টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে বিশেষ আইন-শৃংখলা বৈঠক

স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠির অপতৎপরতা ও ভূমি বিরোধকে ঘিরে পাহাড়ী-বাঙ্গালীর আস্থা সংকট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি

kkচট্টগ্রাম, ০৭ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : সম্প্রতি মানিকছড়ি ও রামগড়ের নির্জণ জনপদ উত্তর ও দক্ষিণ হাফছড়ি, ওয়াকছড়ি, ফকিরনালা, বকড়ী পাড়া, লাফাইদং, চইক্কাবিল ও মলঙ্গীপাড়ায় পাহাড়ী-বাঙ্গালীর দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির বন্ধনে ছায়া পড়তে শুরু করেছে ! এক সময় এ জনপদে বসবাসকারীরা একে-অপরের প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনের মতো চলফেরা, উঠাবসা, মিল-মহব্বতের কমতি না থাকলেও এখন দু’মেরুতে ওদের অবস্থান। এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত একটি মহল স্থানীয়দের ভূমি সমস্যাকে জটিল করে তুলে এবং উভয় সম্প্রদায়ের সম্প্রীতিতে ফাটল ধরাতে সুদূর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জনপ্রতিনিধি ও অভিজ্ঞমহল। ফলে প্রশাসন গতকাল সোমবার বিশেষ আইন-শৃংখলা বৈঠকের মাধ্যমে তৃণমূলে বসবাসরতদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তৃণমূলের শান্তি কমিটি গঠনসহ জনপ্রতিনিধিদেরকে সচেতন হওয়ার আহব্বান জানানো হয়েছে বৈঠকে।

জানা গেছে, সম্প্রতি সময়ে মানিকছড়ি ও রামগড়ের নির্জণ জনপদ উত্তর ও দক্ষিণ হাফছড়ি, ওয়াকছড়ি, ফকিরনালা, বকড়ী পাড়া, লাফাইদং, চইক্কাবিল ও মলঙ্গীপাড়ায় পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির বন্ধনে একটি স্বার্থান্বেষী ফাটল ধরাতে চেষ্ঠা করছে। প্রতিবেশি পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মাঝে ছোট-খাট ঘটনাকে উচকে দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে এক অপরের মাঝে দ্বন্দ্ব, সংঘাতে লেলিয়ে দিতে কাজ করছে এ অঞ্চলের ত্রাস উপজাতি সশস্ত্র গ্রুপ! ফলে গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে একাধিক ঘটনায় এ অঞ্চল এখন বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা! পাহাড়ী-বাঙ্গালীরা দু’মেরুতে অবস্থানের কারণে তারা পড়েছে আস্থা সংকটে। ফলে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে উপজেলার বকড়ীপাড়া ও দক্ষিণ হাফছড়িতে পরিত্যক্ত ভূমিতে সৃজিত বাগ-বাগিচা পাহাড়ায় বাঙ্গালী কর্তৃক খামার তৈরি ও মারমা কর্তৃক মন্দির নির্মাণকে ঘিরে শুরু হয় উত্তেজনা সূত্রপাত। প্রশাসন বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলেও অজ্ঞাত কারণে উপজাতিরা তাতে মন খুলে সাড়া দেয়নি। স্বার্থান্বেষী গোষ্টির ইন্দনে সমস্যাটি জটিল রুপ দিতে উপজাতি ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে ইউপিডিএফ সাধারণ জনগোষ্টিকে নিয়ে নেমে আসে রাজপথে। ইউপিডিএফ সাধারণ গ্রামবাসীকে জিন্মি করে প্রযোজনে- অপ্রয়োজনে আস্থা সংকট সৃষ্ঠিতে ইন্দন দিচ্ছে এমন অভিযোগ এনে বাঙ্গালীরাও পাল্টা ভূমি রক্ষা কমিটি গঠন করে নেমে আসে আন্দোলনে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। এক পর্যায়ে হাফছড়ির নির্জণ এলাকা থেকে ৩ কৃষিজীবি বাঙ্গালী পরিবারকে ঘর-দরজা ভেঙ্গে এবং লুট-পাট চালিয়ে উচ্ছেদ করে সন্ত্রাসীরা।

