টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আবুধাবীতে সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহত: গ্রামের বাড়ীতে শোকের মাতম

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Abudavi-accident-picচট্টগ্রাম, ৩ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) :  আবুধাবীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত রাউজানের দুই প্রবাসির গ্রামের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। বৃহষ্পতিবার রাউজানের নিহত দুইজনের বাড়ীতে গিয়ে দেখাযায় প্রবাসে চাকুরীতে য্ওায়ার প্রাক্কালে সড়ক দুঘর্টনায় স্বজনের নিহতের খবর শুনে আহাজারী করছেন। তাদের কান্নায় এলাকার আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠেছে।

নিহত নোয়াপাড়া নিরামিশ পাড়া গ্রামের ইলিয়াছের আত্মীয় স্বজনরা জানিয়েছেন, নিহত ইলিয়াছ গত ১৯৯১ সনে দেশ ছেড়ে উপার্জনের লক্ষে আমিরাত যান। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে ২য় ছেলে, তার এক স্ত্রী ও ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে। তারা হাটহাজারীর কুয়াইশ গোপালের ঘাটা মুন্সি বিল্ডংয়ে বাড়া বাসায় থাকেন। তার প্রথম সন্তান আকিব কুয়াইশ সম্মিলনী স্কুলে ১০ শ্রেণী ও ২য় সন্তান আদিব ৭ম শ্রেণী এবং কনিষ্ট কন্যা মাওয়া ১ম শ্রেণীতে পড়ছে। তারা বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। তাদের সন্তনা দেওয়ার মত ভাষা নেই দেখতে আসা আত্মীয়স্বজনের। নিহতের এক আত্মীয় জানিয়েছেন গত বছরের কোরবানীর ঈদে দেশে বেড়াতে এসেছিল। সেবার কোরবানী করে আবুধাবী ফিরে আর আসা হয়নি। এবার কোরবানীর আগে ইলিয়াছকে আসতে হচ্ছে কফিনে করে লাশ হয়ে। এদিকে চলতি মাসের ১৮ তারিখ দেশে আসার কথা ছিল একই ঘটনায় নিহত রাউজান ইউনিয়নের নাতোয়ান বাগিছা এলাকার ফরহাদ চৌধুরীর। এবার দেশে এসে কোরবানী ঈদ ও বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কিছুই করা হল না আর। ৩ ভাইয়ের মধ্যে ফরহাদ ছিল মেঝ। পরিবারের মধ্যে সেই ছিল উপার্যনক্ষম ব্যক্তি। বাকী ভাইদের তেমন ভাল ইনকাম সোর্চ নেই বলে জানাগেছে। ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২০০৭ সনে আবুধাবী পাড়ি জমান। তার মৃত্যুর খবর শুনে দক্ষিণ-পূর্ব রাউজান এলাকার মো. ফরহাদের বাড়িতে চলছে। শোকের মাতম। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছে ছোট বোন পুষ্পা (১৭)। কাঁদতে কাঁদতে তার শারিরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়েছে। মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা আবু জাফর চৌধুরীকে ছেলে ফরহাদের মৃত্যুর আত্মীয় স্বজনরা গোপন রাখলেও বড় দুর্ঘটনার খবর ঠিকই তাদের দেয়া হয়। আর সেটা শুনেও আহাজারি থামছেনা তাদের। পুত্রের কথা ভেবে মা-বাবা প্রতিবেশী ও স্বজনদের জড়িয়ে ধরে অঝোর ধারায় কাঁদছেন।

এদিকে নিহত ফরহাদের চাচাতো ভাই মো. রাশেদ বলেন ‘আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফরহাদের দেশে আসার কথা ছিল। বিমান টিকিটও ঠিক করেছিল। এসে বিয়ে করার কথা ছিল। বিয়ের প্রাথমিকভাবে একটি মেয়ের কথাবার্তাও চলছিল। কিন্ত একিট দুর্ঘটনায় সবকিছু শেষ হয়ে গেলো।’ তিনি জানান, ৩ ভাই, ৩ বোনের মধ্যে ফরহাদ ভাইদের মধ্যে ২য়। ২০০৭ সালে সে আবুধাবিতে কর্মের তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ২০১২ সালে একবার দেশে বেড়াতে এসেছিলেন। আবুধাবির বাসিন্দা ফরহাদ সেখানে গাড়ি চালাতেন।

উল্লেখ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর আল আইন রোডের আল খাজনাতে গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশী নিহত ও ২ বাংলাদেশী গুরুতর আহত হন। নিহত ও আহতরা সবাই চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারীর। বুধবার ২ সেপ্টাম্বর সকালে এ দুর্ঘটনায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মুহাম্মদ ফরহাদ, (২৮) পিতা- মুহাম্মদ জাফর, বজল মেম্বারের বাড়ী, নাতোয়ান বাগিছা, ৭ নং ইউনিয়ন রাউজান।

মুহাম্মদ ইলিয়াছ (৪৫), পিতা- এজাহার মিয়া, হাজী হাসমত আলী সও. বাড়ী, নোয়াপাড়া (নিরামিশ পাড়া) রাউজান।

মুহাম্মদ আকতার হোসেন (৪০) পিতা-আবদুল হালিম, কাটির হাট, হাটহাজারী চট্টগ্রাম।

নিহত ফরহাদের মামাতো ভাই নওশাদ ও আজাদ এবং নিহত আকতারের ভাই মুহাম্মদ রহমত আলী জানিয়েছেন বুধবার সকালে তারা কাজের উদ্দ্যেশে আবুধাবী থেকে আল আইন যাওয়ার পথে আনুমানিক সকাল ৭টার সময় আল খাজনাতে এসে হঠাৎ তাদের গাড়ীর এক্সসেল ভেঙ্গে যায় কিন্তু গাড়ী গতি বেশি থাকায় গাড়ী নিয়ন্ত্র্রন হারিয়ে রাস্তার পাশের লিন্টারের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যায় ও বাকী ২ জন গুরুতর আহত হয়। আহতরা হলেন মুহাম্মদ বেলাল, আধার মানিক, পুর্ব গুজরা, রাউজান ও মুহাম্মদ সাইফুল, মগদাই, পশ্চিম গুজরা, রাউজান।

নিহতের আত্মিয় স্বজনরা জানান, আহতরা আল আইন আল জিমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা একই হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

মতামত