টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘কিছুতেই থামছেনা ফাবিয়ার কান্না’

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Meherun-Photoচট্টগ্রাম, ০৭ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) :  ‘বাবা প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় আদরের একমাত্র সন্তানের জন্য চিপস নিয়ে আসেন। প্রথমে ঘরে প্রবেশ করে দেখে তার সন্তান জেগে আছে নাকি ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমিয়ে গেলে আর তাকে জাগ্রত করেনা। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে বাবা নিয়ে আসা চিপস ফাবিয়ার হাতে দিতেই হবে। এটা যেন তার নিয়মে পরিনত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতেও দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার সময় মেয়ের জন্য চিপস নিতে ভুলেননি বাবা মেজবা উদ্দিন ভূঁইয়া। কিন্তু বিধিবাম সে চিপস নিয়ে বাড়ি যেতে পারেনি। সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাড়ির অদুরে খুন হন ব্যবসায়ী মেজবা উদ্দিন। বাড়ির রাস্তায় পড়ে রয়েছে মেয়ের জন্য নেয়া চিপসটি।’ এ কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মেজবার ভাই নুর নবী। নুরনবী বলেন, ভাই মারা যাবার পর থেকে ফাবিয়ার শুধু কান্না করছে। কেউ তার কান্না থামাতে পারছেনা। হয়তো সে বোঝেনি, তার বাবা নেই। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে কি এমন প্রশ্ন জাগবে না, ‘ কেন আমার বাবাকে অকালে মরতে হল ?’ হয়তো উত্তর মিলবে অথবা মিলবে না, কিন্তু ফাবিয়ার জীবনে বাবা তো আর ফিরে আসবে না।

ফাবিয়ার মা ফাতেমা কানিজ সীমার আহাজারিতে কিছু প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, ‘কেন আমার স্বামীকে নির্মমভাবে খুন করা হল, কি অন্যায় ছিল তাঁর ? আমার অবুঝ মেয়েটি কাকে বাবা বলে ডাকবে ?’

রবিবার ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকাল ৫ টা। শতশত মানুষের সমাগম মলিয়াইশ স্কুল মাঠে। যে স্কুলে পড়া-শুনা করেছেন মেজবা। সবাই যখন জানাযা পড়ার জন্য স্থির হলো তখনই কানে ভেসে আসছে কান্নার ধ্বনি। এলাকার পরোপকারী ছেলেটিকে হারিয়ে কাঁদছে সবাই।

নিহত মেজবাহ’র মায়ের গগনবিদারী কান্না আর আহাজারিতে চারদিক ভারি হয়ে উঠেছিল। ঘরের মেঝেতে বসে বুক চাপড়িয়ে কেঁদে কেঁদে বার বার মুচ্ছা যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘তারা (খুনিরা) টাকা পয়সা নিয়ে যেতো কিন্তু আমার নিরীহ বুকের ধনকে মেরে ফেললো কেন ?’

নিহত মেজবার স্ত্রীর বড় ভাই শওকত আকবর সোহাগ বলেন, ‘এভাবে অকালে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হবে বিশ্বাস হচ্ছে না। এখন আমার বোন ও আড়াই বছরের ভাগনির কি হবে বুঝতে পারছি না।

গত শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের সাধুর বাজার টেক্সী ষ্ট্যান্ড থেকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী মেজবা উদ্দিন ভূঁইয়া (৩২)। নিহত মেজবাহ উদ্দিন মধ্যম মলিয়াইশ গ্রামের আজিজ উল্যা ভূঁঞা বাড়ির মৃত জামাল উল্লাহ ভূঁঞার ছোট ছেলে। ওই বাজারে নিজস্ব মালিকানাধীন ভূঁইয়া মার্কেটে তার মুদি দোকানের পাশাপাশি রয়েছে মেসার্স ভূঁইয়া মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রয়েছে ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসাও।

‎মিঠানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের ভূঁইয়া বলেন, মেজবা পরোপকারী। অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তো সে। কিন্তু এমন একটি ছেলেকে সন্ত্রাসীরা কেন খুন করলো বুঝতে পারছিনা। তিনি প্রশাসনের কাছে হত্যাকারীদের চিহিৃত করে শাস্তির জোর দাবী জানান।

এদিকে মেজবা হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী ফাতেমা কানিজ সীমা বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪জন সহ মিরসরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত (সোমবার দুপুর পর্যন্ত) কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ এমকে ভূঁইয়া বলেন, মেজবা হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করছি না। ঘটনায় জড়িতদের শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত