টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঘনীভূত হচ্ছে ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন

চট্টগ্রাম, ১২  সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস)::  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ওপর আরোপ করা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে সংকট যেন কাটছেই না। দিন যত যাচ্ছে ঘনীভূত হচ্ছে এ সংকট।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তা আরো উস্কে দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী নিজেই।

শিক্ষার্থীদের মতে অর্থমন্ত্রী একেক সময় একেক কথা বলছেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কোনো ভ্যাট দেবে না, দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ’। আবার তিনি গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এ বছর ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। কিন্তু আগামী বছর থেকে এ ভ্যাট দেবে শিক্ষার্থীরা।’

শিক্ষার্থীরা বলছেন, অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্যে আমরা হতাশ। তিনি দায়িত্বশীল পদে থেকে দ্বিমুখী বক্তব্য দিতে পারেন না। আর আমরা এমন কোনো ঘোষণা শুনতে চাই না তার মুখ থেকে, যা কিছুক্ষণ পরে পরে বদলে যায়। আমরা শুনতে চাই, শিক্ষার ওপর থেকে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলে আমাদের আন্দোলনের মাত্রা বাড়াতে বাধ্য করছেন।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফিরোজ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাকি প্রতিদিন জনপ্রতি ১ হাজার টাকা খরচ করি। সে হিসেবে একজন শিক্ষার্থী খরচ করি মাসে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ভাই, আমি নিজে প্রতিমাসে ঢাকায় থাকা-খাওয়া এবং চলার জন্য বাড়ি থেকে ৮ হাজার টাকা আনতাম। গত বছর আমার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে টাকা আনার পরিমাণ হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। আর একটা টিউশনি করে পাই ২ হাজার টাকা। মাসে ৩০ হাজার টাকা খরচ করার সাধ্য আমার নেই। সব থেকে বড় কথা, ৩০ হাজার টাকা খরচ করার স্বপ্নও কোনোদিন দেখিনি। বড়জোর ১০ হাজার টাকা খরচের স্বপ্ন দেখেছি। তাও প্রায় তিন বছর আগে। আমাদের মেসের আটজনের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আমার মতোই। তিনি (অর্থমন্ত্রী) যে কোথা থেকে এমন হিসেব পেয়েছেন, আমরা বুঝতে পারছি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত এ ভ্যাট আলাদা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে না, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি পরিশোধ করবে। তবে তা শুধু এ বছর। অর্থমন্ত্রীর এসব ঘোষণায় আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা আগামীতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব। তাতে যদি আমাদের উপর গুলি চালানো হয়, আমরা সে গুলিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তারপরও আমাদের এই আন্দোলন থামবে না।’

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, কর্তৃপক্ষ ভ্যাট দেবে বলা হলেও ভবিষ্যতে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও টিউশন ফি বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই এটি আদায় করা হবে। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার, কেন অর্থমন্ত্রী তার ওপর ভ্যাট বসাবেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের পড়ালেখা বাদ দিয়ে রাস্তায় নেমে ভিক্ষা করতে হবে।’

নো ভ্যাট অন এডুকেশনের অন্যতম সমন্বয়ক জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী বলেন, ‘অবিলম্বে টিউশন ফির ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য টিউশন ফি নির্ধারণের নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে আমরা লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালন করব। রাস্তায় নয়, নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করব।’

ভ্যাট পরিশোধ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, এ বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, গত বাজেট প্রণয়নের সময় এ ভ্যাটটি টিউশন ফির ওপর আরোপ করা হয়েছিল। এটি নিয়ে অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান, শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। অর্থমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করলেও পরবর্তীতে যা করেছেন তা আমাদের জন্য খুব বেশি ভালো হয়েছে বলে মনে করি না। প্রধানমন্ত্রী ও এনবিআরের ঘোষণার পর এ ভ্যাট এখন শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তাবে না। তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে। তাদের মতে, কীভাবে এ ভ্যাট পরিশোধ করা হবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভ্যাট পরিশোধ করবে কোথা থেকে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত হয়। ভ্যাটের সংজ্ঞা অনুযায়ী যারা সেবা নেয় তারাই ভ্যাট দেবে। সে ক্ষেত্রে সেবা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

মতামত