টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে বেপরোয়া ৬ সদস্যের ছিনাতাইকারী চক্র, টার্গেট ব্যাংক গ্রাহক

কখনো র‌্যাব, কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয় তারা

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম, ২৮ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: কখনো র‌্যাব, কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয় নিজেদের। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা গ্রাহকদের টার্গেট করে। পথিমধ্যে গতিরোধ করে টাকা ছিনতাই তাদের একমাত্র পেশায় পরিনত হয়েছে। মিরসরাইয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ৬ সদস্যের এরকম একটি ছিনতাইকারী চক্র। উপজেলার বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহদের টার্গেট করে সিনেমা স্টাইলে তারা ছিনতাই করে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে চলতি মাসে তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আসন্ন কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ওই চক্র আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তবে মিরসরাই থানা পুলিশ দাবি করছে কোরবানী ঈদের আগেই ওই চক্রের সবাইকে তারা গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে। গত মঙ্গলবার (২৫আগষ্ট) রাতে ছিনতাই চক্রের হাত কাটা ফারুক ও আরমান নামে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজনেই যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে। গ্রেফতারের পর তারা পুলিশকে জানায়, তাদের ছিনতাই গ্রুপে ৬জন রয়েছে। আসন্ন কোরবানী ঈদের আগে পর্যন্ত ছিনতাই করার পরিকল্পনা নিয়ে তারা মাঠে নামে। গত বুধবার (২৬আগষ্ঠ) ছিনতাইয়ের বর্ননা দিয়ে চট্টগ্রাম ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গ্রেফতারকৃতরা ১৬৪ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ৬ আগষ্ট মিরসরাই ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে ৫লাখ টাকা তুলে অটোরিক্সা নিয়ে হাদি ফকির হাট এলাকায় বাড়ি ফিরছিলেন আশরাফুল ছালেহিন নামে এক স্কুল শিক্ষক। মহাসড়কের বাদামতলী এলাকায় পৌঁছলে একটি মাইক্রোবাস অটোরিক্সার গতিরোধ করে তাকে (আশরাফুলকে) মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাসে তাকে বেদম মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে কুমিল্লা জেলার ফকির বাজার এলাকায় মাইক্রোবাস থেকে তাকে ফেলে দেয়। এঘটনায় তিনি বাদি হয়ে মিরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১৯ আগষ্ট বারইয়ার হাটের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ও বিকাশ থেকে ৮০হাজার টাকা তুলে ধুম ইউনিয়নের মরগাং এলাকায় বাড়ি ফিরছিলেন ফিরোজ খান নামে এক গ্রাহক। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের ছদরমাদীঘি এলাকায় একই স্টাইলে ছিনতাইকারীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে টাকা নিয়ে মাইক্রোবাস থেকে তাকে ফেনীর কাছে পেলে দেয়। গত ২৪ আগষ্ট মিরসরাই ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা তুলে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন মায়ানী ইউনিয়নের নুরুল বারী নামে এক গ্রাহক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া ব্র্যাক ব্যাংকের সামনের পৌঁছলে ছিনতাইকারীদের মাইক্রোবাস তাকে তুলে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে টাকা নিয়ে জোরারগঞ্জ এলাকায় ছিনতাইকারীরা তাকে ফেলে দেয়। প্রথম দিকের ছিনতাই ঘটনা গুলো নিয়ে পুলিশকে নীরব ভূমিকায় দেখা যায়। কিন্তু তৃতীয় ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ তৎপর হয়ে উঠে। ছিনতাইয়ের শিকার নুরুল বারীকে উদ্ধারের পর ওই রাতেই বাদামতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী হাত কাটা ফারুকে আটক করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই চক্রের সদস্য আরমানকে আটক করা হয়।

স্কুল শিক্ষক আশরাফুলের ছিনতাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরসরাই থানা উপ পরিদর্শক মো. মকিবুল জানান, গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারীরা পুলিশের কাছে ছিনতাই ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। ছিনতাইয়ের আগে ব্যাংকের ভিতরে ও বাহিরে তাদের লোক থাকে। ব্যাংকের ভিতরে বেশি টাকা কে উত্তোলন করছে তার উপর নজর রাখে একজন। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করে অন্য আরেকটি গ্রুপ। ব্যাংকের ভিতরে ও বাহিরে থাকা দুইজন থেকে সিগন্যাল পেলে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করা গ্রুপ রাস্তা থেকে টাকাসহ ব্যাংক গ্রাহককে তুলে নিয়ে যায়। এরপর টাকা নিয়ে পথে নির্জন কোন জায়গায় তাকে ফেলে দেয়া হয়।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ এমকে ভূঁঞা জানান, মহাসড়কের মিরসরাই এলাকায় ছিনতাই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসন্ন কোরবানী ঈদের আগে গ্রুপের অন্য সদস্যদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।

মতামত