টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফের বেপরোয়া রেবি ম্যাডাম, হামলায় আহত ১

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুুরো:
উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের অন্যতম হুতা ও জেলার বহুল আলোচিত মানবপাচারের গডমাদার রেজিয়া বেগম প্রকাশ রেবী ম্যাডাম।
রেবি ম্যাডাম উখিয়ার সোনারপাড়া গ্রামের আরেক গডফাদার নুরুল কবিরের স্ত্রী। মানবপাচারের মামলায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দীর্ঘদিন কারান্তরীন ছিল।
ম্যাডামের লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি সোনারপাড়া ইউপি ভবনের পার্শ্ব বর্তি এলাকার আমির হামজার ছেলে। তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে উখিয়া স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক রাহমত উল্লাহ জানান, তার হাত ভেঙে গেছে। শরীরের অরো কয়েক জায়গায় আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, রেবী ম্যাডাম, স্বামী নুরুল কবির এবং ছেলে রেজাউল করিম জুয়েলসহ একদল সন্ত্রাসী দা-ছুরি আর লাঠি দিয়ে আব্দুর রশিদের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের উপর্যুপুরি আঘাতে তার বাম হাত ভেঙ্গে যায়।
উখিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান জানান, মানবপাচার মামলায় রেবি ম্যাডাম পলাতক ছিল। শুনেছি উচ্চ আদালত থেকে আদেশ নিয়ে এসেছে। তবে কাউকে হামলা করে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি রেবি ম্যাডাম ও তার স্বামী নুরুল কবির মানবপাচারের মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের আগাম জামিন নিয়ে আসেন। এরপর থেকে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরাঘুরি করতে থাকে।
স্থানীয়রা জানায়, জামিন নিয়ে এসে তারা প্রকাশ্যে হাকাবকা করছে। মানবপাচার বিরোধী লোকজের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
২০১৪ সালের ১৮ জুলাই সোনারপাড়া বাজারে মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির মাবনবন্ধনের পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়ায় মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারী আবদুল হামিদকে রেবি ও তার স্বামী নুরুল কবির তাকে জানে মেরে ফেলার ও বিভিন্ন মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়।
এর দুইদিন পর তার মেয়ে শারমিন নূরী পাপিয়াকে ভিকটিম সাজিয়ে আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
এ ছাড়া ২৩ নভেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী জামিনে মুক্তি পায়। কিন্তু রেবী ম্যাডাম সেই দিনও জামিন পেয়ে তার ছেলেসহ একাধিক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে আব্দুল হামিদের দোকানে হামলা করে তাকে রক্তাক্ত করে দেয়।
এমন কি তার দোকানের মালামাল লোটপাট করেনিয়ে যায়। এর পর তার এহেন আচরণে খোদ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আবারো ম্যাডাম রেবিকে ২১ জানুয়ারী ফের গ্রেপ্তার করেন। কিন্তু তার অবৈধ টাকার গরম হাওয়ায় বেশিদিন জেলে থাকতে হয়নি।
১০ ফেব্রুয়ারী আবার জামিনে বের হয়ে দাপুটের সাথে বিভিন্ন করে গাঁ ঢাকা চলে যায় আত্মগোপনে।

মতামত