টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জলমগ্ন বন্দরনগরী

paniচট্টগ্রাম, ৩১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) ::  টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নগরীর বেশ কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে বর্ষণ এবং বাড়তি জোয়ার আরো দুই থেকে তিনদিন অব্যাহত থাকবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হালিশহর শান্তিরবাগ, বউ বাজার রাসুলবাগ, বগার বিল, মিয়াখান রাত্তারপুল, খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জসহ শহরের বেশিরভাগ নিচু এলাকার কোথাও হাঁটু সমান কোথাও আবার কোমর সমান পানি দেখা গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন ছাড়াও সাধারণ পথচারীরাও চড়ম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

এদিকে, জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় গত বছর গুদামের মেঝে এক ফুট ঊঁচু করেছিলেন চট্টগ্রামের সবচে বড় পাইকাররি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী খায়ুরুল বাশার। কিন্তু এতেও যে শেষ রক্ষা হলো না তার। গত বছর কোন রকমে পানি প্রতিরোধ করতে পারলেও এবছর আবার পানি ঢুকেছে গুদামে। এখন তিনি সেই মেঝেটি আরো একফুট ঊঁচু করার চিন্তা-ভাবনা করছেন। এভাবেই ফি বছর দোকান-গুদামের মেঝে উঁচু করে জোয়ারের পানির সঙ্গে লড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

‘কিন্তু এভাবে আর কতদিন? ’ রোববার জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত খাতুনগঞ্জে নিজের ‘গদী’তে বসেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন মেসার্স খাতুনগঞ্জ ট্রেডিং এর স্বত্ত্বাধীকারী খায়রুল বাশার।

‘প্রতি বছরতো আর দোকান ঊঁচু করা যাবে না। তাহলে কি এই খাতুনগঞ্জ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে আমাদের ?’ অনিশ্চয়তার ছাপ তার চোখেমুখে।
ব্যবসায়ীরা জানালেন, খাতুনগঞ্জ , চাকতাই ও আসদগঞ্জ এই তিনটি এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা ভোগ্যপণ্যের বিশাল বাজারটি জোয়ারের পানির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতি বছরই এ এলাকায় জেয়ারের পানি বাড়ছে । বছরে ৩ মাস জোয়ারের পানিতে বন্দী থাকতে হচ্ছে এখানকার ব্যবসায়ীদের। এসময় ব্যবসা-বাণিজ্যে কার্যত দেখা দেয় অচলাবস্থা। বছরের বাকি ৯ মাস ব্যবসা করে লাভ-লোকসানের হিসাব কষতে হয় তাদের। প্রতি বছর জোয়ারের উচ্চতা অন্তত এক ফুট বাড়ছে বলে জানালেন তারা।

রোববার খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায় , জোয়ারে অধিকাংশ দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক দোকানের কর্মচারীকে পণ্য বাঁচাতে পানি পরিষ্কার করতে দেখা যায়।

পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ নানারকম পণ্যের কমিশন এজেন্ট মেসার্স বেঙ্গল ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা গেল, পানিতে সয়লাব পুরো দোকান। মেঝে থেকে তিন ফুট ঊঁচুতে কাঠ দিয়ে মাচা তৈরি করে তার ওপর রাখা হয়েছে বস্তা বস্তা পণ্য। এই মাচাও পানি ছুঁই ছুঁই করছিল। কোমর পানি ডিঙিয়ে ক্রেতারা প্রবেশ করছিলেন দোকানটিতে।

চার নম্বর চাঁন মিয়া লেইনের মেসার্স রব্বানী ট্রেডিং , হাজী আবদুল মোনাফ মার্কেটের মেসার্স আকবর ট্রেডার্সসহ প্রায় সব দোকান ও আড়তেরই একই হাল।

মের্সাস আকবর ট্রেডার্স এর মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জোয়ার একবার এলে পানি থাকে দুই থেকে তিন ঘন্টা পর্যন্ত ।এভাবে প্রতি দিন দু’বার করে জেয়ারের পানি মেকাবেলা করতে হয় আমাদের । সাধারণত প্রতি বছর জুলাই থেকে জোয়ারের পানি উঠা শুরু হয়। এরকম অবস্থা থাকে অন্তত তিন মাস।’

তিনি জানান, এ বছর ৩ ফুট পর্যন্ত উঠেছে তার দোকানে। কোন কোন দোকানে এরচেয়ে বেশি পানিও প্রবেশ করেছে।

সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিলে জোয়ারের পানি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন মেসার্স বেঙ্গল ট্রেডার্স এর পরিচালক বিশ্বজিত দে ।

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলীতে যেসব খাল গিয়ে পড়েছে সেগুলোর মুখে স্লুইস গেট নির্মাণ করে জোয়ারের পানি আটকানো যেতে পারে। ঠিকাদাররা বর্ষা মৌসুমে রাস্তা সংস্কার করে না । নালা নর্দমা ঠিক মতো পরিষ্কার হয় না। তাই নিচু দোকানগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে সরকার আরো যত্নশীল হলে জোয়ার ঠেকানো যেতে পারে।’

এম এস খাতুনগঞ্জ ট্রেডার্স এর মালিক খায়রুল বাশার বলেন, ‘স্লুইস গেট নিমার্ণে সরকার যদি চায় খাতুনগঞ্জের সকল ব্যবসায়ী টাকা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু সরকারের তরফে এধরনের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ’

প্রসঙ্গত : নগরীর খাতুনগঞ্জ, চাকতাই ও আসদগঞ্জে পাঁচ হাজারের মতো ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ১ হজার ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, মৌসুমী বায়ু এবং পূর্ণিমার কারণে জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হচ্ছে। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত আরো দুই থেকে তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত