টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টানা বর্ষণে মিরসরাইয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্ধী

পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছে ৫শতাধিক পরিবার

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

Mirsarai-Flood-Photo-01.09-চট্টগ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) : টানা ২ দিনের বর্ষণে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ ভেসে গেছে বিভিন্ন মৎস ঘের। এছাড়া পাহাড় ধসে আহত হয়েছে ২ জন। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭ টায় উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরের থাকার ঘরে ধসে জোসনে আরা বেগম (৫৫), মোঃ সামছুদ্দিন (৩০) আহত হয়েছে। সোনাপাহাড় সহ উপজেলার খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, মিরসরাই সদর ইউনিয়ন, করেরহাট, দুর্গাপুর ইউনিয়নে এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।

উপজেলার অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে দিনযাপন করছেন। নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে বীজতলা ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে, চিংড়ি ঘের, বসতঘর তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে পাকা আউশ ধান। বৃষ্টি বন্ধ না হলে জমিতেই পঁচে যাবে ধান। টানা বর্ষণে কাঁচা, পাকা, আধাপাকা রাস্তাসহ গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ও জন চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। কোন কোন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে বহু মৎস্য ঘের ও পুকুরের মাছ। এছাড়াও মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের জোরারগঞ্জ বাজারে গাছ পড়ে প্রায় ৩ ঘন্টা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। পরে গাছ কেটে সরিয়ে ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

উপজেলার ধুম, ওচমানপুর, ইছাখালী, কাটাছরা, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর ইউনিয়ন (আংশিক), মিঠানালা, জোরারগঞ্জ (আংশিক), হিংঙ্গুলী, করেরহাট (আংশিক), মঘাদিয়া (আংশিক), মিরসরাই পৌরসভা, খৈয়াছড়া, মায়ানী (আংশিক), হাইতকান্দি, ওয়াহেদপুর (আংশিক), সাহেরখালী ইউনিনের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় রান্নাঘর সহ থাকার ঘরে পানি প্রবেশ করায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। ভারী বর্ষণে চাষীরা ফসল নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে। বেশীর ভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কাচা সড়ক বিধবস্ত হয়েছে।

খৈয়াছাড়া ইউনিয়নের ফেনাফুনি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহমান আজিজ জানান, দুই দিনের টানা বর্ষণে পুরো গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। রান্না ঘরে পানি উঠে যাওয়াতে এলাকাবাসী অনাহারে রয়েছে। শুকনো খাওয়ার খেয়ে কোন রকম ভাবে দিন পার করছি।

খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, পাহাড়ী ঢলে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বেশীর ভাগ অংশ পানিতে ঢুবে গেছে। পানিতে বন্দি হয়ে আছে এলাকার সহ্রাধিক পরিবার। রান্না ঘরে পানি উঠে যাওয়াতে প্রায় ৩শতাধিক পরিবার সকাল থেকে শুকনো খাবার খেয়ে দিনাতিপাত করছে।

Mirsarai-Floodউপজেলা কৃষি কর্মকতা মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষনে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের সবজি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্ষতির পরিমান কমে আসবে। আর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে শাক সবজি ও আউশ ধান পঁচে গিয়ে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়া আহমেদ সুমন জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ নির্ণয় করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মতামত