টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না কাজী জাফরের

Kazi-Zafar1-md20150704165030চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: হয়তো ভাবেননি প্রয়াত বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার আগেই তাকে চলে যেতে হবে। জানলে কি আর ভাতিজাকে দিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটাতেন?। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের কথা বলছি। গত কয়েকদিন ধরে বাবা-মাকে স্বপ্ন দেখছিলেন। তাই স্ত্রীকে নিয়ে কুমিল্লায় তাদের কবর জিয়ারত করতে যেতে চেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেনের শিডিউল ছিল। কিন্তু ট্রেনের শিডিউলের আগেই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে এসব জানিয়ে বিলাপ করছিলেন কাজী জাফরের স্ত্রী মমতাজ বেগম। বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন জাফর। পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইউনাটেড হাসপাতালে স্বামীর মৃত্যুর পূর্বক্ষণের স্মৃতি বর্ণনা করে মমতাজ বেগম বলেন, সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে মহানগর প্রভাতী ট্রেন ধরার জন্য ভোরে ঘুম থেকে উঠে বুলু (কাজী জাফর আহমদ)। ফ্রেস হয়ে নাস্তাও সারেন। কিন্তু সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ বুলু বলেন, আমার বুকে ব্যথা করছে। এরপর তাকে বিছানায় শুইয়ে দেই। কিছুক্ষণ পর দেখি তার কোনো সাড়া-শব্দ নেই। এরপর দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মমতাজ বেগম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বুলু আমাকে বলছিল বাবা-মা আমাকে ডাকছে। এরপর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার সিদ্ধান্ত নেন।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যা ছাড়াও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী মমতাজ বেগম, তিন মেয়ে কাজী জয়া আহমেদ, কাজী সোনিয়া আহমেদ, কাজী রুনা আহমেদ, ভাই কাজী হাবিবুর রহমান, কাজী ফারুক আহমদ, কাজী জয়নাল আহমদসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন এই রাজনীতিক।

এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধুবান্ধবরা ছুটে যান ইউনাইটেড হাসপাতালে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

ইউনাউটেড হাসপাতালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী কাজী জাফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি যখন রাজনীতিতে আসিনি তার অনেক আগে কাজী জাফর আহমদের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমার স্ত্রী হাসিনা ওয়ার্দা চৌধুরী যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখন কাজী জাফর তার সহপাঠী ছিলেন। সেই সূত্র ধরে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি আমার খুব ভাল বন্ধু ছিলেন। যে কোনো আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল দারুণ। যেখানে অন্যায় দেখেছেন সেখানেই তিনি প্রতিবাদ করেছেন। কাজী জাফর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন।

বন্ধুর স্মৃতিচারণ করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, কাজী জাফর আহমদ আমার সমসাময়িক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা একসঙ্গে পড়ালেখা করেছি। তিনি আমার খুব ভাল বন্ধু ছিলেন। তিনি রাজনীতি করতেন। আমি রাজনীতি করতাম না। কিন্তু তিনি যেখানে থাকতেন আমি সেখানে চলে যেতাম। আবার আমার কাছে তিনি চলে আসতেন। একের পর এক আমার সমসাময়িক বন্ধুরা চলে যাচ্ছে। এটা আমার জন্য খুবই বেদনাদায়ক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের রাজনীতিতে কাজী জাফরের অবদান অনিস্বীকার্য। তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তার মৃত্যু আমাদের ২০ দলীয় জোটের জন্য বেদনার। আমরা এরকম বড়মাপের একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শোকাহত।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, কাজী জাফর আমার বয়সে ছোট। তার চলে যাওয়াটা আমরা জন্য বেদনার। বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে মতভিন্নতা হয়েছে আমাদের মধ্যে। আবার এক সঙ্গে আমরা মন্ত্রিসভায়ও ছিলাম। কিন্তু গণমানুষের রাজনীতি থেকে কখন সে বিচ্যুত হয়নি- কাজী জাফর কাজী জাফরই ছিলেন। তার এই মৃত্যু রাজনীতির জন্য একটা শূন্যতার সৃষ্টি করবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, কাজী জাফর ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। একসঙ্গে অনেকদিনের রাজনীতির সম্পর্ক। তার এই মৃত্যু বেদনা ও যন্ত্রণার। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

এদিকে কাজী জাফর আহমেদের মৃত্যুর খবরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে যান সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, ২০ দলের শরিক জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের জেবেল রহমান গাণি, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্তজা, মুসলিম লীগের এএইচএম কামারুজ্জামান, ইসলামিক পার্টির ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হাসান ইকবাল, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুর রহমান, বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, সাংবাদিক কাজী সিরাজ, জাপা (জাফর) নেতা টিআইএম ফজলে রাব্বী ও কণ্ঠশিল্পী ফকির আলমগীর প্রমুখ।-ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত