টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিকালে ঐক্যের ডাক দিয়ে রাতেই বিদেশ যাচ্ছেন কামাল

dr kamal hossainচট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: বিকালে ঐক্যের ডাকসম্বলিত জাতীয় ঐক্যের সনদ দিয়ে রাতেই অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রবীণ রাজনীতিক ও আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত দশটার ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। রবিবার বিকাল পৌনে ছয়টার দিকে তিনি নিজেই এ তথ্য জানান।

এর আগে রবিবার বিকালে ‘সুস্থ রাজনীতি ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা’র লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে ১১ দফা সম্বলিত ‘জাতীয় ঐক্যের সনদ’ ঘোষণা করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তবে এবার সাধারণ জনগণকেও ঐক্যে যুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রস্তাবিত ১১ দফার প্রথম দফায় বলা হয়েছে, সমগ্র জাতি আজ একটি অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ। যে পরিবর্তন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

সনদের আরেক দফায় বলা হয়েছে, কেবল মাত্র কালো টাকা, সন্ত্রাস ও সশস্ত্র ক্যাডারমুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ সৎ, যোগ্য ও কার্যকর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে।

ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী আইনের প্রতি অনুগত থেকে জনপ্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, বিনা বিচারে আটক, আটকাবস্থায় নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ বাংলাদেশ সংবিধান অনুমোদন করে না।
সনদের অষ্টম দফায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে অবশ্যই মুক্ত রাখতে হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ, একাডেমিক মর্যাদা ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে অনুষদগুলোর শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং ছাত্র ভর্তি ও ছাত্রের মান নির্ধারণে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে বিবেচনা করতে হবে।

এর আগে কয়েক দফা ড. কামাল হোসেন রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। প্রতিবারই ডাক দিয়ে বিদেশে চলে যান নিজের আইনপেশার ব্যস্ততা নিয়ে। তবে এবার মালয়েশিয়া সফরে তিনি নিজের চিকিৎসাও করাবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, বিকল্প ধারা সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ ঐক্য করার চেষ্টা করেছেন সেলিম। ২০১২ সালের ২১ অক্টোবরে হোটেল রেডিসনে এবং ২০১৩ সালে নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদের শেষ দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করে সক্রিয় হওয়ার কথা বলেছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল। যদিও ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর ড. কামালকে বাদ দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট- এনডিএফ গঠন করেন বি. চৌধুরী।

ওই জোটে তার সঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-এর (জেএসডি) আ স ম আবদুর রব যোগ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফের ড. কামাল হোসেন ঐক্যের আওয়াজ তোলেন। তার বেইলি রোডের বাসা ও মতিঝিলের চেম্বারে বৈঠক করেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে। ওই বৈঠকগুলোয় নাগরিক ঐক্য, সিপিবি, বাসদ, জেএসডি অংশ নেয়। পরে এই উদ্যোগও ভেস্তে যায়।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত