টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়ি বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, আটক ২

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

99চট্টগ্রাম, ৩ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) :  খাগড়াছড়ি মানিকছড়ির নির্জণ জনপদ লাফাইন্দংপাড়া ওরফে গংজ বাগান এলাকায় বুধবার রাতে আবদুল মতিন (৯০)কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়দের সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত দু’ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রতিবাদে উপজাতি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও নিরাপত্তার দাবীতে গুচ্ছগ্রামবাসীরা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার লাফাইন্দং পাড়া ওরফে গংজ বাগান নামক এলাকায় সেই ১৯৮০-৮১ সাল থেকে স্বপরিবারে বসবাসরত আবদুল মতিন। পার্বত্য চট্রগ্রামের বিরাজমান পরিস্তিতির কারণে প্রথমে এলাকাবাসীর সাথে গুচ্ছগ্রামের আসলেও পরে তারা (স্বামী-স্ত্রী) পুরাতন বসতভিটায় ক্ষেত-খামার করার উদ্দেশ্যে সেখানে বসবাস করে আসছিল। সম্প্রতি প্রতিবেশি রিপ্রুচাই মারমা ও উসামং মারমা নিহত মতিনকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেয়। এতে মতিন অস্বীকার করলে ভূমি ক্রয়ের প্রস্তাব দেয় উপজাতিরা। তাতেও মতিন অস্বীকার করে। পরে উভয়ের মাঝে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম গুচ্ছগ্রামে ছেলের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সুযোগে বুধবার রাতের কোন এক সময়ে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। প্রতিবেশি মারমা জনগোষ্টিরা এ ঘটনা টের পেয়ে সকাল হতে না হতেই ঘর-বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। পরে নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পুলিশকে অবহিত করে এবং ঘটনাস্থলে যায়। সাথে সাথে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করে। এ সময় পাশের নির্জন জংগলে লুকিয়ে থাকা রিপ্রুচাই মারমা (৪৮), পিতা-মৃত মমংশে মারমা, ও উসামং মারমা (৩৮), পিতা-চোরাঅং মারমা, সাং-লাফাইন্দং পাড়াকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ লাশের সুরতহাল শেষে আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসনে সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল রাব্বি আহসান (পিএসসি),খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান, রামগড় সার্কেল মো. ইউনুচ মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য এম,এ জব্বার, ইউএনও যুথিকা সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. দিদারুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দিন ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. শফিকুর রহমান ফারুক প্রমুখ।

বৃদ্ধার নির্মম হত্যাকান্ডে উপজাতি সন্ত্রাসী ইউপিডিএফের সম্পৃক্ততা রয়েছে দাবী করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও নিরাপত্তার দাবীতে গুচ্ছগ্রামবাসীরা সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের আমতলায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা।

লাফাইদং পাড়া প্রধান অংগ্যজাই মারমা ঘটনান সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাহাড়ী-বাঙ্গালীর সহাবস্থান রয়েছে। কতিপয় দুস্কৃতকারীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সকলের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সর্ম্পক যেন নষ্ট হতে না পারে সেদিকে সকলকে সজাগ থাকার আহব্বান জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মানিকছড়ি থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তিকে বসত ভূমি ছেড়ে দেয়ার জন্য আটক ব্যক্তিরা ইতিপূর্বে হুমকি দিয়ে আসছিল। নিহতের ছেলে মো. আলী হোসেন ওরয়ে ভানু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে প্রেরণের করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে

মতামত