টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘তিন বছর পর চট্টগ্রাম সিটিতে দুরবস্থা থাকবে না’

Kamal1441284932চট্টগ্রাম, ৩ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : আগামী তিন বছর পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দুরবস্থা আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টার অডিটরিয়ামে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসি’র আয়োজনে চট্টগ্রামবিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সভায় জানানো হয়, সড়কপথে মিয়ানমার, চীনের কুনমিং, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম পর্যন্ত বাণিজ্য গড়ে তুলতে হলে চট্টগ্রাম একমাত্র করিডোর। অপরদিকে, চট্টগ্রামের পর্যটন বলতে শুধুমাত্র কক্সবাজারকেই বোঝানো হয়। অথচ চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী এথনিক সংস্কৃতি রয়েছে যাকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা যায়। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের একটা নিজস্ব ‘ব্র্যান্ডিং ভ্যালু’ গড়ে তুলতে হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

সভায় মুস্তফা কামাল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বর্তমানে ১৩৯টি প্রকল্প চলমান আছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্প জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন সংক্রান্ত। এগুলো সম্পন্ন হতে তিন বছর সময় লাগবে। এ সময়ের পর সিটি কর্পোরেশনের দুরবস্থা আর থাকবে না’।

মন্ত্রী এসময় সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বর্জ্য ব্যস্থাপনা থেকে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে’।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে বিশ্বমানের করতে হলে চট্টগ্রাম শহরকে বিশ্বমানের হতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের কারিগরি সুবিধা বাড়লেও ব্যবস্থাপনা জটিলতায় কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে এখনও বেশি সময় লাগছে। আমরা এখন মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করতে যাচ্ছি। গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির মধ্যবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর আরো চাপ পড়বে। এদিকটায় আমাদের নজর দিতে হবে’।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রধান শহর ঢাকার সঙ্গে দ্বিতীয় প্রধান শহর চট্টগ্রামের ব্যবধান অনেক। এজন্য সবাই ঢাকায় চলে আসছে। সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। ঢাকা মানের আরো চার থেকে পাঁচটি শহর দেশে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে চট্টগামের দিকে এখনই নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অবকাঠামো দিয়ে শহরকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করতে হবে’।

তৈরি পোশাক শিল্প থেকে রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলার করতে হলে চট্টগ্রামকে ঢাকার পরেই দ্বিতীয় প্রধান তৈরি পোশাক শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলেও এ অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন।

দেশের উন্নয়নকে অর্থবহ করতে হলে বিকেন্দ্রিকরণের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সবাই যেভাবে ঢাকামুখী হচ্ছে তাতে বাংলাদেশ এমন হবে যে একদিকে ঢাকা আর একদিকে সবকিছু মিলে মফস্বল’।

চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জ কমিশন এর সভাপতি ড. আবদুল মজিদ খান এসময় বলেন, ‘চট্টগ্রামের বাণিজ্য বছরে ১৫ শতাংশ বাড়ছে, কিন্তু বন্দরের সক্ষমতা সে হারে বাড়ছে না।

বিকেন্দ্রিকরণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাক্তন মুখ্য সচিব আবদুল করিম সভায় বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, কোস্ট গার্ড এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ঢাকা থেকে সরিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা যেতে পারে’।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের আয় থেকে একটা অংশ চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরাসরি ব্যয় করা দরকার। এ কাজ করতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও জবাবদিহি করতে হবে। স্থানীয় উন্নয়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে হলে তা বেশিমাত্রায় অর্থবহ হবে’।

কমিশনের এই সদস্য এসময় আরো বলেন, সারাদেশের বাজারগুলো কিভাবে সংযুক্ত করা যায় এবারের সপ্তম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনায় তা প্রধান্য পেয়েছে।

মতামত