ফলে প্রশাসন বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে একাধিকবার শান্তি মিটিং ও আইন-শৃংখলা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্ঠা করে ও ব্যর্থ হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে মলঙ্গীপাড়ার অদূরে লাফাইদং পাড়ায় বৃদ্ধ কৃষক আবদুল মতিনকে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ফলে আবারো অশান্ত হতে থাকে এলাকা। এরই সূত্রপাতে উপজাতি সন্ত্রাসীগোষ্টি ইউপিডিএফকে দায়ী করে বাঙ্গালীরা। পরদিন নির্জণ জনপদ লাফাইদংপাড়ায় সন্ত্রাসীদের তাড়া করতে গিয়ে বাঙ্গালীরা নিরীহ উপজাতিদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪ ব্যক্তি আহত হয়। এ ঘটনায় উপজাতিরা ঘর-বাড়ী ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে গিয়ে রাত্রী যাপন করে। ফলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এলাকায় স্থায়ী ফিরিয়ে আনতে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার উপজেলা পরিষদ হল রুমে ইউএনও’র সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয় বিশেষ আইন-শৃংখলা বৈঠক। এতে প্রধান াতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মো. আবদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ম্্রাগ্য মারমা, ভাইস চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম(বাবুল), রাহেলা আক্তার, এ.এস.পি রামগড় সার্কেল মো. ইউনুছ মিয়া, সহকারি কমিশনার(ভূমি) মো. দিদারুল আলম, সাবজোন কমান্ডার ল্যাপ্টেনেন্ট মো. জিয়া উদ্দীন, ও.সি মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, মো. শহিদুল ইসলাম মোহন,ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোশারফ হোসেন, আবদুর রব, দীপক চক্রবর্তী, লাব্রেঅং মারমা, পপি তালুকদার, শাহেনা আক্তার, শিউলি আক্তার প্রমূখ।

বৈঠকে জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, এ অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে পাহাড়ী-বাঙ্গালীরা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। সুখে-দুঃখে, উৎসবে আমেজে একে অপরের পাশে রয়েছে আত্মার বন্ধন হয়ে। নিজেদের সৃষ্ঠ সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি ও পাড়া প্রধানরা নেতৃত্ব দিয়ে সুরাহা করছে সব। কিন্তু কালের আর্বতে আজ উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে আস্থা সংকট তৈরি করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। নির্জণ অরণ্যে সন্ত্রাসীরা নিরীহ পাহাড়ী কিংবা বাঙ্গালী সবাইকে অস্ত্রের মূখে জিন্মি করে আদায় করছে কোটি কোটি টাকা চাঁদা। আর এসবে সংগৃহিত অস্ত্রে মহড়া দিচ্ছে জনপদে। উপজাতিদেরকে দেখাচ্ছে আকাঁশকুসুম স্বপ্ন!

পরে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এখানকার সম্প্রতিকালের সমস্যা নিয়ে প্রথমে জনগণকে সচেতন করতে হবে। গুজবে কান না দিয়ে নিজেদের ভূল-ত্রুটি অতীতের ন্যায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহায়তায় সুরাহা করতে হবে। স্বার্থান্বেষীগোষ্টির দেখানো স্বপ্নে লিপ্ত হলে নিজেরাই ধ্বংস হতে হবে। ভূমি সমস্যার স্থায়ী সসমাধানে প্রশাসন কাজ করছে দ্রুতগতিতে। সবাইকে ধৈর্য ধরে পারস্পরিক আস্থা স্থাপনে এগিয়ে আসলে সংকট কেটে যাবে। প্রশাসন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি দ্রুত তৃণমূলে শান্তি কমিটি গঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে স্থানীয়দের মাঝে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস স্থাপনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহব্বান জানিয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত