড়কের যে কোন স্পটেই যে কেউ পশু জবাই করতে পারবেন।

৮০ টিরও বেশি স্থান দেয়া হয়েছে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সংলগ্ন মাঠ, যার মধ্যে সিটি করপোরেশেনের মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে হাতে গোনা কয়েকটি।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী  বলেন, স্থান নির্ধারন করে দেওয়াতে এবার পরিবেশ দূষণ তেমন একটা হবেনা।

কোরবানীর পশু জবাইয়ের এসব স্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ জানে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্ব স্ব স্থান কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হবে।

এছাড়া, আগামী দুই একদিনের মধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে জনসাধারণকে নগরীর পশু জবাইয়ের স্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে তাছাড়া চসিকের নিয়মিত মাইকিং তো চলছেই, উল্লেখ করেন তিনি।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা জানান, নগরীর মসজিদগুলোর ঈমামরা শুক্রবার জুম্মার খতিবের সময় ও সপ্তাহের অন্যান্য দিনও নামাযের পর মুসল্লিদের এলাকার পশু জবাইয়ের স্থানগুলো সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে ঈদের দিন পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য চসিকের ২০০০ জনবল কাজ করবে বলে জানা গেছে। প্রতিটি পশু জবাইয়ের স্থানে কাজ করবেন ৫০ থেকে ৬০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী।

ঈদের দিন পশু জবাইয়ের পর পরই সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বর্জ্য সরানোর ও স্থান পরিচ্ছনের কাজ শেষ করবেন বলে জানিয়েছে চসিক সূত্র।

বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যে ২০ টন ব্লিচিং পাউডার, প্রচুর পরিমানে ফিনাইল, হারপিক ইত্যাদি স্ব স্ব ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের পাঠিয়ে দিয়েছে চসিক।

তবে প্রথমবারেই নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ে জনসাধারণের সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবু শৈবাল দাশ সুমন বলেন, নিজ বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত নির্ধারিত স্থানগুলোতে পশু জবাইয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া, তা কাটার পর আবার বাসায় আনা, এসব অনেকের কাছেই ঝামেলা মনে হতে পারে। অনেকেই হয়তো এসব স্থানে যাবেনও না। তারা নিজের বাসার সামনেই পশু জবাই করে ফেলবেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত