টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গা ভাড়া দিয়ে চলে মাসোয়ারা আদায়

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: সীতাকুণ্ডে রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গা ভাড়া দিয়ে বনকর্তাদের চলছে মাসোয়ারা আদায়। প্রতিটি রেঞ্জে গাছের চারা রোপন বন্ধ রেখে বাৎসরিক হারে চাষীদের থেকে মাসোয়ারা আদায় হয় বলে জানা যায়। ফলে রিজার্ভ ফরেস্টে বনাঞ্চল গড়ে না উঠায় একদিকে যেমন বিলিন হচ্ছে বনভূমি, অন্যদিকে বছরের পর বছর লুপাট হচ্ছে সরকারী বরাদ্ধ।

সীতাকুণ্ডে ৩ টি রেঞ্জের অধীনে ৬ টি বিট অফিস রয়েছে। প্রতিটি বিট অফিসের অধীনে কয়েক’শ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা রিজার্ভ ফরেস্ট রক্ষানা-বেক্ষনে নিয়োজিত রয়েছে বন বিভাগের কর্মকতা-কর্মচারীরা। আবার এসব রেঞ্জে গাছের চারা রোপন ও বাগান সংরক্ষনে রয়েছে প্রতি বছর সরকারী বরাদ্ধ। অথচ জুম চাষীদের চাষাবাদের ফলে বৃক্ষহীন হয়ে পড়ে রয়েছে শত শত একর বন ভূমি। তবে রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গা ব্যবহারে স্থানীয় রেঞ্জ অফিসকে বাৎসরিক হারে মাসোয়ারা দিতে চাষাবাদ করছে বলে জানান চাষীরা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কুমিরা ডাল-চাল মিয়া মাজার এলাকার একাধিক চাষী বলেন, প্রতি বছর চাষাবাদের মৌসুম শুরুতে জায়গার পরিমান অনুযায়ী রেঞ্জ অফিসকে খাজনা বাবদ টাকা দিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন কাজের কথা বলে প্রায় সময় ফরেষ্টারসহ বাগান মালিরা টাকা আদায় করে। একইভাবে টাকা না দিলে গাছ রোপনের কথা বলে চাষাবাদে বাধা প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করেন বারৈয়ারঢালা, সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ও ইকোপার্ক পাহাড়ের জুম চাষীরা। এদিকে রেঞ্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রমাগত দুণির্তী আর অনিয়মের ফলে পাহাড়ে এখন আর তেমন রিজার্ভ ফরেস্ট দেখা যায় না। এদিকে প্রতি বছর কি পরিমান চারা লাগানো হয়েছে এবং কত টাকা বরাদ্ধ এসেছে তাও জানাতে অস্বিকৃতি জানান স্থানীয় রেঞ্জ অফিসগুলো। তবে নানা রকমের ফন্ধি-ফিকির করে প্রতিনিয়ত লুটপাট চালানো হচ্ছে বনাঞ্চলে এবং আন্তসাৎ করা হচেছ সরকারী বরাদ্ধ।

এ বিষয়ে কুমিরা ও বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয় নেতাদের কারনে রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকা হতে চাষাবাদ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তারপরও কিছু কিছু জায়গা উদ্ধার করে বাগান উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত