টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জাসদ-ন্যাপই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলো: হানিফ

hainf-albdচট্টগ্রাম, ২৫ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: জাসদই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পথ তৈরি করে দিয়েছিল-আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমন বক্তব্য দেওয়ার পর একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

মঙ্গলবার রাজধানীর আজিমপুরের গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় হানিফ এ কথা বলেন।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘জাসদ ও ন্যাপসহ যাঁরা বাম রাজনীতি করতেন বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরে তারা বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। কেন করেছিলেন, তারাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তাঁদের ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে ছিল যে, একটা সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য যা যা করণীয় তারা তাই করেছিলেন। আর তাঁরাই ওই সময় তৈরি করেছিলেন জাতির পিতাকে হত্যার প্রেক্ষাপট।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের নেতা শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলানোর যে অভিযোগ করা হচ্ছে-এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যে যেখান থেকে দেখুক না কেন, ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’

হানিফ আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য হাট-বাজার লুটপাট, ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা এমনকি ঈদের নামাজের জামায়াত শেষে আওয়ামী লীগের এমপিদের হত্যা পর্যন্ত করেন তাঁরা। এ সমস্ত বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ছিল একটাই বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অস্থিতিশীল করা। সেই কারণেই কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে ওই বাম সংগঠনের অনেক নেতা ইতিমধ্যেই স্বীকারও করেছেন। তাঁদের অনেকে বলেছেন, ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় যা করেছিল তারা তা ভুল করেছিল। কিন্তু সেই ভুলের মাসুল জাতিকে দিতে হয়েছে চড়া দামে।’

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনো বঙ্গবন্ধুর ওপর আঘাত হানতে পারত না, যদি এই গণবাহিনী, জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে, মানুষ হত্যা করে, এমপি মেরে পরিবেশ সৃষ্টি না করত। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল রহস্য বের করতে হবে, কারা কারা জড়িত ছিল।’

এর আগে গত রোববার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অনুষ্ঠিত শোক দিবসের এক আলোচনা সভায়ও একই ধরনের বক্তব্য দেন শেখ সেলিম। শেখ সেলিম বলেন, কর্নেল তাহের জাসদের গণবাহিনীর প্রধান ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সহানুভূতিশীল হয়ে যাঁকে বি আইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন, তিনিও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে তাহেরের কী পরিণতি হয়েছিল, তা সবাই দেখেছেন।

শেখ সেলিম বঙ্গবন্ধুর সরকারের সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘শেখ মণি মারা যাওয়ার দেড়-দুই ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধুকে মারা হয়।…বঙ্গবন্ধু সবার কাছে ফোন দিয়েছে। কর্নেল জামিল ছুটে আসছিল। আর উনি (সফিউল্লাহ) বসে বুড়ো আঙুল চুষেছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা তো কোনো সেনা অভ্যুত্থান ছিল না। বিপথগামী সেনা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনারা এটা করেছিল। যখন তারা অস্ত্র নেয়, তখনই তাদের কোর্ট মার্শাল হওয়া উচিত ছিল। উনি (সফিউল্লাহ) আগায় আসল না। কেন ওই দিন বঙ্গবন্ধুর বাসার দিকে শাফায়াত জামিলকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচখানা, দশখানা ট্রাক আসে নাই। কিসের জন্য সফিউল্লাহ নীরব ছিল?’

কে এম সফিউল্লাহকে উদ্দেশ করে শেখ সেলিম বলেন, ‘উনি বঙ্গবন্ধুকে বলেছেন, আপনি একটু বাসা থেকে বেরোয় যাইতে পারেন না। কত বড়…। বঙ্গবন্ধুকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আর্মির ভয়ে বাসা থেকে পালায় না, আর তাঁর বানানো আর্মি দেখে উনি পালায় যাবেন। ক্যান তুমি আসতে পারলা না?’

শেখ সেলিম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আর্মির ডেপুটি চিফ ছিল। সেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। এখন বিস্তারিত কিছু বলব না। জিয়াউর রহমান, শাফায়াত জামিল, খালেদ মোশাররফ কী করেছিল- এ প্রশ্নের জবাব একদিন দিতে হবে। এ জন্য একটা তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তারা কখনো ভালো থাকতে পারে নাই। বঙ্গবন্ধু সিঁড়ির ওপর পড়ে ছিল, জিয়াউর রহমানও সিঁড়ির ওপর পড়ে ছিল। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তার করুণ পরিণতি হতো না। খালেদ মোশাররফ ওই পথে চলে গেছে।’

মতামত