টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

বিতরণ কর্মকর্তার অনুপস্থিতে রাতে বিতরণ!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

1111চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) ::  মানিকছড়ি উপজেলার অসহায় ও দুস্থ মহিলাদের উন্নয়নে ভিজিডি’র (ভার্নারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) চাউল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ৩০কেজি ওজনের বস্তা নেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা উত্তোলন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ উত্তোলিত বস্তা খুলে তা অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করেন। অসহায় দুঃস্থদের চাল পরিমাণে কম দেয়া এবং রাতে বিতরণ করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ভিজিডি’র (ভার্নারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) চাউল বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে চলতি অর্থ বছরে ৩০ কেজি ওজনের চাউলের বস্তা সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদামে খালি বস্তা সরবরাহ করে সরকার। কিন্তু মানিকছড়ির খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ সদর ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিয়নে ৫০ কেজি ওজনের বস্তার সাথে ৩০ কেজির খালি বস্তা সরবরাহ করেন। ফলে দুর্নীতিগ্রস্থ জনপ্রতিনিধিরা সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণের শুরুতেই পূর্বের ন্যায় কার্ডধারীদের মাঝে ৩০ কেজির স্থলে ২৮/২৯ কেজি হারে বিতরণ করার অভিযোগ তুলেছেন সুবিধাভোগীরা।

গতকাল রবিবার তিনটহরী ইউনিয়নের ২৬০ পরিবারের মাঝে ভিজিডি’র চাউল বিতরণের ক্ষেত্রে ২৮ কেজি হারে চাল বিতরনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গেলে তার সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় দেখা যায় খাদ্য গুদাম থেকে আনা ৫০ কেজি ওজনের বস্তা খুলে খালি বস্তায় ২৮/২৯ কেজি হারে বিতরণ চলছে। এ সময় চাল নিতে আসা নারী আয়শা, সেলিনা, নাজমা জানান, দুই বালতি করে চাল ৩০ কেজি ওজনের খালিয় বস্তায় দেয়া হয়েছে। একাধিক সুবিধাভোগীর চাউল বাহিরে ওজন দিলে ২৮ কেজি পাওয়া যায়। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেওয়ায় বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শওকত ওসমান ভিজিডি বিতরণ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থেকে চাল বিতরনের নির্দেশ দেন। তিনটহরী ইউনিয়নের ভিজিডি চাল বিতরন কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাশীষ বড়ুয়া মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, জুলাই ও আগষ্ট মাসের চাল বিতরনের বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়নি।

তিনটহরী ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ. করিম জানান, গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের খালি বস্তা দেয়াতে বড় বস্তার চাউল খুলে ছোট বস্তায় দিতে গিয়ে উনিশ/বিশ হতে পারে। জেনে-শুনে অনিয়মের উদ্দেশ্যে এমনটি হয়নি।

বাটনাতলী ২৩০ ও যোগ্যাছোলার ইউনিয়নে ২৫০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল বিতরনেও অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের জনৈক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর খাদ্য গুদাম থেকে চাল এনে রাতেই বিতরন শুরু করে। এ সময় অনেক সুবিধাভোগীকে খোলা বস্তায় চাল নিতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে যোগ্যাছোলা তদারকী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান, আমার অনুপস্থিতে চাল বিতরন করা হয়েছে। বাটনাতলী ইউনিয়নের একাধিক সুবিধাভোগী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার অনিয়ম ঠেকাতে ৩০ কেজি ওজনের বস্তায় চাল বিতরণের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তা মানা হয়নি। যোগ্যাছোলা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে আমার ইউনিয়নে চাল বিতরন করা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মনিময় চাকমার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, এক দিকে সময় স্বল্পতা অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুরোধে ৩টি ইউনিয়নে ৫০ কেজি চালের বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানগন যথাযথ নিয়মে চাল বিতরণ করবেন মর্মে আশ্বস্ত করেছেন। চাল কম দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত