টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলাদেশ সফরের আগে মহাসঙ্কটে অস্ট্রেলিয়া

spচট্টগ্রাম,৬ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : এমন অবস্থায় বুঝি আগে কখনই পড়তে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে; বাংলাদেশ সফরের আগে ঠিক যেমন সঙ্কটে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ানরা। আগামী অক্টোবরে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এই সিরিজের আগে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়তে গিয়ে মহাসঙ্কটেই পড়েছে ক্রিকেটের অন্যতম এই পরাশক্তি। এই সঙ্কট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ওপেনার ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ইনজুরি।

শনিবার রাতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আঙ্গুলে আঘাত পেয়ে ৬ সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছে ওয়ার্নারকে। ফলে বাংলাদেশ সফরে তিনি থাকছেন না, তা একপ্রকার নিশ্চিতই। ফলে টেস্ট দলে নতুন একজন ওপেনার, সঙ্গে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তেমন একজন ব্যাটসম্যানকে নির্বাচন করতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে। আর তা করতে গিয়েই সমস্যা বাড়ছে। কেননা, এমনিতেই সদ্য অবসর নেওয়া আরেক ওপেনার ক্রিস রজার্সের রিপ্লেসমেন্ট খুঁজতে হচ্ছে। এর পর আবার ওয়ার্নারের ইনজুরির কারণে এখন নতুন করেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে খুঁজতে হচ্ছে।

এদিকে, রবিবার টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বসেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। এতদিনের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অবসর নেওয়ার পর স্টিভেন স্মিথকেই নেতৃত্ব দিতে হবে বাংলাদেশ সিরিজে। বর্তমানে দলের সেরা ব্যাটসম্যানও তিনি। ফলে বাংলাদেশ সফরে স্মিথের ওপর বাড়তি চাপ থাকছে। দলের সঙ্গে সফরে না থাকার সম্ভবনা রয়েছে দুই অভিজ্ঞ পেসার মিচেল জনসন ও জোস হ্যাজলউডের। সব মিলিয়ে তাই ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী একটি স্কোয়াড তৈরি করতে গিয়ে এই মুহূর্তে খানিকটা বেসামাল অবস্থায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ যেমন সত্যিই বাঘের মতো প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করছে; তাতে করে যেমন তেমন দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসার চিন্তাও করা সম্ভব নয় অস্ট্রেলিয়ানদের পক্ষে।

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটারের অভাব নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাপট দেখানোর মতো অগণিত ক্রিকেটারই রয়েছে দেশটিতে। এমনকি মেধাবী ক্রিকেটারদের ভিড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে না পেরে অনেক দাপুটে খেলোয়াড়কেও তড়িঘড়ি জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে পর্দা টেনে দিতে হয়, যে কারণে কখনই কোনো সিরিজের ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচকদের এতটা ভাবতে হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ সফরের আগে তাদেরও মাথা খাটাতে হচ্ছে খুব বেশি।

বর্তমানে ওয়ানডে দলের ওপেনার জো বার্নসের বাংলাদেশ সিরিজে দলে সুযোগ পাওয়া একপ্রকার নিশ্চিতই। তবে তিনি কোথায় ব্যাট করবেন তা ঠিক করতে গিয়ে অসি নির্বাচকদের ভাবনায় পড়তে হচ্ছে। এদিকে, প্রায় নতুন একটি টেস্ট দল গড়তে গিয়ে ক্যামেরন বেনক্রফট ও শন মার্শের ব্যাটিং পজিশন নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাশেজ সিরিজে মার্শের বাজে পারফরম্যান্সও দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, ডেভিড ওয়ার্নারের মতো একজন অভিজ্ঞ সহ-অধিনায়ককে হারানোও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে। কেননা, তরুণ অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে মাঠে যোগ্য সহায়তা করতে পারবেন তেমন বিকল্প একজন সহ-অধিনায়ক এই মুহূর্তে পাইপলাইনে তেমন একটা নেই। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াগুলোর দেওয়া সংবাদ অনুযায়ী, ভারত সফরে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া উসমান খাজাকেই ওয়ার্নারের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। কারণ, দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংটাও ভাল করতে পারেন খাজা। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের বাকি ৩ ম্যাচে অ্যারোন ফিঞ্চকে ওয়ার্নারের বদলি হিসেবে দলে ডাকা হয়েছে।

অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনের আকস্মিক অবসর নেওয়ার (রবিবার) কারণেও টপঅর্ডারে ব্যাটিং ভারসাম্য রক্ষা করার বিষয়ে সমস্যায় পড়ছে অস্ট্রেলিয়া। আর ভারতীয় উপমহাদেশে ওয়াটসন বরাবরই সফল। তাই তার স্থান পূর্ণ করার মতো যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট পাওয়া নিয়েই গলদঘর্ম হতে হচ্ছে অসি নির্বাচকদের। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সফর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া অস্বাভাবিক সঙ্কটেই পড়েছে।

তবে এই সফর নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিতই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তিনি বলেছেন, ‘আমি ঠিক এখনো নিশ্চিত নই যে, ওয়ার্নার আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে থাকতে পারছে কি-না। তবে তাকে হারানোটা অবশ্যই আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটির জন্য আমি অধীর আগ্রহেই অপেক্ষা করছি। অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমার তর সইছে না। আশা করছি, সিরিজে দলে কিছু সিনিয়র খেলোয়াড়কে অন্তত পাশে পাব।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ৯ অক্টোবর। সিরিজ সামনে রেখে চলতি মাসের ২৮ তারিখে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন স্মিথরা।

মতামত