টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্লাবনে ভেসে গেল মৎস্য প্রেমিক এরশাদের স্বপ্ন

দেড় কোটি টাকার ক্ষতি, কপাল পুড়েছে শতাধিক মৎস্য কর্মীর

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Rangunia-fish-pic-চট্টগ্রাম, ০৮ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) :  বর্ষা শেষে ৩০টি পুকুরের মৎস্য প্রকল্পের মাছ বিক্রি করে বিশাল মৎস্য প্রকল্প গড়ে তুলবেন এরশাদ। বুক ভরা আশা নিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন মৎস্য খামার। কিন্তু গত মাসের বন্যায় তার সব স্বপ্ন ভেসে গেছে। প্রবল বর্ষন ও আর পাহাড়ী ঢলে পুকুর ডুবে সব মাছই চলে গেছে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস গ্রামের মৎস্য প্রেমিক এরশাদ নতুনভাবে স্বপ্ন দেখছেন আবার পুরো উদ্যমে কাজ শুরু করবেন। কিন্তু কোটি টাকার ক্ষতির দুঃস্বপ্ন তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে। কপাল পুড়েছে শতাধিক মৎস্য কর্মীর।

জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত সফল চাষী এরশাদ মাহমুদের সফলতা : চট্টগ্রামে মৎস্য চাষে সফলতার জন্য ২০১৩ সালের আগষ্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার ও ২০১২ সালে জেলা পর্যায়ে ও ২০১১ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষীর পুরস্কার লাভ করেন। মৎস্য চাষের পাশাপাশি তিনি মহিষ ও গবাদী পশু পালন করেন। ফলজ বাগানে তার ২ হাজারেরও বেশী রয়েছে লিচু গাছ। এ বছর তার বাগানের লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। দশ লক্ষাধিক টাকার উপরে তিনি লিচু বিক্রি করেছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার বাগানের সুস্বাদু লিচু রপ্তানি করা হয়েছে। লিচু বাগানের পাশাপাশি তার রয়েছে বিশাল আম বাগান ও আনার বাগান। পদুয়ার পাহাড়ী অঞ্চলে রয়েছে তার শতাধিক একর রাবার ও আগর বাগান।

এরশাদের মৎস্য প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় তিনি তার পুকুরের পাড় মেরামতের কাজ করছেন। তার সাথে কথা হয় তিনি জানান, তার ৩০ টি পুকুরের মধ্যে ২৫ টি পুকুরের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে। যা মেরামত করতে ৫০ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন হবে। পুকুর ডুবে ভেসে গেছে কার্প জাতীয় মাছ রুই , মৃগেল, কাতলা, নাইলোটিকা, কালিগনি, ব্ল্যাক কার্প, চিংড়িসহ ১৫ প্রজাতির মাছ। যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার উপরে। তিনি আরো জানান, শাকিলা পাহাড় এলাকায় ৪টি পুকুরের বিশাল মৎস্য প্রজেক্ট। এ মৎস্য প্রকল্পে ৩৫ কেজির উপরে এক একটি ব্ল্যাক কার্প রয়েছে। এ পুকুর থেকে প্রায় ৪০ টি মাছ পুকুর ডুবে পানিতে ভেসে গেছে।

রাঙ্গামাটি কলেজ থেকে ¯œাতক পাশ করা এরশাদের স্কুল জীবন থেকে মাছ চাষ, কৃষি, গবাদি পশু পালন ও বনায়নের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল। তিনি বলেন , গ্রামের মাটি আর প্রকৃতি তার অন্তরে গেঁথে রয়েছে। বেশ কয়েক বছর তিনি শহরে থাকলেও মাটির টানে তিনি আবার ছুটে আসেন গ্রামে।

মৎস্য প্রকল্পের ব্যবস্থাপক টিটু বড়–য়া জানান, তার প্রকল্পের ১২০ জন কর্মচারী রয়েছে। কর্মচারী থাকলেও তিনি নিজের হাতে মাছকে খাবার দেন। মায়ের মমতার মতো পুকুরের বেড়ে উঠা মাছ তিনি খেতে চান না। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় চাষীদের চাষাবাদের জন্য পুকুর থেকে তিনি বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করেন। ফলজ বাগান ও মৎস্য প্রকল্পের লাভের অংশ থেকে তিনি স্থানীয় গরীব ছাত্রছাত্রীদের বই, খাতা, কলম ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করেন। এবছরের শুরুতে গরীব শিক্ষার্থীদের ৮০ হাজার টাকার শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করেন বলে তিনি জানান।

পদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সেলিম, মাছ চাষে এলাকার যুব সমাজের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করলেও সম্প্রতি বন্যায় তার মৎস্য খামার লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ক্ষতি হয়েছে কোটির টাকার উপরে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল আলম জানান, সম্প্রতি টানা বর্ষনে রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের মৎস্য খামারীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকার এরশাদের ৩০টি মৎস্য প্রকল্পের পুকুর পানিতে ডুবে সব মাছ ভেসে গেছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, মৎস্য প্রেমিক এরশাদ মাহমুদ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত বন্যায় তার মৎস্য প্রকল্পে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে যা পরিদর্শন করেছি। প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা প্রদানে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করেছে।

সাবেক মন্ত্রী রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ ড. হাছান মাহমুদ এমপি পদুয়ার দশমাইল ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, রাঙ্গুনিয়ায় প্রবল বর্ষন ও বান্দরবান থেকে বয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে মৎস্য উদ্যোক্তা এরশাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যা পুষিয়ে উঠা তার পক্ষে কোনোভাবে সম্ভব নয়। সরকারিভাবে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

মতামত