টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হোটেলের যাত্রা ইনানীতে

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
উখিয়ার ইনানীতে যাত্রা শুরু করল দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ তারকা মানের সর্ববৃহত হোটেল ‘রয়েল টিউলিপ সী-পার্ল রিসোর্ট এন্ড স্পা’।
১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোটেলটির শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় জমকালো অনুষ্ঠান।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি মধ্যবিত্ত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে। পর্যটন শিল্প বিকালে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারকে আরো বেশী সমৃদ্ধ করতে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা দরকার।
আমির হোসেন আমু বলেছেন, পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজার আজ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সমাদৃত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে এই কক্সবাজারে। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প থেকে আয় হওয়া অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সেই সাথে অধিকতর উন্নত হয়েছে এই মানুষের জীবন মান। কক্সবাজারের আজকের এই অবস্থার নায়ক হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৫৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের মন্ত্রী থাকাকালে তিনিই কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রের সূচনা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজারের সর্ববৃহৎ হোটেল সী-পার্লÑরয়েল হোটেল এ- রিসোর্টের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সূচিত কক্সবাজারের পযর্টন শিল্পকে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারকে নিয়ে আলাদা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তিনি। এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে রূপ দিচ্ছে ক্রমান্বয়ে। সাবরাং এক্সক্লোসিভ ট্যুরিষ্টজোনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। আমি খুবই আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন এইসব কর্মকান্ডের নতুন সংযোজন হোটেল সী-পার্ল রয়েল লাক্সারী হোটেল এ- রিসোর্ট। কক্সবাজারে এমন যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের হোটেল গড়ে তোলার এর মালিক পক্ষ অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
উখিয়ার ইনানী শফির বিল এলাকায় প্রায় ১৫ এক জমির  উপর নির্মিত বিশ্বমানের সুদৃশ্য পাঁচ তারকা হোটেল সী-পার্ল রয়েল লাক্সারী হোটেল এ- রিসোর্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী মোঃ ফারুক খান, সাংসদ আবদুর রহমান বদি, সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হক খান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান কবির, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা, পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ, গোল্ডেন টিউলিপ হোটেল অব এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিমল জে. সিংহ, মনোয়ারা হাকিম প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানে সভাপতি ও সী-পার্ল রয়েল লাক্সারী হোটেল এ- রিসোর্টের চেয়ারম্যান আমিনুল হক শামিম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সী-পার্লÑরয়েল লাক্সারী হোটেল এ- রিসোর্টের পরিচালক ইশরামুল হক টিটু, বিগ্রেডিয়ার জে. মকবুল মুকুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কেটে হোটেলের উদ্বোধন করা হয়। শেষে অতিথিদের ক্রেস তুলে দেন পরিচালকবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, ‘রয়েল টিউলিপস সী-পার্ল রিসোর্ট এন্ড স্পা’ সর্বমোট ৪৯৩ টি কক্ষ রয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত হোটেল। ১৫ একর জমির ওপরে প্রায় পাঁচ লক্ষ স্কয়ার ফিট এরিয়ার পাঁচ তারকা মানের এ হোটেলটিতে রয়েছে আধুনিক ফিটনেস সেন্টার,দুইটি সুইমিংপুল, এমপিথিয়েটার, থ্রিডি গলফ এবং উন্নত ভিডিও গেমসসহ নানাধরণের ইনডোর ও আইটডোর বিনোদনের ব্যবস্থা, ডেসটিনেশন স্পা সেখানে থাকবে ট্র্যাডিশনাল থাই স্পা এবং নানা প্রতকারের অ্যারোমা থেরাপি।
তাছাড়া আইসক্রিম পার্লারসহ কন্টিনেন্টাল, প্যান এশিয়ান, ইতালিয়ান, বাংলা সী ফুড, ৮টি ভিন্ন স্বাদের রেস্টুরেন্ট। বাংলাদেশের একমাত্র সানকিনবারসহ ইন্টারন্যাশনাল বার এবং লবি জুস বার ও ক্যাফে।
এখানে নির্মানাধিন রয়েছে কক্সবাজারের সর্বপ্রথমম এবং বাংলাদেশের সর্বাধুনিক ওয়াটার পার্ক। এগ্রলোর সাথে রয়েছে প্যারাসিলিং, ডিপ সী ফিশিং, হিল ট্রাকিং ইত্যাদি সার্ভিস।
ব্যবসায়িক ভ্রমন স্বাচ্ছন্দময় করতে দশ হাজার স্কয়ার ফিটের ব্যানকোয়েট হল,। যেখানে দেশী ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশেষভাবে ডেসটিনেশন ওয়েডিং এর সুব্যবস্থা থাকছে হোটেলটিতে। এই হোটেলটি স্প্যানিষ আর্কিটেকচারের ডিজাইন করা। যার ফলে সমুদ্র ও পাহাড়ের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
সেই সাথে কক্সবাজারে এটিই সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা চেইনের হোটেল। এটি বিশ্ব বিখ্যাত লোভার গ্রুপ অব হোটেলস এর গোল্ডেন টিউলিপ ব্রান্ডের প্রিমিয়ার ব্রান্ড রয়েল টিউলিপ এর সাথে যুক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী গোল্ডেন টিউলিপ প্রায় ৪০ টি দেশের এক হাজারেরও বেশী হোটেল সম্মানের সাথে পরিচালনা করে আসছে।

মতামত