টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে চোরাই পথে আসা ‘টানা’ মোটর সাইকেলের ছড়াছড়ি

প্রতিনিয়ত বাড়ছে চুরির ঘটনা,অধরা থাকছে গডফাদাররা!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১৩  সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস):: মানিকছড়িতে গত কয়েক বছর থেকে মোটর সাইকেলে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। ফলে এখানকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাশ্ববর্তী ভারতের চোরাই পয়েন্ট দিয়ে অবাধে ‘টানা’ মোটর সাইকেল এনে এলাকা সয়লাব করেছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে গাড়ী চুরির ঘটনা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অধরা থেকে যাচ্ছে গডফাদারসহ চক্রের সদস্যরা। গত ১৮ দিনে প্রশাসনের নাকের ডগা হাজীপাড়া ও উপজেলা পরিষদ কোয়াটার থেকে ৫টি গাড়ী চুরি হয়েছে অনায়াসে!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার তৃণমূল থেকে সড়ক ও মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন ও মালামালা বহনে মোটর সাইকেলের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে এখানকার দু’সহ¯্রাধিক বেকার যুবক এ পেশায় প্রতিদিন শত শত টাকা আয় করে বেকারত্ব দূর করছে। এসবের অধিকাংশ গাড়ী চোরাই পথে আনা। কিন্তু এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র কমদামে গাড়ী ক্রয় করে দেয়ার কথা বলে প্রতিনিয়ত চোরাই পথে ‘টানা’ গাড়ী এনে এলাকা সয়লাব করে ফেলেছে! ফলে এসব গাড়ীর কোন বৈধ ডকুমেন্ট না থাকায় চালকরা গাড়ীগুলোর রেজিট্রেশন করতে পরছেনা । এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি গাড়ী চোরের চক্ররা এখানে সক্রিয় থেকে গাড়ী চুরি করছে। বৈধ ডকুমেন্ট না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থরা মামলা করতে পারছেনা!

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৫/৭ বছরে এ উপজেলা থেকে অন্তত অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেল চুরি হলেও গাড়ী উদ্ধারের নজির নেই! গত ২৩ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এ ১৮ দিনে একই এলাকা হাজীপাড়া ও উপজেলা পরিষদ কোয়াটার থেকে ৫টি গাড়ী চুরি হয়েছে! কিন্তু পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে চট্রগ্রাম শহরের সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সাথে এখানকার সরকার দলীয় বেশ কিছু লোকের সখ্যতা রয়েছে! ফলে একের পর এক গাড়ী চুরি হলেও চোর চক্রের সন্ধানে প্রশাসন সামনে এগুতে পারছেনা। অথচ অভিযুক্তদের অনেকে জেলার বিভিন্ন থানায় ইতিপূর্বে গাড়ী চুরির অপরাধে জড়িত! পরে রাজনৈতিক চাপে সমঝোতার মাধ্যমে মামলা থেকে রেহাই পায়।

সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি মো.মনির হোসেন’র হাজীপাড়াস্থ বাসার গ্রিল এবং উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টার থেকে গ্রিল ভেঙ্গে সরকারি চাকুরীজীবি যুগেশ চাকমা ওরফে বিন্দু চাকমার মোটর সাইকেল চুরি করে নেয় চোরের দলেরা। এ ঘটনায় সাংবাদিক মো. মনির হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামী দিয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিক বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন থানায় মোটর সাইকেল চুরির মামলার আসামীসহ সন্দেভাজন ৪ বখাটে যুবককে আটক করলেও সন্ধ্যার আগেই রাজনৈতিক চাপে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ! এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা অব্যাহত থাকায় পুরো এলাকায় চোরাতংক বিরাজ করছে। বিশেষ করে চুরের দলেরা এখন সাংবাদিকদের গাড়ী টার্গেট করায় সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আতিউল ইসলাম প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটতে থাকলে যে কোন মূহূর্ত্বে প্রাণ নাশের ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে চুরির সাথে কারা কারা সম্পৃক্ত তা রাজনৈতিক নেতারা কম-বেশি জানেন! নিজেদের লোক বলে কেউ প্রকাশ করতে চায় না।

অভিযুক্তদের আটকের পর ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় পুলিশের সমালোচনা চলছে যত্রতত্র। বিষয়টি টের পেয়ে এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে রামগড় সার্কেল মো. ইউনুছ মিয়া মানিকছড়িতে আসেন এবং সাংবাদিক মো. মনির হোসেন’র বাড়ী পরিদর্শণ করে দ্রুত চোর চক্রের সন্ধানে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি থানার ও.সি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখানের অধিকাংশ গাড়ীর ডকুমেন্টপত্র নেই! ফলে কোন গাড়ী চুরি হলে কেউ মামলা করতে আসে না। এ ঘটনায় সাংবাদিক বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সন্দেহভাজন ৪ ব্যক্তিকে আটক করে। কিন্তু তাদের কাছে কোন তথ্য না পাওয়ায় এবং নেতাদের সুপারিশের কারণে আটক ব্যক্তিদের ওপর পুলিশের নজরদারী থাকবে শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া মাত্র তাদের আবার আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মতামত