টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লোহাগাড়ার ভূমি অফিসগুলো যেন টাকা বানানোর কারখানা!

আবদুল আউয়াল জনি
লোহাগাড়া-সাতকানিয়া প্রতিনিধি 

SAM_0962চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) ::  চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ভুমি অফিসগুলো যেন টাকা বানানোর কারখানা চারিদিকে টাকার ছড়াছড়ি ও দুর্নীতির আখড়া সর্বত্র চলছে কানুনগো সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের টাকা বানানোর সিন্ডিকেট, ফলে নামজারী, ভুমি রেজিস্ট্রি, খাসজমি বন্দোবস্তি, ভুমি সংক্রান্ত সহ সকল কাজে হয়রানীর শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।

ভুমি নামজারীর ক্ষেত্রে সরকারি ফি ২৩২ টাকা ও কোর্ট ফি বাবদ ২০ টাকা খরচ হলেও এক্ষেত্রে প্রতিটি নামজারীর জন্য বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস কর্তৃক বিভিন্ন ক্যাটাগরির নামজারী মামলায় ঘুষের হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ নেই এ ধরনের মামলায় কয়েক হাজার টাকা, অভিযুক্ত মামলায় ৪০-৫০ হাজার টাকা এবং ১৯৯০ সালের আগের দলিল হলে নামজারী মামলায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। নামজারীর ক্ষেত্রে সরেজমিন তদন্তের নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস কর্মকর্তারা টেবিলে বসেই কাগজে কলমে তদন্ত কাজ শেষ করেন বলে জানাযায় তবে তার জন্য মামলার বাদীকে নিদ্দিষ্ট অংকের ঘুষের টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু তদন্ত নয় নামজারী সংক্রান্ত সব আনুসাংগিক কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়।

এছাড়া ও মিস কেসের ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয় ভূমি অফিসগুলোতে। ঘুষের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ দলিল কিংবা মূরসী খতিয়ান বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া নামজারীর করার কারণে এমনও দেখা গেছে একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরে নামজারী হয়ে পরবর্তীতে মিস কেস দায়ের হলে ওই নামজারী মামলার সৃজিত খতিয়ান বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ঘুষের কারণে ভূমি অফিসগুলো সৃষ্ট অরাজক পরিস্থিতিতে বর্তমানে কখন কার জমি নামজারী করে কে নিয়ে যাচ্ছে তার হিসেব নেই। আর এ নিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এলাকার সাধারন মানুষ

সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালন করছেন। এ সুবাদে ভূমি অফিসে ঘুষের এ রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন ইউনিয়ন অফিসের তহশীলদার, উপজেলা অফিসের কানুনগো, সার্ভেয়ার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা। কেউ অভিযোগ করছেন ৩ বছরেও নামজারী হয়নি। কেউ অভিযোগ করছেন নামজারী করতে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। সরকারিভাবে একটি নামজারী মামলার নির্ধারিত সময় ৪৫ দিন বা দেড় মাস হলেও রহস্যজনক কারণে অনেকে দিনে দিনে নামজারী করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে নামজারী করতে আসা অধিকাংশের অভিযোগ মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া ভূমি অফিসগুলোতে কোন কাজ হয় না।

ভূমি অফিসের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপারে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিজনূর রহমান বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলী করা হয়েছে আশাকরি অচিরেই বন্ধ করা যাবে সকল অনিয়ম।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত