টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে জমে উঠেছে গরু-ছাগলের বাজার

বাইরের গরু না আসায় দাম চড়াও দেশী গরুর

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি

Mirsarai-Cow-Market-Photo-1চট্টগ্রাম, ১৮ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  মিরসরাইয়ে জমে উঠেছে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরু-ছাগলের বাজার। ঈদের বাকী আছে হাতে গোনা আর কয়েক দিন এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে উপজেলার বাজারগুলো। অন্যান্য বছর পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যান্ড থেকে কোরবান উপলক্ষ্যে গরু আসলেও এই বছর গরু এসছে তুলনা মুলক কম। ফলে উপজেলাবাসীকে কোরবানীর জন্য এবার দেশী গরুর উপর নির্ভর করতে হবে। বাইরের গরু না আসাতে দাম চড়াও দেশীর গরুর। তাছাড়া যারা শরীক হয়ে ৫-৬ জন মিলে একটি গরু দিয়ে কোরবানী করেন ওই রকম বড় গরুর সংগ্রহ কম এবার বাজারগুলোতে। ক্রেতারা বাজারে গিয়ে গরুর দাম দেখে রীতিমত অবাক। বাজারে গো খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় দেশী গরু লালন পালন করতে খরচ বেশী হয়েছে তাই কম দামে গরু বিক্রী করতেছেনা বিক্রেতারা। ঈদের আগে বাইরের গরু না আসলে বেশী দামে দেশী গরু দিয়েই এবার কোরবানী করতে হবে মিরসরাইবাসীকে। ঈদের এখনো ৬-৭ দিন বাকী থাকায় অনেকে গরুর দাম কম হওয়ার কথা চিন্তা করে এখনো গরু কিনতেছেনা। আবার বাইরের গরু না আসায় ঈদ পর্যন্ত রাখলে আরো ভালো দাম পাওয়ার আশায় গরু সহজে বিক্রী করতেছেনা বিক্রেতারা। ইতোমধ্যে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দু’টি পৌরসভার প্রায় প্রতিটি বাজারে জমতে শুরু করছে কুরবানীর পশুর হাট।

জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার বাজারগুলোতে যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার শুরু থেকে প্রত্যেকটি বাজারে গরু-ছাগল বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। উপজেলার মিঠাছরা বাজার, করেরহাট বাজার, বারইয়ারহাট পৌর বাজার, শান্তিরহাট, জোরারগঞ্জ, চৈতন্যের হাট, ঝুলনপোল, দুর্গাপুর, মিঠাছরা, বামনসুন্দর, মিরসরাই পৌর বাজার, বড়তাকিয়া, নয়দুয়ার, হাদিফকিরহাট, গজারিয়া, নিজামপুর, কমলদহ, মৌলভীবাজার, দারোগারহাট বাজার ছাড়াও ঈদুল আযহা উপলক্ষে আরও ছোট ছোট কয়েকটি স্থানে বসেছে এবার কুরবানীর হাট। কোরবানী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ছোট বাজারগুলোতে পশুর হাট বসায় বড় বাজারগুলোর চাহিদা কমে গেছে ক্রেতাদের কাছে। বড় বাজারের ইজারাদাররা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে কিন্তু প্রত্যেক বছর ঈদ উপলক্ষ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ছোট বাজারগুলোতে পশুর হাট বসানোর কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এই বছর কুরবানীর হাটে বাইরের গরু কম আশায় দেশী গরুর দিকে ঝুঁকছে ক্রেতারা। দেশীয় পশু কেনার ক্ষেত্রে মোটতাজা পশুতে পাম ইনজেকশান ব্যবহার হয়েছে কিনা এমন ভয়ে অনেকে দেশী পশু কেনা থেকে বিরত থাকছেন। তাছাড়া জাল নোট পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন বাজারে বসানো হচ্ছে মেশিন। ঈদের আরো ৫-৬ দিন বাকি থাকাতে এখনো অধিকাংশ বাজারে পশুর হাট বসলেও বিক্রি হচ্ছে কম। যেসব বাড়ীতে কুরবানীর পশু দেখাশুনার লোক রয়েছে এমন পরিবার আগে থেকে পশু কেনা শুরু করেছেন। আর যেসব পরিবার চাকুরীজীবি বা পশু দেখাশুনা করার মত কেউ নেই ওইসব পরিবার এখনো পশু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে এক্ষেত্রে অনেকে যতদিন যাচ্ছে তত দাম কমবে এমন বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট মিঠাছরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বাইরের গরু কম আর দেশী গরু বেশী। সপ্তাহের রবিবার আর বৃহস্পতিবার বসে এখানে গরু এবং ছাগলের বাজার। মিঠাছরা বাজারে বাইরের গরু কম আসাতে যেসব পরিবার শরীক হয়ে কুরবানী করেন তারা তাদের চাহিদা মত গরু পাচ্ছেন না বলে অনেকে অভিযোগ করেন। নেপাল, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড থেকে গরু না আসাতে দেশী গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে অনেক। অনেকে গরুর অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো গরু কিনছেন না। মিঠাছরা বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো দেশীয় গরু। দেশীয় গরু কেনার জন্য এখানে বিভিন্ন বাজার থেকে পাইকাররা এসে প্রতিবছর ভিড় জমান।

