টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফেসবুকে লাইক, কমেন্টস পেতে প্লাস্টিক সার্জারি!

চট্টগ্রাম, ২৯ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনা সত্যি। ফেসবুকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছবি প্রোফাইল পিকচার দেওয়ার জন্য অনেকেই কসমেটিক সার্জারি করছেন। ভারতের চিকিৎসকরা এই প্রবণতাকে ‘ফেসবুক ফেসলিফট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা জানান, এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

দেশটির অনেক চিকিৎসক বার্তাসংস্থা আইএএনএস-কে জানিয়েছেন, ফটোজেনিক মুখের জন্য লাখেরও বেশি রুপি খরচ করছে লোকজন। দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের কসমেটি ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনুপ ধীর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই সময়ে সবাই চায় নিজেকে তরুণ ও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে। নেটিজেনদের মধ্যে সুন্দর প্রোফাইল পিকচার ও সেলফির দারুণ কদর রয়েছে। এজন্য অনেকেই ফেসলিফট করছে।’

ছেলে নাকি মেয়েরা ফেসলিফট করতে আসে- জানতে চাইলে ধীর বলেন, ‘ছেলে ও মেয়ে উভয়েই আসছে। তবে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা বেশি। সম্প্রতি ছেলেদের সংখ্যাও বাড়ছে।’

ফেসলিফটের প্রবণতায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন। কিছুদিন আগেও ভারতে ফেসবুক ও গুগল প্লাসের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে শুধু ‘টাইম পাস’ হিসেবে বিবেচনা করা হত।

ধীর জানান, মুখের পরিবর্তনের জন্য তিনটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রতিটি ধাপে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার রুপি করে। ফেসলিফট সবার করা উচিত নয়, বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

ভারতের ন্যাশনাল স্কিন সেন্টারের পরিচালক নভিন তানেজা বলেন, গত তিন বছরে এই প্রবণতা ২০০ শতাংশ বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। মানুষ নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। যে কোনও কাজে নিজেকে সর্বোচ্চ সুন্দর হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় তারা।

তানেজা জানান, শুধু যে তরুণরা আসছে তা নয়, পঞ্চাশোর্ধ্বও অনেকে আসছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রে সাধারণত নন-সার্জিক্যাল ফেসলিফট, কুঁচকে যাওয়া চামড়া ঠিক করা, চোখের নিচের কালি মুছা, চামড়ার রং ঠিক করা, ঠোঁট ঠিক করতে আসে লোকজন। অনেক মানুষ আছে যারা নিজেদের সুন্দর দেখতে চায় ও প্রয়োজনে বিশাল অংকের অর্থ খরচ করতেও রাজি।’

সার্জারি ছাড়াও সামাজিক মাধ্যমে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করতে অনেকে এখন দ্বারস্থ হচ্ছেন পেশাদার ফটোগ্রাফারদের।

দিল্লির জুবাই খান স্টুডিও’র মালিক জুবাইন খান বলেন, ‘ফেসবুকে আপলোডের জন্য এক অ্যালবাম ছবি তুলতে ৫০ হাজার রুপি দিতে সহজেই রাজি হচ্ছেন অনেকে। আমরা ৫-৭ টি ছবি তুলে দেই। তারা সময় নিয়ে একটার পর একটা ছবি আপলোড করেন।’

কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই এ ধরনের ফটোশ্যুটের জন্য আসছে বলে জানান তিনি।

মতামত