টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জঙ্গি অর্থায়ন: ব্যবসায়ী এনামুলের রিমান্ড চায় পুলিশ

চট্টগ্রাম,৬ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : জঙ্গি সংগঠনে অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার পোশাক কারখানার মালিক এনামুল হকের (৩৯) রিমান্ড চাইছে পুলিশ।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

রবিবার সকালে তাকে বাঁশখালী আদালতে হাজির করা হয়। বাঁশখালী থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাকে। তিনি জামায়াতের রাজনীতির সমর্থক বলে জানিয়েছে র‌্যাব।টঙ্গীর তুরাগ এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন টাচ অ্যাপারেলস নামে একটি পোশাক কারখানার মালিক এনামুল হক।

ব্যবসায়ী এনামুল হককে শনিবার রাতে টঙ্গীর তুরাগ থেকে আটক করা হয়। তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার জয়ন্তা গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে।

রবিবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন,‘বিভিন্ন সময়ে ১৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন ৫২ লাখ, আইনজীবী হাসানুজ্জামান লিটন ৩১ লাখ, মাহফুজ চৌধুরী বাপন ২৫ লাখ টাকা ও ব্যবসায়ী এনামুল হক দিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। বাকি ১৪ লাখ টাকা কে বা কারা অর্থায়ন করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন,‘২০১৪ সালের আগস্টের ১১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে শহীদ হামজা ব্রিগেডের শীর্ষ নেতা মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডনের মালিকানাধীন সানজিদা এন্টারপ্রাইজের হিসাবে একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এক দফায় ১৬ লাখ টাকা জমা দেন এনামুল হক।’

ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখা থেকে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোড শাখায় এ টাকা জমা করা হয় বলে জানান তিনি।

এছাড়া আল্লামা লিবাদ নামে দুবাইয়ের এক নাগরিক শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থ দিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে বলে জানান র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

নগদ ও হুন্ডির মাধ্যমে এ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আরও নগদ লেনদেনের তথ্য রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সন্ধান পাবার কথা জানায় র‌্যাব।

পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাব জানিয়েছিল, শহীদ হামজা ব্রিগেডের তিনটি সামরিক উইং আছে। এগুলো হচ্ছে, গ্রিন, ব্লু এবং হোয়াইট। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’সলেকে একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটান সংগঠকরা।

১২ এপ্রিল (রোববার) রাতে নগরীর কোতয়ালি থানার মিডটাউন আবাসিক হোটেলে অস্ত্র কেনাবেচার সময় বিক্রেতা মোজাহের হোসেন মিঞা (৩৫) এবং বাঁশখালীতে জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ ওরফে মুহিবকে (২৩) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এদের মধ্যে মোজাহেরের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকায়। সাব্বির হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গুলগাঁও গ্রামের আবুল কালাম ফটিকের ছেলে।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে আকবর শাহ থানার একে খান মোড়ে শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে মো.কামাল উদ্দিন ওরফে মোস্তফা (২৪) এবং আশরাফ আলীম ওরফে আদনানকে (২৫) আটক করা হয়। তারা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল।

পরে আরও তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার গ্রিন বাংলা জাহানারা অ্যাপার্টমেন্টের সপ্তম তলায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে আছে, ৫টি একে ২২, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এলজি, একে ২২ এর ১০টি ম্যাগজিন, ১টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ২ হাজার ১৫৫ রাউণ্ড পয়েন্ট টুটু বোরের গুলি, ৫০১ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় ছিল শহীদ হামজা ব্রিগেডের সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। সেখানে প্রত্যেক সদস্য ১০ রাউণ্ড করে গুলি ছুঁড়ে প্রশিক্ষণ নিত। এর মধ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হত একে ২২ থেকে আর ৪ রাউন্ড ছোঁড়া হত অন্যান্য অস্ত্র থেকে। ২০১৪ সালের শেষদিকে তারা লটমণি পাহাড়ে সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু করে।

মতামত