গরু ব্যবসায়ী মোস্তাক জানান, প্রতিবছর আমরা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কুরবানীর গরু আনতাম বাকীতে। গরু বিক্রী করে টাকা পরে দিতাম। কিন্তু এবার নগদ টাকা দিয়েও ভারত থেকে গরু আনতে পারতেছিনা বর্ডারে কড়াকড়ির কারণে। ফলে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী এবার মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। যেহেতু এখনো পর্যন্ত বাইরের গরু কম এসেছে ঈদের আগে আর গরু আসবে বলেও মনে হয় না।

উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ৫-৬ মাস পূর্বে দুই জোড়া ষাঁড় কিনেছি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রির জন্য। বাজারে গো খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় দু’টি গরুতে অনেক টাকা খরচও হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বারইয়ারহাট পৌর বাজারে ষাঁড় দু’টি ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। বাইরের গরু না আসাতে এই বছর আমার মতো অনেক ক্ষুদ্র কৃষক ভালো দাম পাইছে। এভাবে যদি বাহিরের বিভিন্ন দেশ থেকে গরু আসা বন্ধ থাকে তাহলে কোরবানীর জন্য পশু আমাদের দেশেই পালন করা সম্ভব হবে।

মিঠাছরা বাজারে ঝুলনপোল থেকে গরু কিনতে আসা মো. মুফিজ উদ্দিন বলেন, এবার ঈদে অন্যান্য বছরের তুলনায় বাইরের গরু কম আসার কারণে দাম চড়াও দেশী গরুর। সরকার যদি পশু পালনে বিশেষ ভর্তুকি দিতো তাহলে দেশী গরু দিয়েই কম দামে কোরবানী করা যেতো। গরু পালন করতে খরচ বেশী হওয়ায় বিক্রেতারা কম দামে গরু বিক্রী করতেছেনা। তাছাড়া বিভিন্ন বাজারে স্থানীয় কিছু সিন্ডিকেট একত্র হয়ে গরুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতেছে। প্রশাসনের উচিত ক্রেতা বিক্রেতারা যাতে সঠিক দামে পশু ক্রয় বিক্রয় করতে পারে সেজন্য নজরদারি করা।

মিঠাছরা বাজারের ইজারাদার সাইফুল্লাহ দিদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মিঠাছরা বাজারে দেশীয় গরুর সরবারহ এবং চাহিদা বেশী। তাছাড়া মিঠাছরা বাজার উত্তর চট্টগ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হওয়াতে এখানে বাইরের ব্যাপারীই বেশী আসে। তবে এই বছর বাইরের গরু কম আসায় এখনো বাজার পুরোপুরি জমে উঠেনি। অন্যান্য বছর কোরবানী উপলক্ষ্যে এক বাজারে ৫-৬ লাখ টাকার হাসিল কাটলেও এবার বাজারে গরু কম আসায় ২-৩ লাখ টাকা হাসিল কাটতেও কষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি কোটি টাকা খরচ করে বাজার ইজারা নিয়েছি লাভের আশায়। কিন্তু ঈদ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে গরুর বাজার বসতে শুরু করেছে। যেসব বাজার থেকে সরকার রাজস্ব পায় উপজেলা প্রশাসন ওই বাজার গুলোকে কোন সহায়তা করতেছেনা। এছাড়াও সম্প্রতি মিঠাছরা বাজারে গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্রেতাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। থানা প্রশাসন ছিনতাইয়ের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করলেও এখনো উদ্ধার করেনি ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রগুলো। ক্রেতারা পশু কেনার জন্য টাকা নিয়ে বাজারে আসার সাহস করতেছেনা। আমরা চাই প্রশাসন ঈদ উপলক্ষে বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।

মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) যশমন্ত বলেন, কোরবান উপলক্ষে থানার আওতাধীন পশুর বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেক বাজারে একজন অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি করে টিম কাজ করতেছে।

ইজারাবিহীন বাজারে পশুর হাট বসানো সম্পর্কে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়া আহমেদ সুমনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি এই প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত