টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় চা দোকানীকে বুকে রড ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্ঠা

মূল আসামী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে : মুমুর্ষ অবস্থা হাসপাতালে ভিক্টিম

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

Rangunia-musa-pic--1চট্টগ্রাম, ১৬ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিন রাজা নগরের ফুল বাগিছা এলাকায় চা দোকানীকে বুকে রড ঢুকিয়ে হত্যা চেষ্ঠার মামলার মূল আসামী এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে আসামীরা। আহত ভিকটিম ঢাকার বক্ষব্যাধী হাসপাতালে মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার খাদ্যনালী ও ফুসফুসে পঁচন ধরেছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিন রাজা নগরের ফুলবাগিছা গাবতল এলাকায় মো. মুসা দীর্ঘদিন ধরে চা দোকান ও মুদি দোকান পরিচালনা করে আসছিল। একই এলাকার পার্শ¦বর্তী মো. সোহেল (২৫) নামে অন্য একজন চা দোকান করে আসলেও মো. মুসার দোকানে বেচাকেনা বেশী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২১ জুলাই করা সকালে স্থানীয় মো. আলী (মামলার ২ নং আসামী) মুসার দোকানে কেরোসিন কিনতে গেলে তিনি কাজে ব্যস্ত থাকায় পরে আসতে বলে। মো. আলী রেগে গিয়ে তেলের টাংকিতে লাথি মেরে তেল ফেলে দেয়। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হলে স্থানীয়রা তা মিটমাট করে দেয়। ঘটনার জেরে একই দিন রাত ১০ টায় লোহার রোড নিয়ে আসামীরা মো. মুসার দোকানে অতর্কিতভাবে ঢুকে মো. মুসার বুকের বাম পাঁজরে একটি রড ঢুকিয়ে দেয়। আহত মুসার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে নগদ টাকা ও দোকানের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত মুসাকে রাউজান জেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার বক্ষব্যাধী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার খাদ্যনালী ও ফুসফুসে পঁচন ধরেছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় আহত মুসার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৫) একই এলাকার মো. ইদ্রিস প্রকাশ মহরম মিয়ার পুত্র মো. সোহেলকে মূল আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি সরাসরি রাঙ্গুনিয়া থানাকে এফ.আই.আর হিসেবে গন্য করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত।

আহত মুসার স্ত্রী মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম জানান, তার স্বামীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেছে। খাদ্যনালী ও ফুসফুসে পঁচন ধরেছে । চিকিৎসকরা জানিয়েছে আহত মুসার অপারেশন করতে ২ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন হবে। ছোট ছোট দুই শিশু সন্তান নিয়ে অভাব অনটনে দিন চলছে তার। মামলার খরচ ও স্বামীর চিকিৎসা করাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে মামলার মূল আসামী ও অন্যান্যরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে ও মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে তিনি অভিযোগ করে জানান।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মিয়া জানান, মো. মুসার পরিবার খুবই গরীব । তার চিকিৎসার জন্য স্থানীয়ভাবে টাকা তুলে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। মুসার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তার পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছেনা। সকলের কাছে তিনি তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যে কামনা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাঙ্গুনিয়া থানার এস.আই মো. হারুন জানান, মামলার আসামী দুই জনকে গ্রেফতার করেছি। বাকীদেরও গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।

মতামত