টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাহাড়ে জুম ধান পাকার অপেক্ষা কৃষক-কৃষাণীর মুখে হাসির ঝলক

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

paharচট্টগ্রাম, ২৯ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: পার্বত্যাঞ্চলের উচুঁ টিলা ভূমিতে জুম ফসল চাষাবাদ করে ভাগ্য পরিবর্তনে করছে হাজারো কৃষক-কৃষাণী। খাগড়াছড়ির প্রতিটি জনপদে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পাহাড়ের চূড়ায় জুম চাষ করছে বসবাসকারী কৃষিজীবিরা। পাহাড়ের পরতে পরতে এখন জুম ধানের সবুজ বিপ্লব চোখে পড়ছে পথচারীদের। কৃষকের চোখে-মুখে অপেক্ষা করছে হাসির ঝলক। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এ অঞ্চলে জুম কাটার হিড়িক পড়বে। প্রকৃতি সহায়ক হলে ভালো ফলনের আশাবাদী কৃষিজীবিরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান, রাঙ্গামাটির চেয়ে খাগড়াছড়ি জেলা সবুজ পাহাড়বেষ্টিত টিলা ভূমি বেশি। ফলে এখানকার জনগোষ্টিরা জুম চাষে অভ্যস্থ। শুধু তাই নয় ওরা পারদর্শি ও বটে। যার কারণে বাংলা সালের চৈত্র মাসের শুরুতে বন-জঙ্গল কেটে তারা সাবাড় করে ভূমি। পরে তাতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধূসুর করা হয় ভূমি। পরে তাতে জুম ধান রোপন করা হয়। এখন জেলার দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি,আলুটিলা, মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ের পরতে পরতে জুম ক্ষেতে ধান আসতে শুরু করেছে। উপজেলার ওয়াকছড়ি,ফকির নালা,গাইদং পাড়া,বাটনাতলী,থলী পাড়া,কালাপানিসহ পাড়ায় পাড়ায় জুমিয়রা জুম ধানের পাশা পাশি বিভিন্ন রকমের মিশ্র সবজি চাষ করেছে। ফকিরনালা গ্রামের জুম চাষি মংমংশে মারমা, মংসা মারমা, সাজাই মারমা, উগ্যজাই মারমাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন জুম ক্ষেতে ফসল আসতে শুরু করছে, জুম বেগুন, মরিচ, জুম ভুট্রা, মারফা (শসা),ঢেড়শসহ জুমের নানা প্রজাতি ফসল বাজারে বিক্রি করছে। বাজারে এখন শাক সবজির চাহিদা ও মূল্য বেশি হওয়াতে জুমিয়রাও বেজায় খুশি।

ফকিরনালা গ্রামের আপ্রসি মগ বলেন, জুম ক্ষেতে জুম ধান পাকতে শুরু করছে,আগামি সেপ্টেম্বর মাসের দিকে জুম ধান জমিয়রা কাটতে পারবে। তবে এসব কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় জুম ফসলে পোকার আক্রমণ হলেও কৃষি অফিসের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। কৃষি মাঠ কর্মকর্তারা সরজমিনে যেতে দেখে না কেউ! কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে ফসল ভালো হতো। এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জুম চাষীরা সাধারণত নিজস্ব আদি পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। তাদেরকে পরামর্শ দিলে নিতে চায় না। তবুও কোন কৃষক রোগবালাই সর্ম্পকে জানতে কিংবা পরামর্শ নিতে চাইলে আমরা অবশ্যই তাদেরকে সহযোগিতা করে থাকি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত