টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

গ্যাস সংকটে নাকাল চট্টগ্রামবাসী

gassচট্টগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জ্বলছে না রান্নার চুলা। বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংকটে কয়েকশ’ শিল্প কারখানা।

মঙ্গলবার থেকে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় চট্টগ্রাম নগরীতে তিনদিন ধরে গৃহস্থালি ও শিল্প কারখানায় গ্যাসের ঘাটতিতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে নগরবাসী।

ভুক্তভোগীরা জানান, মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া, জামালখান, রহমতগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।

গ্যাস-সংকটের কারণে আজ বিস্তীর্ণ এলাকার বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলেনি। এ কারণে রান্নাবান্না হয়নি। তাই অনেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে সকাল ও দুপুরের খাবার কিনে খেয়েছেন। তবে বিকেলের দিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

বাকলিয়ার বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, ভোরে চুলায় দেশলাই দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চুলা জ্বালানো যায়নি। তাই হোটেল থেকে সকাল ও দুপুরের খাবার কিনে আনা হয়। এ ছাড়া আরও অনেকে শুকনা খাবার খেয়ে গতকাল দুই বেলা কাটিয়ে দেন।

এদিকে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে আসা গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন রি রোলিং মিল এবং শিল্প কারখানায় ‘রেশনিং’ করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং) খন্দকার মতিউর রহমান বলেন, “চট্টগ্রামের গ্রিড লাইন আশুগঞ্জ থেকে শুরু। সেখানে কম্প্রেসারে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এ চাপ আরও কমে যাচ্ছে।”

চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে অন্য সময় ২৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ মিলত। তবে মঙ্গলবার থেকে তা কমতে শুরু করে।

খন্দকার মতিউর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ২৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ছিল। বিকালে তা কমে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। বিভিন্ন বেসরকারি কল কারখানায় দিনের একটা সময় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রামের সরকারি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্য একটি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান  বলেন, রাউজান কেন্দ্রের দুই ইউনিট (সর্বমোট ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যায়) এবং শিকলবাহা দেড়শ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি গ্যাস চালিত। এই দুই কেন্দ্রে দৈনিক ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দরকার।

“চলতি মাসের ৯ অগাস্ট পর্যন্ত নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেছে। ১০ অগাস্ট থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০-৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে রাউজান কেন্দ্রের একটি ইউনিট চলছে।”

চট্টগ্রামের সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র্র হলো কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিকলবাহা দেড়শ মেগাওয়াট ও শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট, দোহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট ও হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট।

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুতের উৎপাদন ৯০০ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে সাতশ থেকে আটশ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রামে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাতটি। এরমধ্যে জুলধা ১০০ মেগাওয়াট, এনার্জি প্যাক ১১০ মেগাওয়াট, রিজেন্ট পাওয়ার ২২ মেগাওয়াট, আরপিসিএল ২৬ মেগাওয়াট, বারাকা পতেঙ্গা ৫৫ মেগাওয়াট, ইউনাইটেড পাওয়ার ৪৪ মেগাওয়াট এবং শিকলবাহা ৫৫ মেগাওয়াট।

বেসরকারি কেন্দ্রগুলো গ্যাস চালিত নয়। এই কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন চালু আছে।

মতামত