টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১২ সেপ্টেম্বর বারইয়ারহাট পৌর আ’লীগের সম্মেলন, ভোট কিনতে টাকার ছড়াছড়ি

নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্দীপনা : শঙ্কা !

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম,৬ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) :  মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিন মূল কমিটি না থাকাতে বিভক্ত নেতাকর্মীর পদ পেতে জোর লবিং শুরু করে দিয়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীরা এক পক্ষ অপর পক্ষকে গায়েল করার জন্য সর্বত্র চেষ্টা চালাচ্ছে। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিটি নেতার সমর্থন আদায়ের জন্য দিন রাত প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। কাউন্সিল যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে শঙ্কা। কয়েকজন প্রার্থী ভোট কিনতে ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর বারইয়ারহাট পৌর সভায় গত ২ বছর বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বারইয়ারহাট ডিগ্রী কলেজ মাঠে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১০ এপ্রিল মহি উদ্দিন সওদাগর ও কাউন্সিলর ইমাম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৫ সদস্যের বারইয়ারহাট পৌর আ’লীগের কমিটি গঠিত হয়। তখন বারইয়ারহাট পৌরসভা দ্বিতীয় শ্রেনীতে ছিল। পরে ২০১১ সালের ৪ জুন বারইয়ারহাট পৌরসভা প্রথম শ্রেনীতে উন্নীত হলে আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে বারইয়ারহাট পৌর আ’লীগের কমিটির দায়িত্ব চলে যায় চট্টগ্রাম জেলার অধীনে। জেলার অধীনে যাওয়ার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সম্মেলন না হওয়াতে দলীয় কর্মকান্ড সহ সা¤্রগিক ভাবে নিষ্কৃয় হয়ে পড়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার আওয়ামী রাজনীতি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের কোন সদস্যকে রাখা হয়নি। পরে ২০১৩ সালের ১৭ আগষ্ট বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মহি উদ্দিন সওদাগরকে আহবায়ক করে ৪৪ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির অধীনে সম্প্রতি বারইয়ারহাট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। বারইয়ারহাট পৌর আ’লীগ কমিটি গঠনের জন্য জেলা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক জসীম উদ্দিন, সদস্য নুরুল হুদাকে। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ২ বছর পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের দিন ঠিক করা হয়। চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভায় দীর্ঘ দিন আ’লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি না থাকাতে ঝিমিয়ে পড়েছিল এখানকার রাজনীতি। জেলা কিংবা উপজেলাতে মূল্যায়ন ছিলো না কোন নেতার। দীর্ঘ সময় পর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মূল্যায়ন হচ্ছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিটি নেতার সমর্থন আদায়ের জন্য দিন রাত প্রচারণা চালাচ্ছেন সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীরা। কাউন্সিল উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তবে কাউন্সিল যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে শঙ্কা। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর বারইয়ারহাট পৌর সভায় গত ২ বছর বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত নিতিমালা অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারী কিংবা ফেব্রুয়ারীতে হতে পারে বারইয়ারহাট পৌরসভার নির্বাচন। সম্মেলনে যে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবে সে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। বর্তমানে বারইয়ারহাট পৌরসভা আ’লীগের মধ্যে তিনটি গ্রুপ বিদ্যমান রয়েছে। মিরসরাইয়ের সাংসদ ও আ’লীগের পেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সমর্থিত নিজাম উদ্দিন প্রকাশ ভিপি নিজাম গ্রুপ, রেজাউল করিম খোকন গ্রুপ এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন সমর্থিত বর্তমান মেয়র তাহের ভূইয়া গ্রুপ। বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র পদ, বালু মহাল, গাছ মার্কেট, বাঁশ বাজার সহ অবৈধ টাকা আয়ের বিভিন্ন খাতকে কেন্দ্র করে মুলত এই গ্রুপ গুলোর সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা এক পক্ষ অপর পক্ষকে গায়েল করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা নিজেদের ভালো দিক এবং অপর প্রার্থীর বিভিন্ন খারাপ দিকগুলো লিখে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না থাকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন না হয়ে হয়তো সিলেকশান কমিটিও হতে পারে। বারইয়ারহাটে দীর্ঘ দিন কমিটি না থাকায় আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নাম শুনা যাচ্ছে বর্তমান আহবায়ক মহি উদ্দিন সওদাগর, মেয়র তাহের ভূইয়া, নিজাম উদ্দিন ভিপি (ভিপি নিজাম)। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যারা প্রার্থী হতে পারেন, বারইয়ারহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন, বারইয়ারহাট বাজার ব্যবসায়ী উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত উল্ল্যা, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উত্তম কুমার শর্মা, আওয়ামীলীগ নেতা আজিজুল হক মান্না, আব্দুল খালেক মেম্বার, বারইয়ারহাট পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমামুল ইসলাম লিটন।

প্রার্থী অনেকে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে সভাপতি পদে মহিউদ্দিন সওদাগর, মেয়র তাহের, ভিপি নিজাম আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা হতে পারে ইমাম কমিশনার, রেজাউল করিম খোকনের মধ্যে। নির্বাচনের আগে সভাপতি-সম্পাদক পদে প্যানেল আকারেও ভোট হতে পারে। তবে মহিউদ্দন সওদাগর মেয়র তাহেরের অনুসারী হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী নাও হতে পারেন।

বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক মহি উদ্দিন সওদাগর জানান, কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আশা করি আগামী কাউন্সিলে একটি দক্ষ কমিটি উপহার দেবে ভোটাররা।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের কাউন্সিল নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রস্ততিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সুষ্ঠুভাবে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশাকরি মূল কমিটিও সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হবে। সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত