টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোরবানীর ঈদকে ঘিরে মহাব্যস্ত মিরসরাইয়ের কামারপাড়া

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Kamarpadaচট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস): আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে মিরসরাই উপজেলাজুড়ে কামারপাড়া গুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। এখন তাদের দম ফেলানোর ফুসরত নেই। রাত-দিনে অবিরত কামারা দা, ছুরি, চাকু, কুড়াল, বটিসহ বিভিন্ন মাংস কর্তন সামগ্রী তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার বড়দারোগাহাট, বড়তাকিয়া, হাদি ফকিরহাট, মিঠাছড়া, আবুতোরাবসহ বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৩শতাধিক কামার কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা,ছুরি, চাকু, কুড়াল, কাঠারি, বটিসহ ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি । পুরানো সেকেলে নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরির কাজ।

কামাররা জানায়, এ পেশায় অধিক শ্রম। জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে তারা এখনও আঁকড়ে আছেন। বিভিন্ন সময় এসবের চাহিদা কম থাকলেও কোরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন মনে হওয়ায় সকলেই এখন ছুটছেন কামারদের কাছে। আর এতেই একমাসে পেশাটি জমজমাট হয়ে উঠেছে। কামাররা মৌসুমী হিসেবে কাস্তে, হাসুয়া, পাসুন, বাঁশিলা, কুড়ালও তৈরি করে থাকেন। আর এসব কিনে নিয়ে পাইকাররা বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করছেন।

কামাররা জানান, একটি বড় দা ৫ কেজির লোহা দিয়ে তৈরি করে মজুরীসহ ৫শ’ টাকা, কুড়াল ১ কেজির ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকা, বাঁশিলা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, বড় ছোরা ওজন মতে ৩ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা দরে বিক্রি করছেন। কামারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদে যে বেচাকেনা হয় তা আর অন্য সময় হয়না। বড়দারোগাহাট বাজারে কথা হয় নারায়ন কর্মকার, সচিত্র কর্মকার, অর্জুন কর্মকারসহ একাধিক কামারের সাথে। তারা বলেন, সারা বছর আমাদের অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। শুধুমাত্র কোরবানের ঈদ এলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারপরও বাপ-দাদার পেশাকে আঁকড়ে ধরে কোন রকম বেঁচে আছি।

এদিকে ঈদের আগে এ পেশাজীবীদের স্বচ্ছল হওয়ার মোক্ষম সময়। এ কারণে অনেকে মজুদ করে ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করছেন। তবে এ পেশাজীবীরা হাজার বছর ধরে পুরানো নিয়মে এসব সামগ্রী তৈরি করলেও অত্যাধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই শিল্পে। আর তাইতো তারা জীর্ণ-শীর্ণ শরীর নিয়েও একটু সুখের আশায় কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত।

মতামত