টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মেয়ে নিয়ে ফুর্তি, বেরোবি শিক্ষককে গণধোলাই

চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে এক যুবতীর সাথে ভাড়া বাড়িতে ফুর্তি করার সময় আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী। পরে মেয়েটিকে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন জনরোষ থেকে উদ্ধার করে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। ঘটনাটি শনিবার বিকালে ঘটলেও রফাদফার চেষ্টা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।পরে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি মধ্যরাতে প্রকাশ পাওয়ায় পুরো নগরীজুড়ে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

এদিকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে বহিষ্কার না করলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে চরম বিব্রতকর অবস্থায় আছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরশেদুল আলম রণি।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রংপুর মহানগরীর খামারপাড়ায় ২৯৭ নম্বর বাসার ৫ম তলায় তাবলিগ মসজিদের কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ওই বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের সেক্রেটারি বেলাল হোসেনও ভাড়া থাকতেন। ওই বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, গত বছর চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়েকে নিয়ে আসতেন ওই শিক্ষক। বিষয়টি তাদের সন্দেহ হলে দারোয়ানকে তারা চার্জ করে। দারোয়ান বিষয়টি স্বীকার করেন। এরই মধ্যে শনিবার বেলা ১টার দিকে রতনা নামের একটি মেয়ে এসে ওই বাসায় ঢোকে। এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বেলা সাড়ে ৩টায় ওই বাড়িতে ঢুকে শিক্ষক আনোয়ারকে মেয়েটির সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে আটক করে। এসময় এলাকাবাসী শিক্ষক আনোয়ারকে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ এনে গণধোলাই দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সরকার দলীয় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়ার চেষ্টা করলে সরকারদলীয় নেতারা তাদের নিবৃত করেন এবং মেয়েটিক কৌশলে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের সদস্য সচিব বেলাল হোসেন সেখানে গিয়ে হতভম্ব হয়ে যান। এসময় এলাকাবাসী দুই দিনের মধ্যে তাঁকে বাসা ছেড়ে দেয়ার আল্টিমেটাম দেন। আনোয়ারের বাড়ি নোয়াখালীতে। বিকালে এই ঘটনা ঘটলেও মধ্যরাত পর্যন্ত চলে একটি পক্ষের রফারফা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র ও এলাকাবাসী রাতে বিষয়টি ফাঁস করে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, মেয়েটি ফুফাতো বোনের দিক থেকে আমার আত্মীয়। ট্রেনিং শেষে সে আমার বাসায় শনিবার ১টার সময় ঢোকে। বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে কিছুসংখ্যক লোক আমার বাসায় ঢুকে আমাকে ও মেয়েটিকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা মেয়েটির কানের ও নাকের স্বর্ণালংকার মোবাইল, মডেমসহ আমার ঘরে থাকা বেশ কিছু টাকা নিয়ে যায়। এসময় তারা ছবি তোলে। পরবর্তী সময়ে সেই ছবি দেখিয়ে আমার কাছে তারা টাকা দাবি করে।

শিক্ষক আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, আমি তার সাথে কোনো অবৈধ কাজ করিনি। তবে তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেন, আমার বাসায় মেয়ে আসার দুই ঘণ্টার মধ্যে কেমন করে এলাকার লোকজন জানলো।

তবে কেন ওই মেয়েটি এসেছিল, দুই ঘণ্টা ধরে ওই বাসায় কী করছিল, এ বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। বরং তিনি বলেন, ভাই পরে দেখা হবে, নিউজ না করলে হয় না।

বাড়ির ওই দাঁরোয়ান জানান, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়েকে নিয়ে আসতেন। জানতে চাইলে কখনও স্ত্রী, কখনও আত্মীয় কখনও ছাত্রী পরিচয় দিতেন। ওই বাসার অন্য ভাড়াটিয়াও বলেন, প্রায় ওই ফ্লাটে মেয়ে আসত। আমরা প্রশ্ন করলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উত্তর দিতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি করেন অনেকেই। নতুন ধারা আন্দোলনের সভাপতি এমএ বাশার টিপু বলেন, অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষক আনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করা হোক। না হলে এ বিষয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো আমরা।

এলাকাবাসী জানান, অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা না হলে মানববন্ধনসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরশেদুল আলম রণি ঢাকা টাইমসকে জানান, বিষয়টি উপাচার্য স্যার পর্যন্ত জানে। যেহেতু ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে তাই কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে এখনও কিছু ভাবছে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আমরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় আছি।

মতামত