টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে বিএনপি’র একাংশের কাউন্সিল আজ!

দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রতীক্ষিত নেতা-কর্মীর মাঝে চাপা ক্ষোভ

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১৩  সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস):: খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি বিএনপি’র শক্ত অবস্থানে নড়বড় অবস্থা বিরাজ করছিল এক যুগের অধিককাল ধরে। দলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আঞ্চলিকতা, সু-সময়ে লুটপাট, নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ণে গত ১৫ বছর ধরে এখানে বিএনপি মূলত দ্বি-ধারা ‘ওয়াদুদ-সমীরণ’ গ্রুপে বিভক্ত। সম্প্রতি কেন্দ্র ঘোষিত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে একদিনের প্রস্তুতিতে আজ সোমবার মূলধারায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাউন্সিল হতে যাচ্ছে আজ! দলে কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ না নিয়ে এবং প্রচার-প্রচারণা না করে কাউন্সিল আয়োজন করায় তৃণমূলে চাপা ক্ষোপ বিরাজ করছে। ফলে দলে‘যে লাউ সে কদু’র অবস্থা!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তা দল (বিএনপি’র) প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মেজর জিয়াউর রহমান বিএনপি’র ঘাঁটি বলে পরিচিত মানিকছড়িতে এসেছিলেন সত্তরের শেষ সময়ে। শুধু তাই নয় মুক্তিযোদ্ধাকালে এক নাম্বার সেক্টরে তিনি যুদ্ধ করেছেন। তখন মং সার্কেল অধ্যুষিত এখানাকার অধিকাংশ মানুষ বিএনপি’র প্রতি সমর্থন ছিল মনে-প্রাণে। কালের আর্বতে ২০০১ এর পরবর্তী সময়ে সুসংগঠিত বিএনপিতে শুরু হয় দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং ও আঞ্চলিকতা। তৎকালীণ কমিটি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে দলে নিজেদের একক আধিপত্যের অভিযোগে সৃষ্টি হয় দ্বি-ধারা! মূলধারা পরিচালিত হয় ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে। অন্যধারায় চলে সমীরন দেওয়ানের নেতৃত্বে। এভাবে দল চলাকালীন সময়ে ২০০৯ সালে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। কিছু দিন যেতে না যেতে তাতেও আবার ফাটল সৃষ্টি হয়। ফলে ওই কমিটির প্রায় ৩২ জন সদস্য সমীরণ গ্রুপে যোগদান করেন। ফলে মূলত ৩৯ সদস্য দিয়ে চলছিল দলের কার্যক্রম ! দীর্ঘ ৬ বছর পর হঠাৎ কাল সোমবার কাউন্সিল ঘোষণা করায় দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রতীক্ষিত নেতা-কর্মীদের মাঝে সৃষ্ঠি হয়েছে নতুন ক্ষোভ ও হতাশা। এ প্রসঙ্গে বিগত উপজেলা কমিটির পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. রুস্তম আলী গত রাতে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ২০০১সাল পরবর্তী কমিটির লুটপাট ও দলে একক আধিপত্যকে ঘিরে দলে একাধিক গ্রুপিং ও নেতাদের মাঝে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ফলে রাগে-ক্ষোভে অনেকে সমীরণ গ্রুপে, আবার অনেকে নিসক্রীয় রয়েছে। তবে সবাই কেন্দ্রের নির্দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম পৃথক পৃথক ভাবে পালন করে আসছে। এখন সারাদেশে দলের দুঃসময় চলছে, সব নেতা-কর্মীরা ঐক্যের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু বিগত সুসময়ের অতিথিরা আবারও নিজেদেরকে শীর্ষপদে রাখতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের না জানিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাউন্সিল করছে। যা দলের জন্য মোটেও শুভ সংবাদ নয়। ঐক্যের প্রয়োজন ও সুযোগ ছিল। বিগত কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত!

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মজিবুল হক বাহার বলেন, আমরা বিগত কমিটির দলচুত্য কাউকে (সমীরণ গ্রুপ) নতুন ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে রাখা হবে না। কাউন্সিলের প্রস্তুতিতে ঘাটতি নেই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত