টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে দেশি গরুর সঙ্গে রয়েছে ভারতীয়-মিয়ানমারের গরুও

garuচট্টগ্রাম, ১৮ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস): বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রতিটি গরুর হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় ও মিয়ানমারের গরুর সংখ্যাও প্রচুর হলেও এখনো শুরু হয়নি গরু বেচাকেনা।

বৃহস্পতিবার নগরীর সবচেয়ে বড় সাগরিকা বাজারে শতাধিক গরু বিক্রি হয়েছে বলে হাটের ইজারাদার জানিয়েছেন।

সাগরিকা গরু বাজারের রাজা আকবর মামার রাজত্ব এখন মামুন আর আরিফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে। শেড নির্মাণের ইজারা হাতছাড়া হওয়ায় আকবর মামা সাগরিকা বাজার ছেড়ে এখন বিবিরহাটে অবস্থান নিয়েছেন। মামুন আর আরিফুল এবার সাগরিকা বাজারে খুঁটি পুঁতে শেড নির্মাণ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাগরিকা বাজারের ফাঁকা নেই কোনো শেডের খুঁটি। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বাজারে গরু আসাও বাড়ছে। ভারতীয় গরুর পাশাপাশি টেকনাফ হয়ে আসছে মিয়ানমারের গরু। ফলে গরুর দাম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন গরু ব্যবসায়ীরা।

কুষ্টিয়া থেকে আসা মো. লোকমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাকিম মিয়াসহ একাধিক গরু ব্যবসায়ী জানান, এখনো বাজারে গরু আসছে। বেচাকেনা শুরু হয়নি। আগামী শনি ও রবিবার থেকে বেচাকেনা শুরু হবে বলে আশা করছি।

তারা আরও বলেন, বেশি দামে গরু কিনে বাজারে এনেছি। এখন কপালে কি আছে আল্লাহই ভালো জানেন। ভারত থেকে গরু আসা শুরু হওয়ায় গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী জানান।

সাগরিকা গরু বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, বাজার ছাড়াও আশপাশের মাঠ-খালি জায়গায় বিভিন্ন জেলার নামে আলাদাভাবে শেড তৈরি করা হয়েছে। সবকটি শেড এম এ মান্নান ও আরিফুল ইসলামের নামে করা হয়েছে। কয়েকটি শেড বশরের নামেও রয়েছে। এছাড়াও সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীদের নামেও শেড নির্মাণ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০-১২টি গরু বাঁধার খুঁটিকে ডোগা বা শেড বলা হয়। কেউ বা খাইনও বলেন। একটি ডোগা থেকে গত বছর ৫০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরীর সর্ববৃহৎ গরু বাজার সাগরিকায় কয়েকটি বড় আকারের গরু দেখা যায়। কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শেডে একাধিক গরু ৭-৮ লাখ টাকা দর হাঁকা হয়েছে। ভারতীয় এসব গরুর পাশাপাশি নেপালি জাতের বড় আকারের গরুও রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের আবদুর রহিম ও আকবর হোসেন বলেন, ২০ বছর ধরে চট্টগ্রামে গরুর ব্যবসা করে আসছি। এবার এ পর্যন্ত ৪০টি গরু বাজারে এনেছি। উত্তরবঙ্গ ছাড়াও জেলার হাটহাজারীসহ কয়েকটি উপজেলার খামারিরাও সাগরিকা বাজারে বড় আকারের গরু এনেছেন।

কুষ্টিয়ার মো. আলমগীর জানান, নিজেদের খামারে গরু লালন-পালন করে পাঁচটি গরু বিক্রির জন্য সাগরিকা বাজারে এনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্রেতা পাচ্ছি না। দিন যতই যাচ্ছে বাজারে ততই ভারতীয় ও মিয়ানমারের গরু সয়লাব হচ্ছে। ফলে দেশি গরুর দাম নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন- রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়াসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামের সাগরিকায় গরু আনা হয়েছে। খাবার রান্নার জন্য পাতিল, বালতি, চাল, ভূষি, খড়সহ কয়েকদিনের রান্নাবান্নার সরঞ্জামাদি নিয়ে এসেছেন তারা।

সাগরিকা বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শতাধিক গরু বিক্রি হয়েছে। কোরবানির বাকি মাত্র সাত দিন। আশা করছি আগামীকাল শুক্রবার থেকে বেচাকেনা শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু আসছে। সাগরিকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকায় শুধু চট্টগ্রামের নয়, সারাদেশের মধ্যে আলাদা কদর রয়েছে এ বাজারের।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত