টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নম্বর ক্লোন করে অপকর্ম, বিব্রত মন্ত্রী,এমপি-সচিব!

simচট্টগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  রাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চাঁদাবাজি,টেন্ডাবাজিসহ নানা অপরাধের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী,এমপি, সচিব এমনকি পুলিশের আইজিপিও এই প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই প্রতারণা ঠেকাতে কাজ করলেও বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা।

অন্যদিকে যাদের সিম ক্লোন করে প্রতারণা করা হচ্ছে সেই গ্রামীণফোন বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন না।

এদিকে একে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি একটি অপরাধী চক্র সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সচিব,প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বরের সিম ক্লোন বা হুবহু একই নম্বর থেকে কল করে বিভিন্ন জায়গায় চাদাঁবাজি,বদলি,টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ করছে।

বেশকিছু দিন ধরে এই ধরণের প্রতারণা হলেও গত মাসের শেষের দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর ‘ক্লোনিং’ করে প্রতারণা নজরে আসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর।

প্রতারকরা কর্মকর্তাকে আইজিপির নম্বর ক্লোন করে ঢাকা মহানগরের একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে আসামি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেন।পরে ওই আসামি ছেড়ে দেয়ার পর কর্মকর্তা জানতে পারেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এমন কোনো ফোন করেননি।এরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হয়ে ওঠে।

পরবর্তিতে গত ২৪ আগস্ট এমন চার প্রতারককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।এরা হলেন- মো. ইব্রাহিম খলিল ওরফে ফয়সাল,মো. আব্দুল জলির সিকার,মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. জাহিদ হাসান।

এদের মধ্যে ইব্রাহিম খলিল কখনো পুলিশের আইজির চাচাতো ভাই, কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, কখনো সাংবাদিক,কখনও ছাত্রলীগ নেতা ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতো বলে জানা যেত।

এরা পুলিশের এসআই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক,অফিস সহকারীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমএলএসএস পদে বিভিন্ন জনকে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করত বলে জানা গেছে।গত কয়েক মাস ধরে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যাক্তির মোবাইল নম্বরের হুবহু নম্বর থেকে কল করে তদবির করা হয়।

শুধু আইজিপি নয়, গত মাসে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গ্রামীণ ফোনের নম্বর থেকে কল করে প্রতারণার খবর পাওয়া গেছে। তার ব্যক্তিগত ওই নম্বর থেকে ফোন করে বিভিন্ন স্থানে তদবির করা হয়। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রী ওই সব জায়গায় কল করেননি।

পরবর্তিতে বিষয়টি জেনে তিনি গ্রামীণফোনের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,একইভাবে প্রতারণা করা হয়েছে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এবং তার এপিএস।একটি চক্র তাদের মোবাইল নম্বর থেকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করে তদবির করে।

এদিকে নেত্রকোনার সাংসদ বেগম রোকেয়া মোমিনের ফোন নম্বর ক্লোন করেও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এখানেই শেষ নয়,এমন প্রতারণা শিকার হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা।পরে তিনি বিষয়টি জানিয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় জিডি করলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।

একইভাবে রেল সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিনের নম্বর ক্লোন করে চট্টগ্রামের রেল কর্মকর্তার কাছে তদবিরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে করে বিব্রত হচ্ছেন মন্ত্রী, এমপি এবং সচিবরা। তারা এর প্রতিকার চেয়ে চিঠিও দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাসকিং সফটওয়ারসহ বিভিন্ন নামে সফটওয়ার আছে।সেই সফটওয়ার দিয়ে যেকোন নম্বর থেকে কল যায়।এগুলো প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা না থাকায় সরকার সিম নিয়ে কড়াকড়ি করছে।

এদিকে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও এ ধরনের ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেছেন,সিম ক্লোনিং বা জালিয়াতি হচ্ছে।তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

জানা গেছে,গ্রামীণ ফোনের সিম দিয়ে দিয়ে এ ধরনের বেশিরভাগ প্রতারণা হচ্ছে।তাদের কাছেও অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে।তবে বিষয়টি নিয়ে তারা মুখ খুলছেন না।

তবে এ বিষয়টি মারাত্মক অপরাধের অংশ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) আব্দুর রশিদ।

তিনি বলেন, “আমাদের টেকনিক্যাল সিস্টেম অনিরাপদ থাকায় অপরাধীরা মোবাইল সিম ক্লোন করে প্রতারণা করছে।সবক্ষেত্রেই অপরাধীদের সক্ষমতা বেশি। তাই তাদের দমন করতে হলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।টেকনিক্যাল সিস্টেম রিভিউ করতে হবে।অন্যথায় এটা দিনে দিনে হুমকি হয়ে দেখা দিবে।”

তিনি বলেন, “এই ধরণের অপতৎপরতা বন্ধে সরকারের উচিত শিগগিরই প্রযুক্তিতে যেসব ত্রুটি আছে তা সমাধান করা।

একইসঙ্গে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবাদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করা।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফোন নম্বর ক্লোন করে প্রতারণার বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এমনটা জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসির ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সবগুলো মামলা তদন্তাধীন।- ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত