টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৩৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে উপস্থিত ১২!

আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবাসিকে থাকেন না

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Rangunia-hospital-picচট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) ::  চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম চিকিৎসক সঙ্কট চলছে। ৩৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া বেশিরভাগই আসেন কালে-ভদ্রে। এ অবস্থায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় নেমে এসেছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারন মানুষ। হাসপাতালে গতকাল সরেজমিনে গিয়ে উপস্থিত দেখা গেছে মাত্র ৮ জন চিকিৎসককে। অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ১৫ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত আছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক। তবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ ফজলে রাব্বীর দাবি “চিকিৎসক সবাই আছেন, রাতে ডিউটি করার কারনে কয়েকজন বাইরে আছেন”।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.এস.এম ইফতেখারুল ইসলামের আবাসিকে থাকার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম শহর থেকে তিনি আসা যাওয়া করেন। তাও তিনি সপ্তাহে ৩দিন আসেন ।

সরফভাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক অর্কিড বড়ুয়া ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারী থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে জানান এলাকার মানুষ। স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ায় ডা. শেখ মারজিন আনোয়ারকে এলাকার মানুষ চোখে দেখেননি। তবে তিনি কালে ভদ্রে উপজেলা হাসপাতালে থাকেন বলে হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। ইসলামপুরের ডা. সানজিদা আবছার দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন হাসপাতালে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মেটারনিটি ছুটিতে রয়েছেন ডা. সাজিয়া সুলতানা ও ডা. গোল জান্নাত। মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিলা শারমিন ৩/৪ মাস যাবত অনুনোমোদিত অনুপস্থিত। এছাড়া ওএসডিতে রয়েছেন কয়েকজন চিকিৎসক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩৯ চিকিৎসকের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট ৯ জন ডেপুটেশনে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রয়েছেন। সপ্তাহে দুয়েকদিন আসেন তারা। তাদের মধ্যে ডা. মোজাহেরুল ইসলাম(অর্থো সার্জারি), ডা. আবদুল্লাহ আবু সাইয়িদ(মেডিসিন), ডা. আছমা ফেরদৌসি(শিশু), অদিতি গোস্বামী(এনেস্থেশিয়া),ডা. রতন বিকাশ চন্দ্র(নাক,কান ও গলা),ডা. মো. আবদুল জলিল(কার্ডিওলজি), ডা. নিশীথ রঞ্জন দে(চর্ম ও যৌন), ডা. সোহেলা শাহানা(গাইনী) ও ডা. জয়নাল আবেদীন(চক্ষু)। দীর্ঘদিন ধরে সার্জারি (জুনিয়র কন্সালটেন্ট) পদটি খালি রয়েছে।

১২ জন মেডিকেল অফিসারদের মধ্যে সপ্তাহে দুইদিন তিন দিন আসেন ডা. সাবরিনা আকতার কোরেশী, ডা. ফারজানা আহমেদ শর্মি, ডা. ওয়াহিদা নারগিছ, ডা. হাবিবা রহমান, ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার ডা. সানিয়া হোসেন, ডা. সুষ্মিতা সাহা। মেডিকেল অফিসার (প্যাথলজি) পদটি দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৫ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও তারাও অনিয়মিত। অনেকেই সকালে নিজেদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন বলে অভিযোগ আছে। ই্উনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্য চিকিৎকরা হলেন হোছনাবাদ ইউনিয়নের ডা. মো. তারেকুল ইসলাম, রাজা নগরের ডা. নাদিম চৌধুরী, বেতাগীতে ডা. রাশেদুল আলম, পোমরায় ডা. মির্জা নুরুল করিম, শিলকে ডা. রফিকুল ইসলাম, পারুয়ায় ডা. দিপীকা দে, কোদালায় হ্যাপী বিশ্বাস, দক্ষিন রাজা নগরে অম্বরিশ মিত্র, মরিয়ম নগরে ডা. সাকিব মাহমুদ, লালা নগরে তানবিরুল আবছার, চন্দ্রঘোনায় ডা. সৈয়দ রিদওয়ানুল হক, ধামাইর হাটে দেবাশীষ কুমার রায়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, জরুরী বিভাগে মেডিকেল অফিসার থাকার সত্ত্বেও ৩য় শ্রেনীর চিকিৎসক ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা চিকিৎসা করান ও ব্যবস্থা পত্র দেন।

নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক এক মেডিকেল অফিসার জানান, চিকিৎসকরা কে কখন আসেন কোনো নিয়মনীতি নেই। চিকিৎসকদের নিজেরাই কে কোনদিন আসবেন শিডিউল টিক করেন। হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় এলাকার সাধারন মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে সাড়ে ৩শ’ রোগী রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগ ও আন্তঃ বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসলেও শুধুমাত্র চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা বিভিন্ন কারণে নিয়মিত আসতে না পারায় উপজেলার সাড়ে তিন লাখ জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা সেবা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মতামত