টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মেয়র নাছিরের ১৬৩২ কোটি টাকার প্রথম বাজেট

nasirচট্টগ্রাম, ০৭ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য ১ হাজার ৬৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণা করে মেয়র আ জ ম নাছির বলেছেন ঘোষিত বাজেটের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারবেন তিনি।
একই সঙ্গে গত অর্থ বছরের ৪৩২ কোটি টাকার সংশোধিত বাজেটও পেশ করেন মেয়র। যদিও গত অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন (সোমবার) দুপুরে করপোরেশনের কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে তার ৫ বছর মেয়াদের প্রথম এ বাজেট ঘোষণা করেন।

অর্থবছরের দুই মাসের বেশি অতিকান্ত হওয়ার পর এই বাজেট ঘোষণা করা হলো। বেলা এগারোটায় সাংবাদিকদের সামনে এই বাজেট উপস্থাপনের কথা থাকলেও তা উপস্থাপন করা হয়েছে পৌনে তিন ঘন্টা পর বেলা পৌনে দুইটায়।

মেয়রের দায়িত্ব গ্রহন সংক্রান্ত জটিলতার কারনে বাজেট ঘোষণা দুইমাস বিলম্ব হয়েছে।

সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপনের আগে নিয়ম অনুযায়ী মেয়র আ জ ম নাছিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের সংক্ষিপ্ত বিশেষ সাধারন সভায় বাজেট অনুমোদন করা হয়।

গত অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ছিলো ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এ বছরের বাজেট গত বছরের চেয়ে ৪৩৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেশি।

চলতি অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি আয় ধরা হয়েছে উন্নয়ন অনুদান খাতে যার পরিমাণ ৯৭২ কোটি টাকা।

নগরীকে মেগাসিটি হিসেবে বাস্তবায়নের টার্গেট নিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরীকে গ্রীণ ও ক্লিন সিটিতে পরিণত করতে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে বাজেট অধিবেশনে জানান মেয়র।

বাজেট বক্তেব্যে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, “ধরাবাধা গন্ডির মধ্যে না থেকে নাগরিকদের জন্য মেগাসিটির সুবিধা নিশ্চিত করতে যা করনীয় তা করা হবে।”

“চট্টগ্রাম হবে ক্লিন এন্ড গ্রীন সিটি, প্রথম ধাপে ক্লিন এবং পরবর্তী ধাপে গ্রীন সিটি করা হবে, উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮৫কোটি ১০লক্ষ টাকা, এরমধ্যে সর্বেোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে জলাবদ্ধতা খাতে।

এই প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, “আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসন খাতে ২৭৫ কোটি টাকা, এরপর পরিচ্ছন্ন খাতে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হযেছে ৩০কোটি টাকা, এছাড়াও অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা আলোকায়ণ খাতেও উল্লেখ যোগ্য পরিমান বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”

“জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা হলেও তা নিরসন কঠিন কিছু নয়. মাষ্টারপ্লান অনুযায়ী খাল ও নালাগুলো উদ্ধার করে গভীরতা বৃদ্ধি করলে তেমন জলাবদ্ধতা থাকবেনা, সবগুলো খাল জরিপ করা হবে, প্রয়োজনে নতুন মাষ্টার প্লান প্রণয়ন করা হবে, বাজেট বক্তেব্যে উল্লেখ করেন মেয়র নাছির।

নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে এই বিভাগকে ঢেলে সাজানো হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদেরকে অবশ্যই নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হবে।

সিটি করপোরেশনের শিক্ষা বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি গঠনে করপোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষার উপর বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

বাজেটে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে ৬শ ২১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে কর খাতে আয় ধরা হয়েছে ৪শ ৮১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশনের আয় প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, নাগরিকদের দেওয়া করই করপোরেশনের আয়ের প্রধান উৎস্য, জনগনের উপর কর বৃদ্ধি না করে জনসচেতনতা সৃস্টির মাধ্যেমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে হবে।”

রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর দাতাদের হয়রানি রোধ এবং দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক বোঝাপড়ার উপর গুরুত্ব দেন মেয়র নাছির। একই সাথে কর আদায়ের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।

সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ২৬১ একর জায়গা অব্যবহৃত পড়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ভুমির সর্বোত্তম ব্যবহর নিশ্চিত করে করপোরেশনের আয় বৃদ্ধি করা হবে, এরজন্য অগ্রাধিকার দিয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

নগরীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র আ জম নাছির বলেন, সমন্বয় ছাড়া কাংক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়, সরকারি , আধা সরকারি এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় করা গেলে চট্টগ্রামের দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব।

বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন কালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিটি করপোরেশেনের অর্থ ও সংস্থাপন স্টন্ডিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আলম, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম, তিন প্যানেল মেয়র এবং কাউন্সিররবৃন্দ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত