টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘ভবন ভাঙ্গার বর্জ্য ব্যবহার করা গেলে নির্মাণ খরচ অনেক কমে যাবে’

সার্দান ইউনির্ভাসিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিনারে আলী আশরাফ

Civil-seminar-pic2চট্টগ্রাম, ১০ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : সার্দান ইউনির্ভাসিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগের উদ্যোগে “বিল্ডিং ভাঙ্গার বর্জ্য দিয়ে তৈরি কনক্রিটের কম্প্রোসিভ শক্তির উপর লোনাজলের প্রভাব” শীর্ষক সেমিনার সম্প্রতি বিভাগীয় সেমিনার রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রধান অধ্যাপক (ইঞ্জিনিয়ার) এম. আলী আশরাফের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাশেদুল হক । সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীবৃন্দসহ শিক্ষার্থীরা ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার এম.আলী আশরাফ বলেন, যদি ভবন ভাঙ্গার বর্জ্য ব্যবহার করা যায় তাহলে নির্মাণ খরচ অনেক কমে আসবে, তাছাড়া এসকল বর্জ্যগুলো লোকজন নালা নর্দমায় ফেলে নালা নর্দমা ভরাট করে এবং পরিবেশ দূষণের কারণ হয়। ভবন ভাঙ্গার এই বর্জ্যগুলোকে যদি লাভজনক ভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে আমাদের নগর সমূহের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এবং আর্থিক সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের প্রতিটি নির্মাণ কাজে মূল বেস/ ফাউন্ডেশন করার আগে লিন সিমেন্ট কনক্রিট দিয়ে দুই থেকে তিন ইঞ্চি পুরত্বের লেয়ারটি অত্যন্ত সহজেই ভবন ভাঙ্গার বর্জ্য দিয়ে নির্মাণ করা যায়। এতে খরচ অনেক কমে যায়।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়-বাংলাদেশের বৃহত্তর দুটি শহর চট্টগ্রাম ও খুলনা সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত যেখানে সাগরের লোনা পানির অনুপ্রবেশ কনক্রিটের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই সমস্ত এলাকায় নির্মিত স্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং স্থায়িত্ব হারাচ্ছে। পুরাতন স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার পর প্রাপ্ত বর্জ্য কোনো লাভজনক কাজে ব্যবহার হচ্ছে না। এই সমস্ত ভবন ভাঙ্গার বর্জ্য উপকূল এলাকায় নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যাবে যদি লোনা পানিতে কিউরিং করার পর গ্রহণযোগ্য পরিমাণ শক্তি প্রদর্শন করে। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাশেদুল হক তার গবেষনায় কনক্রিটের কম্প্রেসিভ শক্তির উপর ভবন ভাঙ্গা বর্জ্যরে শতকরা পরিমাণ, কিউরিং সময়কাল এবং লোনা পানির পার্সেন্টেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন। এখানে গবেষক ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হক তার গবেষণায় দেখাতে চেয়েছেন, উপকূলীয় পরিবেশে ঢালাই কাজ সম্পাদন করার পর লোনা পানি দিয়ে যদি কিউরিং করা হয় তাহলে কনক্রিটের ভারবহন ক্ষমতা কি পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। এই লোনা পানির সাথে ঢালাই কাজের সর্ম্পক যদি সর্বোচ্চ ২৮ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা যায় এবং ভবন ভাঙ্গার বর্জ্য যদি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা যায় তাহলে এভাবে নির্মিত কনক্রিট দিয়ে স্বাভাবিক কনক্রিটের ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি অর্জন করা যায়।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত