টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে চিঠি

119746_1চট্টগ্রাম, ১৩  সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস):: প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে অভিশংসনের অনুরোধ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

বিচারপতি মানিক রবিবার বিকেলে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে চিঠিটি পৌঁছান বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের নামে শামসুদ্দিন চৌধুরীকে তার পেনশনবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির জবাবে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি বরাবর একটি চিঠি লেখেন তিনি।
সেখানে তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে দিয়ে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া শুধু অশোভনীয় ও অসৌজন্যমূলকই নয়, সহকর্মী বিচারকগণের প্রতি চরম হেয় ও অবমাননার বহিঃপ্রকাশ।’

এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতিদের অসম্মান করেছেন বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করে শামসুদ্দিন চৌধুরী।

দুই বিচারপতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী চলে আসছিল বলে সংশ্লিষ্টরা বলছিলেন। এই চিঠির মাধ্যমে তাদের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিল।

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত চিঠিতে বিচারপতি মানিক লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে আমার সর্বশেষ কর্মদিবস ১৭-০৯-১৫ ইং তারিখ। আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়কে আমার পেনশন কার্যক্রম বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসকে নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করলে, মাননীয় প্রধান বিচারপতির নির্দেশে রেজিস্ট্রার জেনারেলের স্বাক্ষরে বিগত ২৫-০৮-২০১৫ ইং তারিখে আমাকে অবহিত করা হয় যে, ‘সকল পেন্ডিং রায় না লেখা পর্যন্ত আমার পেনশন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।’ উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে আমি প্রধান বিচারপতি মহোদয় বরাবর বিগত ১-০৯-২০১৫ তারিখে এক পত্র প্রেরণ করি। যাহাতে উল্লেখ করি যে, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতির উক্তরূপ আদেশ প্রদান করার কোনো আইনগত কর্তৃত্ব নাই। এবং অতীতে অবসরে যাওয়া সকল মাননীয় বিচারপতিগণই অবসরে যাওয়ার অনেক পরেও রায় লিখিয়াছেন। এবং আমার প্রতি প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের আচরণ বৈষম্যমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ।’

‘অতঃপর তিনি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিগত ০২-০৯-২০১৫ ইং তারিখের পত্রে আমার পেনশনবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি আমাক অবহিত করেন এবং উক্ত পত্রে আমার অবসরে যাওয়ার পূর্বে যে সমস্ত মামলার রায় লেখা সম্ভব হইবে না সে সমস্ত মামলার নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত প্রদানের অনুরোধ করেন এবং ‘ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হিসেবে মামলার রায় না লিখে বিদেশ চলে যেতে পারি মর্মে সংশয় প্রকাশ করেন।’ যা কল্পনাপ্রসূত ও অলীক। উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে ৮-৯-২০১৫ ইং তারিখে আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করি যে, ইতিপূর্বে অবসরে যাওয়া কোনো বিচারপতিকেই নথি ফেরত দেওয়ার জন্য কখনো বলা হয়নি।’

‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমার প্রতি তাহার আচরণ বৈষম্য ও জিঘাংসামূলক। তাহার এইরূপ আদেশ আমার স্বাধীন বিচারকার্যে হস্তক্ষেপের শামিল ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান-এর ৯৪ (৪) আর্টিকেলের পরিপন্থী। এবং তিনি সুস্পষ্টভাবে সংবিধানের ৯৪ (৪) আর্টিকেল সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন।’

চিঠিতে আপিল বিভাগের এই বিচারপতি আরো অভিযোগ করে জানান, আপিল বিভাগের একটি বিচারিক বেঞ্চ থেকে তাকে সরিয়েও দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত বিরাগের বশবর্তী হয়ে প্রধান বিচারপতি এসব করছেন বলে দাবি করে তাঁর এই আচরণ অভিশংসন যোগ্য বলেও মত দেন শামসুদ্দিন চৌধুরী।
এসবের থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যেকোনো মামলায় অনুরাগ ও বিরাগের ঊর্ধ্বে থেকে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অক্ষম বলেও চিঠিতে মত দিয়েছেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী।

তার এসব আচরণ অভিশংসনযোগ্য হওয়ায় তা বিবেচনা করতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন বিচারপতি মানিক।

চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের সব বিভাগের বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের নামে শামসুদ্দিন চৌধুরীকে তার পেনশনবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির জবাবে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি বরাবর একটি চিঠি লেখেন তিনি।

সেখানে তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে দিয়ে একজন আপিল বিভাগের বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া শুধু অশোভনীয় ও অসৌজন্যমূলকই নয়, সহকর্মী বিচারকগণের প্রতি চরম হেয় ও অবমাননার বহিঃপ্রকাশ।’ এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতিদের অসম্মান করেছেন বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করে শামসুদ্দিন চৌধুরী।

এর আগে আদালত অবমাননার অভিযোগে দৈনিক জনকণ্ঠের মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলাকালে দুই বিচারপতির মধ্যকার বিরোধ আলোচনায় আসে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই দুই বিচারপতির কথোপকথনের ভিত্তিতেই জনকণ্ঠের প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছিল, যার জের ধরে পত্রিকাটির সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে প্রতীকী দণ্ড ও অর্থদণ্ড করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সময় বিচারপতি মানিক এই পদে আসীন হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

এরপর বিচারপতি এসকে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিলে তার শপথ অনুষ্ঠানও বর্জন করেন বিচারপতি মানিক।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত