টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোবরানীর ঈদকে ঘিরে মিরসরাই সীমান্তে চোরাই পথে অবাধে আসছে ভারতীয় পণ্য

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মিরসরাইয়ের ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে অবাধে আসছে ভারতীয় পণ্য। ৫ কিলেমিটার সীমান্ত এলাকায় কাটাতারের বেড়া না থাকায় নির্বিগ্নে এসব পণ্য নিয়ে আসছে চোরাকারবারিরা। শাড়ি, কাপড়, থ্রিপিস, বিভিন্ন প্রসাধনী, পিঁয়াজ, রসুন ও মসলা,সহ নানা পণ্য। এছাড়াও সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিয়ে আসছে ভারতীয় মুরগীর বাচ্চা, রাবার ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চোরাকারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, আমলীঘাট থেকে করেরহাট কয়লার মুখ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় কাটা তারের বেড়া না থাকায় চোরাকারবারীরা পাচারের সুবিধা হিসেবে বেছে নেয় ওই স্থানটি। এসব স্থানে বিডিআরের টহল তেমন একটা হয় না।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ফটিকছড়ি, হেঁয়াকো, মিরসরাইয়ের করেরহাট, বারইয়াহাট এবং ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের একাধিক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য পাচার করছে।

এ ছাড়া বনভূমি বেষ্টিত হওয়ায় সীমান্তরক্ষীবাহিনীর তৎপরতাও কিছুটা সীমিত। ফলে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট অরক্ষিত ওই সীমান্ত এলাকাকে নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। রামগড় পৌর এলাকার মন্দির ঘাট, বল্টুরাম টিলা, অফিস টিলা, আনন্দপাড়া, পোষ্ট অফিস সড়কের পাশের নদীর পাড়ের বসতি, দারোগাপাড়া, মহামুনি, ফেনীরকূল মারমা পাড়া, কাজির চর, উত্তর ফটিকছড়ির বাগান বাজার, যতিরচর, চা বাগান, নলুয়ার চর, আধারমানিক, পানুয়া এবং মিরসরাইয়ের ভবানী ইসলামপুর, রহমতপুর, কয়লা, কচুয়া, খুন্দা প্রভৃতি সীমান্ত পয়েন্টে চোরাই পণ্য নিয়ে আসে।

সূত্রে জানা যায়, মূলতঃ চোরাচালানিদের অন্তঃদ্বন্দ্বের কারণেই মাঝে মধ্যে কিছু চোরাই পণ্য ধরা পড়ে। কোন কোন সীমান্ত পয়েন্টে বিডিআরের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচার কাজ হলেও কোথাও কোথাও আবার সীমান্তরক্ষীদের সাথে গোপন যোগসাজশে এই চোরাচালান হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিরসরাইয়ের করেরহাট এলাকায় পণ্য ঢোকার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে তা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। এজন্য গড়ে উঠেছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। করেরহাটের বদ্ধভবানী এলাকার মানিক চোরাচালানের মুল হোতা। এছাড়া জড়িত রয়েছেন দক্ষিণ অলিনগরের দিদার, আমলীঘাটের বাবু, দাবা সেলিম, তৈয়ব সওদাগর, আবুল মিয়া, সুমন, টিপু ও নুর আলম। যাদেরকে নিয়ন্ত্রন করেন সরকার দলীয় স্থানীয় কয়েকজন নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, চোরাচালানের অন্যতম রুট হচ্ছে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকা। প্রতিরাতে অলিনগর সীমান্ত দিয়ে দেদারসে বিভিন্ন পণ্য পাচার হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী শফিউল আলম শফির নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট এ পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে। তবে পাচারের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন শফি। তিনি বলেন, চোরাকারবারীদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে জানতে বিজিবি‘র অলিনগর ক্যাম্পের কর্মকর্তা ও মধুগ্রাম জোনের কোম্পানী কমান্ডারের মোবাইলে একাধিকবার কল বরলেও তারা এ প্রতিবেদককের কল রিসিভ করেন নি। পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজের বিষয়টি অস্বীকার করেন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির।

মতামত