টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বার কাউন্সিল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল: ১৪টির মধ্যে ১১টিই আ.লীগ সমর্থকদের

barচট্টগ্রাম, ৩ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) :দুই পক্ষের হট্টগোলের মধ্যে দিয়ে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) বিপুল বিজয় হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট ভোটের পর প্রাথমিক গণনাতেই সরকারসমর্থকদের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। রীতি অনুযায়ী বুধবার বার কাউন্সিলে সব ফলাফল হিসাব করে বৃহস্পতিবার সকালে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করেন।

২৬ আগস্ট সারাদেশে ৭৭টি ভোটকেন্দ্রে বার কাউন্সিল নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। প্রাথমিক ফলে দেখা গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ১০টিতে এবং বাকি চারটিতে জয় পায় বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল।

তবে চূড়ান্ত ফলে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ১১টিতে এবং বাকি তিনটিতে জয় পায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল। এ ছাড়া গ্রুপের সাতটি সদস্য পদের মধ্যে ছয়টিতেই আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেল জয়লাভ করেছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল ফলাফল ঘোষণা করতে এলে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বার কাউন্সিল আইনের ১৫-এর দুই ধারা অনুযায়ী ভোট গণনার দাবি জানান।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল আগামী রবিবার ভোট গণনার ঘোষণা দিলে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ফলাফল ঘোষণার তুমুল হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সন্ধ্যা ৬টায় ভোট গণনার ঘোষণা দিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান।

সন্ধ্যা ৬টায় ভোট গণনার প্রস্তুতি নিলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা তাতে বাধা দেন। পরে বাধ্য হয়ে ভোট গণনা না করে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা নির্বাচনী ফলাফলের টেব্যুলেশন শিট অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণা করেন সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল।

বার কাউন্সিলের ১৫ এর ২ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করার কথা থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে মানা হয়নি এই নিয়ম।

আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন আবদুল বাসেত মজুমদার, এম আমীর-উল-ইসলাম, আবদুল মতিন খসরু, জেড আই খান পান্না ও শ ম রেজাউল করিম। বিএনপিপন্থী বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্বে থাকা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ১৪ হাজার ৪৩ ভোট, আবদুল বাসেত মজুমদার ১৫ হাজার ১০৯ ভোট, আবদুল মতিন খসরু ১৪ হাজার ৪২৪ ভোট, জেড আই খান পান্না ১৩ হাজার ৭৮ ভোট এবং শ ম রেজাউল করিম ১৩ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

কাউন্সিলের ১৪টি সদস্য পদের মধ্যে বাকি সাতটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে। এর মধ্যে ছয়টিই জিতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।

সাদা প্যানেলের বিজয়ী এই ছয়জন হলেন- কাজী মো. নজীবুল্লাহ হিরু (গ্রুপ-এ: বৃহত্তর ঢাকা জেলা), এইচ আর জাহিদ আনোয়ার (গ্রুপ-বি: বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর অঞ্চল ), মো. ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী (গ্রুপ-সি: বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল), পারভেজ আলম খান (গ্রুপ-ই: খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল), মো. ইয়াহিয়া (গ্রপ-এফ: বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চল) ও মো. রেজাউল করিম-১ (গ্রুপ-জি: দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা অঞ্চল)।

তালিকা নিয়ে জটিলতার কারণে কয়েকবার পেছানোর পর গত ২৬ আগস্ট সারাদেশে এই বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৪৩ হাজার ৩০২ জন। কাউন্সিলের ১৪টি সদস্য পদের জন্য ৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে বার কাউন্সিলের নেতৃত্ব বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের নেতৃত্বে। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বার কাউন্সিলের নেতৃত্বে যান বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা। ওই নির্বাচনে ১৪টি সদস্য পদের মধ্যে নয়টিতে বিএনপি সমর্থকেরা এবং পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা বিজয়ী হয়। নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ভোটাভুটিতে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বার কাউন্সিলের নির্বাচন হয় তিন বছর পর পর। সারা দেশের আইনজীবীরা ১৪ জন সদস্যকে ভোটের মাধ্যমে কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন।

মতামত