টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ৩১ বাংলাদেশি আরোহীর ৫ জনের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম, ২৮ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: লিবিয়া উপকূলের কাছে কয়েকশ অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে ডুবে যাওয়া দু’টি নৌকার প্রায় দু’শ জন মারা গেছে বলে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ডুবে যাওয়া নৌকা দু’টিতে ৩১জন বাংলাদেশি ছিল বলে জানিয়েছে তিউনিসিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের লিবিয়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

এ পর্যন্ত তারা ৫ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং আরো চারজনের নিখোঁজ থাকার খবর দিয়েছে।

তবে লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় বেশিরভাগ বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্র থেকে বলা হয়েছে।

তিউনিসিয়া থেকে চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স মোজাম্মেল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ৪টি পরিবারসহ মোট ৩১জন বাংলাদেশি লিবিয়ায় যাওয়ার এলাকা দিয়ে ট্রলারে করে ইটালি যাবার চেষ্টা করছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তবে নৌকার তলদেশে ফুটো থাকায়, প্রায় একঘণ্টা যাওয়ার পরে নৌকাটি উল্টে যায়।

৬ বছর আর ৬ মাস বয়সী দুইটি শিশু সেখানেই মারা যায় বলে মিঃ হক জানাচ্ছেন । আরো দুইটি পরিবারের চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে অন্যরা লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় সারারাত ভেসে ছিল। ভোরে তাদের উদ্ধার করা হয়।

তবে লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের কাছে উদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই বলে বলা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া একটি পরিবারের সাথে কথা হয়েছে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের। এদের দুইটি পরিবার সিরতে থেকে এসেছে, অন্যরা ত্রিপলিতেই বসবাস করতেন।

মি. হক বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারগুলো লিবিয়াতে রয়েছে। সন্তানদের সবার জন্ম হয়েছে লিবিয়ায়। তবে দেশটির পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় তারা সমুদ্রপথে ইটালি যাবার চেষ্টা করছিলেন।

তিনি বলছেন, এর আগেও তারা খবর পেয়েছিলেন যে, এই পরিবারগুলো ইটালি যাবার চেষ্টা করছে। তাদের বারবার সতর্ক করার পরেও তারা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পথে সেখানে যাবার চেষ্টা করেন।

এখন পরিবারগুলোর ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র উইলিয়াম স্পিনড্লার বিবিসিকে জানিয়েছেন, নৌকা দু’টিতে প্রায় ৫০০ মানুষ ছিল যারা ইউরোপে আসার চেষ্টায় সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিল।

এই নৌকাদুটিতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে সিরিয়া, বাংলাদেশ ও সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের দেশগুলোর নাগরিকরা ছিলেন।

বিবিসির উত্তর আফ্রিকা সংবাদদাতা বলছেন, লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের ব্যবহারের জন্য যে উদ্ধারযানগুলো আছে সেগুলোতে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই।

সমুদ্রপাড়ি দেবার জন্য অনুপোযোগী নৌকায় লিবিয়া থেকে ইটালিতে সাগরপাড়ি দিতে গিয়ে এ বছর এ পর্যন্ত দু হাজারের মত অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু ঘটেছে।

লিবিয়ার জুওয়ারা শহরের উপকূলের কাছে প্রায় ৫শ’ অভিবাসীবাহী দুটি নৌকা ডুবে গেছে। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১শ’ জনের লাশ ও ২শ’ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লিবিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথম নৌকাটি থেকে সাহায্য চেয়ে সংকেত পাঠানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল। এর অনেক পরে প্রায় ৪শ’ যাত্রী নিয়ে দ্বিতীয় নৌকাটি ডুবে যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, লিবিয়ার কোস্টগার্ড সাগর উপকূল থেকে ২শ’ জনকে উদ্ধার করেছে। তবে ডুবে যাওয়া নৌকা দুটির খোলের ভেতর অনেকে আটকা পড়েছে বলে তারা আশংকা করছেন। সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্রিপোলির পশ্চিমে সাবরাদা থেকে ১৪৭ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ত্রিপোলির এক বাসিন্দা বলছেন, কমপক্ষে ১শ’ জনের লাশ জুওয়ারার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিরিয়া, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।

জাতিসংঘ বলছে, এ বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে প্রায় দুই হাজার ৪শ’ অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এক লাখের বেশি ইতালি এবং এক লাখ ৬০ হাজার গ্রিস পৌঁছেছেন।

গত বুধবার লিবিয়ার উপকূলে ডুবে যাওয়া একটি নৌকার খোল থেকে ৫০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সুইডেনের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ এসব লাশ উদ্ধার করে। এছাড়া আরো ৪শ’র বেশি অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। – See more at: http://www.sheershanewsbd.com/2015/08/28/94256#sthash.r19NYd0c.dpuf

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত