টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আইসিসি প্রধানের পদ ছাড়তে হচ্ছে শ্রীনিকে?

sreeniচট্টগ্রাম, ৩১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: রাজ্যপাট তবে সংকুচিত হয়ে আসছে নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনের? ভারতীয় ক্রিকেটে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে তাঁর ক্ষমতাধর হাত? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তো তা-ই বলে। তবে আরও বড় দুঃসংবাদ নাকি অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। ক্রিকেটের সব ক্ষমতা তেভাগায় বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার অন্যতম এই কারিগরকে এবার সরে যেতে হবে পারে আইসিসি থেকেই।

ভারতীয় বোর্ডে শ্রীনির বিরোধী অংশ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। আর কোণঠাসা হতে হতে মিইয়ে গেছে তাঁর পক্ষের কণ্ঠস্বরগুলো। সর্বশেষ যে হেনস্তা শ্রীনি হয়েছেন, এমনটা তাঁর ঘোর শত্রু বা মিত্র—কেউই ভাবেনি। বোর্ডের কার্যনির্বাহী সভায় যেন শ্রীনি না থাকতে পারেন, এ কারণে তিনি ঢোকা মাত্রই সভা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বৈঠকের আয়ু এক মিনিটও হয়নি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর।

গত শুক্রবার কলকাতায় এ রকমই অপদস্থ হতে হয় আইসিসির চেয়ারম্যানকে। অবশ্য আইসিসি প্রধান নয়, এই বৈঠকে তিনি হাজির হয়েছিলেন তামিল নাড়ু ক্রিকেট সংস্থার প্রধান হিসেবে। কলকাতায় ভারতীয় বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার কথা আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর। নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক সভার আগে কার্যকরী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। সে বৈঠকেই যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন শ্রীনি। এ বৈঠক নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভারতীয় ক্রিকেট। শেষে তো বৈঠকটাই হলো না।

আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্যকরী কমিটির বৈঠক না হলে ২৭ সেপ্টেম্বরের বার্ষিক সাধারণ সভা পিছিয়ে চলে যাবে অক্টোবরে। ভারতীয় বোর্ডের নিয়মানুযায়ী, কার্যকরী কমিটির বৈঠকের ২১ দিনের মধ্যেই বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। আদালতের রায়ে শ্রীনি বৈঠকে ঢোকার অনুমতি পেলে ঘুঁটির চালও পাল্টে যাবে। আর শেষমেশ কার্যনির্বাহী বৈঠকে যোগ দিতে না পারলে, স্বাভাবিকভাবেই বার্ষিক সভাতেও যোগ দিতে পারবেন না। যদি বার্ষিক সভাতে যোগ দিতে না পারেন, হুমকিতে পড়ে যাবে তাঁর আইসিসির প্রধান পদটি।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবেই আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ অলংকৃত করছেন তিনি। গত বছর থেকে চালু হওয়া আইসিসির নতুন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুন থেকে দুই বছরের মেয়াদে আইসিসির চেয়ারম্যান হয়েছে ভারতের প্রতিনিধি। পদটিতে শ্রীনি নির্বাচিত নন। পদটি মূলত ভারতীয় বোর্ডের, প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে কে থাকবে সেটিও নির্ধারণ করবে ভারতীয় বোর্ডই।

ভারতীয় বোর্ড চাইলে এ দুই বছর মেয়াদ চলার সময়ই শ্রীনিকে সরিয়ে অন্য কাউকে বসাতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁর কিছুই করার থাকবে না। কেননা, নির্বাচিত নন বলে এখানে ব্যক্তি নয়, বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ সমীকরণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আগামী সাধারণ সভায় ডালমিয়া-শিবিরের আধিপত্য বজায় থাকলে শ্রীনির দিন ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত