টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় এক যুবককে পিটালো ইভটিজাররা

এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে গেল ছাত্রলীগ নেতারা

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৯ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: ফটিকছড়িতে ইভটিজিং এ বাধা দেওয়ায় এক যুবককে পেঠালো ইভটিজিরারা। শনিবার সকালে উপজেলার রোসাংগিরী শীলেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম(২৭)। তিনি রোসাংগিরী ইউনিয়নের ছোবহান মোল্লার বাড়ি নুরুল আলমের ছেলে। তিনি বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্খাজনক বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোসাংগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ে আসার পথে ওই এলাকার ছোবহান মোল্লার বাড়ির বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল পাশ্ববর্তি মুকিম সিকদার বাড়ির হারুনের ছেলে পারভেছ(১৯), সোলেমানের ছেলে আহম্মদ উল্লাহ(১৯) ও চানগাজী তালুকদার বাড়ির তফজ্জল হোসেনের ছেলে তৈয়ব (১৯) সহ আরো কয়েকজন যুবক। যারা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মী বলে এলাকায় বেশ পরিচিতি রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবারও ওই পথ ধরে স্কুলগামী ছাত্রীরা আসার পথে তাদেরকে উত্যক্ত (ইভটিজিং) করার দৃশ্য দেখে প্রতিবাদ জানায় যুবক মঞ্জু, শাহিন, কাননসহ আরো কয়েকজন সহপাঠি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইভটিজার ও প্রতিবাদকারী যুবকদের মাঝে বাক- বিতান্ডার সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে পাশ্ববর্তি একটি দোকান থেকে লোহার রড নিয়ে এসে প্রতিবাদকারী যুবক মঞ্জুকে মাথায় ও শরীরে প্রচন্ড আঘাত করে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নাজিরহাট হাসপাতালে পরে সেখান থেকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে মঞ্জুর আহত হওয়া খবর পেয়ে তার প্রতিবেশিরা ছুটে আসলে ইভটিজাররা ছাত্রলীগের বড় ভাইদের ফোন করে তাদের রক্ষা করার জন্য বলে।

এসময় সেখানে মোটর সাইকেল নিয়ে ছুটে যান উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য রিমন(২৫)। রিমন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাকে এলাকার ছোট ভাইরা বিপদে পড়েছে বলে ফোন করলে আমি সেখানে ছুটে যায়। আমি কিছু না বুঝার আগেই এলাকাবাসী আমাকে মারধর করে। আমি কোন প্রকারে গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। বর্তমানে আমি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

একইভাবে ইভটিজারদের রক্ষা করতে গিয়ে মোটর সাইকেল রেখে পালিয়ে যায় নাজিম নামক অপর এক যুবক। পরে মোটরসাইকেল দু‘টিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফির অনুরোধে ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে গাড়িগুলো রাখা হয়। পরে সেখানে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ গিয়ে গাড়িগুলো থানায় নিয়ে যায়।

ফটিকছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক(এস.আই) সৈয়দ আলম গাড়িগুলো জব্ধ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান। কিন্তু তিনি ঘটনার বিষয়ে কোন প্রকার বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সাহেদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তদন্ত করে দেখব। যদি ওই ঘটনায় ছাত্রলীগের কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তার বিরোদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত