টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পুরস্কার পেলেন সেই পুলিশ কনস্টেবল

cmpচট্টগ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর  (সিটিজি টাইমস) :পুরস্কার পেলেন আলোচিত সেই পুলিশ কনস্টেবল মো. মনির আহম্মদ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল নিজেই পুরস্কার হিসেবে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন কনস্টেবল মনিরের হাতেই। মনির আহম্মদ সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের বন্দর শাখায় কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন।  

পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগমনে মনির আহম্মদ সিএমপি কমিশনারকে বলেন, স্যার, পুরস্কার পাব, ডিপার্টমেন্ট আমাকে মূল্যায়ন করবেন, সেই চিন্তা থেকে আমি শিশুটিকে উদ্ধার করিনি। নিজের সন্তান ভেবে আমি খালে নেমেছিলাম। শিশুটিকে বাঁচানোর দায় থেকেই খালে নেমেছিলাম।


এর আগে গত ৩০ আগস্ট রবিবার বন্দর থানার নিমতলা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় মহেশখালে সাজ্জাদ হোসেন (৮) নামে এক শিশুকে ডুবে যেতে দেখে তিনি খালে নেমে যান। এতোগুলো মানুষের সামনে শিশুটিকে খালের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থেকে উদ্ধার করে কনস্টেবল মনির তাকে তীরে তুলে নিয়ে আসেন। তারঁ এ সাহসিকতার কারণেই সিএমপি কমিশনার এ পুরস্কার তুলে দেন।


পুলিশ কনস্টেবল মো. মনির আহম্মদ বলেন, ‘সামনে থেকে দেখলে মনে হবে মহেশখালটা একটা নর্দমার মত। অথচ খালটা ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটেরও বেশি পানি ও গভীর। আর যে আবর্জনা, কাউকে যদি কোটি টাকা দেবে বললেও কোন সাহস করবে না। এসময় নিজের ছেলে মনে করে আমি পুলিশের পোশাকেই নেমে গেছি। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে কয়েকজন শিক্ষিতলো লোকের মধ্যে অনেক লোকও ছিলেন। শিশুটি দুই হাত তুলে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছেন, কেউ শুনেননি। সবাই দিকে তাকিয়ে ছিল। মানুষের মধ্যে বিবেকবোধ, দায়িত্ববোধ কেন চলে যাচ্ছে। সকলের তো সন্তান আছে।


এ সময় সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, গত এক বছরে সিএমপিতে অনেক ভাল ভাল কাজ হয়েছে। পুলিশের ভাল কাজের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে। প্রশংসা কিংবা পুরস্কার পাবার জন্যই নয়, পুলিশ এখন বিবেকের তাগিদে ভাল কাজ করছে। তার একটি উদাহরণ কনস্টেবল মনিরের শিশুটিকে উদ্ধার করে আনা। এসময় সিএমপির উর্ধতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে সাহসী এই পুলিশ কনস্টেবল মনিরের বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার লালপুর গ্রামে। ২০০০ সালের ২৮ মে পুলিশ বিভাগে যোগ দেয়া মনির ৮ বছর বয়সী এক ছেলের বাবা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত