টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, খালেদার বিবৃতি

চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপি’র সভাপতি মোজাহার আলী প্রধানকে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবারো তাকে আটক করায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিনা ভোটের সরকার তাদের অনৈতিক ক্ষমতাকে সংহত করতে সারাদেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর যে অত্যাচারের স্টীমরোলার চালাচ্ছে-তা বর্ণনাতীত।’

‘সরকার দেশের আইন কানুন ও বিচারিক রায়কে পর্যন্ত অশ্রদ্ধা করছে। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনেক রাজনৈতিক বন্দীকে সময়মত মুক্তি না দিয়ে নানা টালবাহানায় তাদের আটকে রাখছে এবং এরপরেও কেউ জামিন নিয়ে মুক্তিলাভ করলেও কারাফটক থেকে নিত্য-নতুন সাজানো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় আটক করে তাদের জেলে পুরছে।’
?

বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এধরণের তৎপরতা দেশের আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের এ ধরনের আচরণ মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।’

বেগম জিয়া বলেন, ‘আমরা যখন সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো পালনের উদ্যোগ নিচ্ছি এবং আমাদের দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে পূণর্গঠনের মত সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে এগুচ্ছি তখন সরকার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিত্য-নতুন মিথ্যা মামলায় আটক করছে, পুরনো মিথ্যা মামলায় চার্জ গঠন করে চার্জশিট প্রদান করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিরোধী দলকে কোনোভাবেই সাংগঠনিক কাজ করতে না দেয়া।’

‘আমরা এই বিনা ভোটের সরকারকে বলতে চাই. তারা এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মূলত একধরণের একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে হাঁটছে।’

বিবৃতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে যখন কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটছে, একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের বিলোপ ঘটছে-তখন শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী দলকে নির্মূল করার দিবাস্বপ্নে বিভোর।’

‘আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করা যাবে না। আশা করি সরকারের বোধোদয় ঘটবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার বিরোধী নেতা-কর্মীদের জেলে পুরে, নিত্য নতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করে নিজেদেরকে অগণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করছে মাত্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যে ভয়াবহ ইমেজ সংকটে নিপতিত-তাতে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ তাদেরকে ক্রমেই আরো জনবিচ্ছিন্ন করে তুলছে। সরকার এ সত্যটি যত দ্রুত অনুধাবন করতে সক্ষম হবে এবং সে অনুযায়ী একটি দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যা হবে সকল দলের অংশগ্রহণে এবং তা অবশ্যই সবার দাবি অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, তাতেই তাদের মঙ্গল।

দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী বলেন, ‘আমি আবারো উল্লেখ করতে চাই-হিংসা বিদ্বেষের পথ ছেড়ে আসুন একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আমরা পূর্বের মত একসাথে কাজ করি।জনগণের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা-আস্থা আছে। আপনাদের ভয় কিসে?’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমি শংকিত- হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি দেশের মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে কফিনে পুরে ফেলবে একদিন। সরকার যেন সেই কাজটি করতেই বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে।’

‘আমি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমরা এজন্য দেশ স্বাধীন করিনি। কারণ এখন যে নীতিতে সরকার দেশ চালাচ্ছে-তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেইমানি ছাড়া কিছু নয়,’ যোগ করেন বেগম জিয়া।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত