টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনা: নিজ গ্রামেই চিরনিন্দ্রায় শায়িত ফরহাদ ও আকতার

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-Uaeddচট্টগ্রাম, ০৮ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময় নিজ গ্রামে এসে পৌছেছে আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই হতভাগ্যা প্রবাসি মো.ফরহাদ ও আকতার হোসেনের লাশ। আগামিকাল আসার সম্ভবনা রয়েছে মো.ইলিয়াছের মরদেহ।

জানাযায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার সময় বিমান যোগে নগরীর শাহ আমানত বিমান বন্দরে রাউজাানের ফরহাদ ও হাটহাজারীর আকতার হোসেনের লাশ দেশে আসার পর পৃথকভাবে দুই জনের লাশ রাউজানে ও হাটহাজারীতে এসে পৌছেছে। তবে নিহত মো.ইলিয়াছ এর লাশ দেশে আসছে কাল বুধবার।

আপনজনদে লাশ আসা মাত্রই স্বজনদের কান্নায় এক শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপজেলার রাউজান ইউনয়নের আবু জাফর চৌধুরী পুত্র মো.ফরহাদ (২৭) যেখানে চলতি মাসের ১৭ তারিখ দেশে এসে বিয়ে করার কথা সেখানে পিতা মাতা আজ চিরবিদায় দিয়েছেন অশ্রুসিক্ত নয়নে। তাদের কান্নায় পুরো এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

মা বাবার এই কান্নায় কেঁদেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। একইদিন নামাজে জানাযা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অন্যদিকে এই ঘটনায় নিহত হাটহাজারী উপজেলার দলই ইউনিয়নের হাদুরখিল গ্রামের মৃত আবদুল হালিমের পুত্র আকতার হোসেন (৪০) স্বজনদের আহাজারীতে বরন করে নিল। স্ত্রী বিলকিছ আকতার ও আলফা ও আফরিন নামে দুই সন্তানের কান্না যেন থামছেই না।

এছাড়াও এই দুর্ঘটনায় নিহত মো.ইলিয়াছের ভিসা ক্যানসেল করতে সময় ক্ষেপন হওয়ায় আজ বুধবার দেশে আসছে ।

এদিকে হতভাগ্য নিহত ফরহাদের বড় ভাই মুহাম্মদ এরশাদ ও নিহত আকতার হোসেনের ছোট ভাই মুহাম্মদ রহমত আলী লাশের সাথে দেশে এসেছেন।
শেষবারেরমত চিরবিদায় দিতে সকাল থেকেই ফরহাদ ও আরমানের গ্রামের বাড়িতে ভীড় জমায় পাড়া প্রতিবেশি ও নিকট আত্মীয়রা। এতে সার্বক্ষণিক খবরা খবর নিচ্ছেন। কখন দেশে এসে পৌছাবে আপনজনদের লাশ অবশেষে ৬টার সময় বিমান বন্দরে এসে পৌছালে নিকট আত্মীয়রা মরদেহ গ্রহন করে গ্রামে এসে পৌছান সাড়ে ১১টার সময়।

মরদের দেশে আসার আগ থেকেই প্রতিবেশিরা দাফনের প্রয়োজনী ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার রাউজান ইউনয়নের আবু জাফর চৌধুরী পুত্র মো.ফরহাদ (২৭) এ মাসের ১৭ তারিখ দেশে এসে বিয়ে করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস বিয়ের পরিবর্তে তিনি দেশে আসছেন চিরনিন্দ্রায় শাহিত হওয়ার জন্য। বলেই বার বার কাদছে বৃদ্ধ পিতা আবু জাফর চৌধুরী ও মাতা মনোয়ার বেগম। নিহতের চাচাতো ভাই ও রাউজান ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাাদক মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ফরহাদ খুবই ভাল ছেলে ছিল। আলইনে নিজ কর্মস্থলে শ্রমিক নিয়ে যাওয়ার সময় সে চালক হিসেবে ছিল। দুর্ঘটনা কবলিস্থানেই তিনি প্রাণ হারান। তবে নিহতদের লাশ দেশে দ্রুত আনার জন্য এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বিদেশে অবস্থানরাত দুতাবাশ ও উপজেলার বাসিন্ধাদের সহযোগিতার জন্য বলেছেন বলে তিনি জানান।

এই ঘটনায় নিহত আকতার হোসেন (৪০) হাটহাজারী উপজেলার দলই ইউনিয়নের হাদুরখিল গ্রামের মৃত আবদুল হালিমের পুত্র। স্ত্রী বিলকিছ আকতার ও আলফা ও আফরিন নামে দুই সন্তান রয়েছে।

অন্যদিকে ভিষাজটিলায় আগামিকাল ইলিয়াছের লাশ দেশে আসতে দেরি হওয়ায় চরম চিন্তায় রয়েছেন তার পরিবার। নিহত ইলিয়াছের স্ত্রী নুর নেছার দুই ছেলে ও ১ মেয়ে ছিল। সে নিজে তেমন লেখা পড়া করতে না পারলেও পড়া লেখার প্রতি ছিল তার বেশ আগ্রহ যার কারনে ছেলে মেয়েকে লেখা পড়া করতে চলে আসেন কুয়াইশে। বর্তমানে অক্সিজেন রোডের গোয়ালের ঘাটা এলকাার মনছুর বিল্ডিংয়ের নিজ তলায় বসবাস করছেন স্ত্রী ও তিন সন্তান। এদের মধ্য বড় সন্তান এজাজ মো.আকিব (১৭) কুয়াইশ সম্মিলিত উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র, মেঝ ছেলে সুরাত মাহমুদ আবিদ (১৩) একই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। আর একমাত্রা মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৬) ১ম শ্রেণীতে লেখা পাড়া করছেন।

উল্লেখ্য গত বুধবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর আল আইন রোডের আল খাজনাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশী নিহত ও ২ বাংলাদেশী গুরুতর আহত হয়। এতে নিহত ও আহতরা সবাই চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারীর।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত